সু-বিবেচনাপ্রসূত সরকারি আয়-ব্যয় নীতি

‘গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন’ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে (২০১৮) সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচিনী ইশতেহারে নিম্নোক্ত বিষয়টি সন্নিবেশিত করার প্রস্তাব

সুবিবেচনাপ্রসূত সরকারি আয়ব্যয় নীতি

আয় নীতি ও ব্যবস্থাপনা

আমরা জানি যে, সরকারের আয় ও ব্যয় মাত্রাভেদে সকল নাগরিকের জীবন-জীবীকার ওপর প্রভাব ফেলে। সরকারের করনীতির ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশের কর ব্যবস্থার মৌল চরিত্র ‘অ-প্রগতিশীল’। মোট সংগৃহীত করের দুই তৃতীয়াংশই হলো ‘পরোক্ষ কর’। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সংগ্রহীত মোট করের মধ্যে পরোক্ষ করের পরিমাণ ৭০.০২ শতাংশ। এই পরোক্ষ করের মধ্যে কেবল মূল সংযোজন কর বা ভ্যাট’ই হলো ৫৫ শতাংশ। উল্লেখ্য যে, পরোক্ষ করের বোঝা সবসময়ই ভোক্তা বা সাধারণ মানুষকে বহন করতে হয়। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বেশি ‘কস্টলি’ হয়ে ওঠে। এই অধোগতিশীল বা ‘রিগ্রেসিভ’ কর ব্যবস্থা অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে কোনভাবেই মঙ্গল বয়ে আনে না। কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়ে যায়। কালো টাকার সৃষ্টি হয়, যা প্রকারান্তরে বিদেশে অর্থ পাচারকে উৎসাহিত করে। আমরা এই ‘অ-প্রগতিশীল’ কর ব্যবস্থার বিপরীতে ‘প্রত্যক্ষ কর’নির্ভর ‘প্রগতিশীল’ কর ব্যবস্থার প্রবর্তন চাই। এ ধরণের কর ব্যবস্থার মূল নীতি হবে- ‘এবিলিটি টু পে’ বা সামর্থ্য অনুযায়ী কর প্রদান। প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি- তাদের স্ব স্ব সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হারে প্রত্যক্ষ কর প্রদান করবে। সামর্থ্য নির্ভর করে আয় ও সম্পদের ওপর। যার যতো বেশি আয় ও সম্পদ- সে তত বেশি কর প্রদান করবে। এটি হবে রাজস্ব নীতি বা ‘ফিসক্যাল পলিসি’র একটি অন্যমত গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আমাদের অর্থনীতির আকার এখন অনেক বড়। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির পরিমাণ প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা। বিগত এক দশক ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটছে প্রায় ৬.৫ শতাংশ হারে। গত অর্থ বছরে এটা ৭.৫ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমাদের কর আহরণ ক্ষমতা অত্যন্ত নীচু। কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ১০.৩ শতাংশ অর্থাৎ জিডিপির মাত্র ১০ শতাংশ কর আকারে উত্তোলন করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এটা সবচেয়ে কম যা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের অর্থনীতি থেকে কর আহরণের যতেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এসক্যাপ জরিপে দেখা যায়- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কর-জিডিপি ‘গ্যাপ’ সবচেয়ে ওপরে- ৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামর্থ্য থাকলেও আমরা জিডিপির সাড়ে সাত শতাংশ কর তুলতে পারছি না। পাকিস্তানে এই গ্যাপ ১.৮ শতাংশ, এবং মালেয়শিয়াতে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশ। প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে ধনী লোকজন বৃদ্ধির হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এখানে ধন বৈষম্য প্রকট আকারে বাড়ছে। ফলে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, দেশে ধনাঢ্য ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তারা কোন না কোনভাবে কর প্রদান থেকে বিরত থাকছে বা কর ফাঁকি দিচ্ছে। শুধু ব্যক্তি নয় ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ কথা সমভাবে প্রযোজ্য। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ কর আহরণ করতে হবে। সম্পদের ওপর করারোপের বর্তমান বিধানকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানীর কর ফাঁকি রোধ করতে হবে। আমাদের বর্তমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর আহরনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কর রাজস্ব আহরণের হার ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপির ১৬.১ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটা অর্জন করতে হলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষতা বাড়াতে হবে। কর ফাঁকি রোধ ও কর আহরণের পরিমান বাড়াতে পারলে ঋণ গ্রহণের পরিমান কমানো সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশীয় ও অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ গড়ে জিডিপি’র ৫ শতাংশ। কাঙ্খিত হারে কর আহরণ করতে পারলে এই হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব।  সে ক্ষেত্রে  ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ কমে আসবে এবং সেই অর্থ অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। 

সৃবিবেচনাপ্রসূত ব্যয় ব্যস্থাপনা

অন্যদিকে করের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ  ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে আয়-এর যথাযথ ব্যবহার তথা বাজটের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যতেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। ‘পরিচালন ব্যয়’ ও ‘উন্নয়ন ব্যয়’ এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। ‘হুট-হাট’ করে ‘এডহক’ ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন করা বন্ধ করবে হবে। স্বল্প ও মধ্য-মেয়াদে আমাদের উন্নয়নের প্রায়োরিটি খাতসমূহ যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি খাতগুলোকে প্রায়োরিটি দিয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ করতে হবে। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে যতেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ-জনদুর্ভোগ ইত্যাদি বিবেচনায় বিকল্প প্রকল্পের অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ঢালাওভাবে সড়ক-ব্রীজ নির্মাণের বদলে যোগাযেগের জন্য রেল ও নৌপথ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নকে মূল বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির দিকটিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।

 বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপে চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ২৮ কোটি টাকা অথচ আমাদের দেশে সেটা ৫৯ কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ ব্যয় ১০ কোটি টাকা। আর চীনে তা গড়ে মাত্র ১৩ কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশে মহাসড়ক নির্মাণ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। তাছাড়া ভারত, চীন কিংবা মালেয়শিয়াতে প্রতি কিলোমিটার ফ্লাইওভার বানানোর খরচ ৮০-৯০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশে এই খরচ ১৩৫ থেকে ৩১৬ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি আমাদের আমাদের করের টাকার যথাযথ ব্যবহারকে প্রশ্নের মুখে এনে দাড় করিয়ে দিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের প্রদেয় করের টাকা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, কতো বিচক্ষণতার সাথে ও মিতব্যয়িতার সাথে ব্যবহার হচ্ছে- তা জানার অধিকার সকলেরই আছে। এটা ভালো ভাবে ব্যয় না হলে, মানুষ করদিতে উৎসাহ বোধ করে না, কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়ে। কারণ মানুষ তার প্রদেয় করের সাথে সরবরাহকৃত ‘সেবা’র অনুপাতটা বুঝতে চায়। ফলে, বিচক্ষণ ব্যয় ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হবে- ‘কর-সেবা’র অনুপাত । এটা মূলত: করের টাকার যথাযথ ও প্রুডেন্ট ব্যবহারের সাথে যুক্ত।   

জন অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রস্তাব

সরকারের আয় ও ব্যয় তথা জাতীয় বাজেট শুধু টাকা পয়সার হিসাব সংক্রান্ত ‘ব্যালান্সসীট’ নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিলও বটে যেখানে সামগ্রিক উন্নয়ন-অগ্রগমনের দর্শন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনা সন্নিবেশিত হয়। লক্ষণীয় যে, প্রতি বছর এরকম একটি গুরুত্বপর্ণ দলিল প্রণীত হচ্ছে অথচ এ ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও খুব বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সম্পদের ব্যবহার বা বাজেটে ব্যয় বরাদ্দের ধারা নিয়ে নির্বাচিত  জন-প্রতিনিধিদেরও তেমন কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। প্রথমত: জাতীয় বাজেট প্রণয়নে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রনিধিদের কোন সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত: সাংবিধানিকভাবে সংসদসদস্যগণ বাজেট অনুমোদন করে থাকেন। কিন্তু বাজেটের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদসদস্যগণ কোন কথা বলতে পারেন না। সাংবিধানিক কিছু নিয়ম-নীতি ও সংসদীয় কার্যপ্রণালীবিধির কারণে বাজেটের কোন বিশেষ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি প্রস্তাব পেশ বা সংসদীয় কমিটিগুলিতে বাজেট নিয়ে আলাপ-আলোচনার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির ১১২ (১) ধারা বলে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলিতে কোন ধরণের আলোচনার সুযোগকে রহিত করা হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধান ও কার্যপ্রণালীবিধিতে একমাত্র অর্থমন্ত্রীকেই বাজেট প্রণয়নের একছত্র ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যমান এসব বিধি-বিধান পরিবর্তন না করলে, বাজেট নিয়ে সংসদসদস্যগণ কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না। ফলে পরোক্ষভাবে নাগরিকদের অংশগ্রহণের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে।

আমরা মনে করি, বাজেট প্রণয়ন ও বান্তবায়ন পদ্ধতি পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। যেখানে সকল নাগকির ও সকল স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হলো- জাতীয় বাজেট প্রণয়নে স্থানীয় সরকারগুলিকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে স্থানীয় সরকারগুলির মাধ্যমে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। নীচ থেকে উঠে আসা এসব উন্নয়ন চাহিদা ও প্রায়োরিটিগুলির সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনাকে সমন্বয় করে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে যে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্থানীয় সরকারগুলিকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটাতে হবে।

আমাদের সুস্পষ্ট কথা

আমরা উন্নয়ন-অগ্রগমন চাই। তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে জন-সম্পৃক্ততার ভেতর দিয়ে। মনে রাখা দরকার যে, উন্নয়ন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়নের যে ‘রাজনীতি’ তার পেছনে আছে জনগণের করের টাকা। জনগণ তার কষ্টার্যিত অর্থের একটি অংশ ‘কর’ আকারে সরকারকে দিচ্ছে। সেই টাকার বিনিময়ে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কী দিচ্ছে; এবং যা দিচ্ছে তা গুনে-মানে ভালো কিনা; তার ‘দাম’ ঠিক আছে কিনা- এসব জিনিস নিয়ে আমাদের গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু ‘ধন-বৈষম্য’ বাড়ছে। এই বৈষম্য কমাতে রাজস্ব নীতি অর্থাৎ সরকারের আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সু-বিবেচনা বা বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। করারোপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও এর ব্যবহারে আরো বেশি ‘প্রুডেন্ট’ বা বিচক্ষণ হতে হবে। এটা সরকারের কাজ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ। এ কাজে কার্যকর জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ‘উন্নয়ন’ নিয়ে মাতোয়ারা হলে চলবে না। কতো টাকা দিয়ে কতটুকু উন্নয়ন হচ্ছে, এর চেয়ে কম টাকায় সেটুকু উন্নয়ন করা যেত কিনা- এসব ভাবনার দরকার আছে। এটা কেবল সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। করদাতা হিসেবে সাধারণ নাগকিরদেরও দায়িত্ব আছে। অর্থ ও সম্পদ যথাযথ ভাবে বা প্রুডেন্টলি ব্যয় হচ্ছে কিনা- সেটা দেখা দরকার। যে কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এটা একটা মৌলিক দিক। এর মাধ্যমেই ‘উন্নয়নের রাজনীতি’কে নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আমরা আশাকরি, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্ব স্ব নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়গুলি নিয়ে একটি আলাদা ‘চ্যাপ্টার’-এ তাদের সুচিন্তিত মতামত হাজির করবেন। এর ফলে স্পষ্ট হবে, কোন্ রাজনৈতিক দল কী ধরণের বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব হাজির করছেন। আমাদের প্রত্যাশা যে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের প্রস্তাবিত নিম্নলিখিত ইসূগুলিকে গভীরভাবে বিবেচনায় নেবেন:

  • পরোক্ষ কর বিশেষ করে ভ্যাট-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ আয়কর বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রত্যক্ষ কর আহরণের মূল নীতিগত ভিত্তি হবে- ‘এবিলিটি টু পে’ বা ‘সামর্থের নীতি’
  • বিদ্যমান কর সংক্রান্ত আইন কানুন পর্যালোচনা সাপেক্ষে এ গুলিকে যুগোপযোগী করতে হবে
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামর্থ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে; কর আহরণ ও ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটাতে হবে
  • রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি রোধ করতে হবে
  • অর্থনীতির সামর্থের আঙ্গিকে কর আহরণের পরিমান বাড়াতে হবে। আগামী ৫ বছরে কর-জিডিপি’র অনুপাত কমপক্ষে ১৮ তে উন্নীত করতে হবে
  • করের টাকার ব্যবহারে যথেষ্ট বিচক্ষণতা ও মিতব্যয়িতার পরিচয় দিতে হবে
  • অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প, এডহক প্রকল্প গ্রহণ, থোক বরাদ্দের পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। ‘সাবসিডি’র টাকা বরাদ্দে বিচক্ষণতা ও ব্যবহারে যত্নবান হবে হবে।
  • প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির রাশ টেনে ধরতে হবে। অপ্রয়োজনীয় দেশি-বিদেশী কনসালটেন্সির জন্য বরাদ্দ কমাতে হবে।
  • নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে কঠোরভাবে পরিবেশ-প্রতিবেশের বিষয়গুলি বিবেচনায় নিতে হবে
  • বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জন-সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় সরকারের কার্যকর ভূমিকাকে জোরদার করতে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে হবে
  • সংবিধান ও ‘সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি’তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বাজেট আলোচনা ও অনুমোদনে সংসদসদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে
  • বিদ্যমান মন্ত্রণালয় নির্ভর আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির বিপরীতে সাধারণ জনগণ ও সকল স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততায় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নতুন কাঠামো ও প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে হবে