জন-বাজেট ঘোষণা ২০১৭

People’s Budget Declaration 2017

২৪ মে, ২০১৭। ঢাকা

জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি এবং গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে ও ১৯ টি জাতীয় পর্যায়ের নাগরিক ও পেশাজীবি সংগঠনের সহ-আয়োজনে তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত জন-বাজেট সংসদে অংশগ্রহণকারীগণ জাতীয় বাজেটে সাধারণের তথা করদাতাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেট বিকেন্দ্রীকরণের দাবি পূনর্ব্যক্ত করে বাজেটে জনকল্যাণমূলক ও কর্মসংস্থান খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির জোর সুপারিশ করে। অংশগ্রহণকারীগণ মনে করেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে রোল মডেল হতে পারে। এজন্য সকল শ্রেণী-পেশা-জনগোষ্ঠী-প্রজন্ম ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে দূরদর্শীমূলক পরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজন, তা না হলে সনাতন বাজেট কাঠামো ও উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নের বদলে উন্নয়নবৈষম্য বাড়বে। ফলত: ’বাদ যাবে না কেউ’ -টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের এই ভাবধারা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২০,০০০ কোটি টাকা। জন-বাজেট সংসদ পুনর্বন্টনমূলক ন্যায্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকারমূলখ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয়ের গুণগত মান ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।

সার্বিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন বাজেটসহ জাতীয় পরিকল্পনায় অংশভাগিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ কাঠামো এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়গুলি বিস্তারিত পরিসরে আলোচনায় আনার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি যৌথভাবে আজ ২৪ মে, ২০১৭ (বুধবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জন-বাজেট সংসদ ২০১৭ আয়োজন করেছে। জন-বাজেট সংসদ মূলত: আঞ্চলিক বাজেট শুনানী এবং গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন জেলা কমিটির বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের একটি সম্মিলিত চূড়ান্ত রুপ। দিনব্যাপী ছায়া-বাজেট সংসদের বিভিন্ন অধিবেশনের মধ্যদিয়ে দেশের ৪০টিরও অধিক জেলা থেকে আগত বিভিন্ন পেশা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের আলোচনাক্রমে যেসকল সুপারিশ ও দাবি উঠে এসেছে সরকারের কাছে অগ্রাধিকারভিত্তিক নি¤œবর্ণিত দাবি পেশ করা হলো।

কাঠামোগত সংস্কারের দাবি:

  • জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার জন্য সময় বাড়ানো জন্য প্রয়োজনীয় আইন/বিধি প্রণয়ন করা;
  • সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি’তে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে প্রস্তাবিত বাজেট সংম্লিষ্ট সংসদীয় স্ট্যাডিং কমিটিতে প্রেরণ করা, যাতে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলি সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সংসদে তাদের প্রস্তাব পেশ করতে পারে।
  • স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সাথে বাজেট পেশের আগে ও পরে আলোচনা করে মতামত সংগ্রহ করতে পাওে;
  • পর্যায়ক্রমে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বাজেট অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদের/সংসদসদস্যগণের কার্যকরী ভূমিকা নিশ্চিত করা;
  • স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত জাতীয় বাজেট প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নে তাদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা;
  • পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বটম-আপ’ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে কার্যকরভাবে যুক্ত করা;
  • যেসব কাজ স্থানীয় পর্যায়ে সমাধা করা সম্ভব সেসব কাজের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে দয়িত্ব দেযা এবং সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ বা ‘ট্যাক্স-শেয়ারিং’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা;
  • ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার পরিধি কমিয়ে এনে স্থানীয় সরকারগুলিকে কার্যগত ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা;
  • বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের গুনগতদিক পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি তৈরি করতে হবে;
  • বাজেট অর্থ বছর জুলাই-জুন এর পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ করতে হবে;
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে কর না বাড়িয়ে করের আওতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং কর আদায়ের ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে;
  • ২৫ শতাংশ ভূমি রেজিস্ট্রেশন কর ইউনিয়ন পরিষদকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে;
  • কর প্রদানের আইনগত চটিলতা নিরসন কওে এ প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে হবে;
  • ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদের পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে করারোপ করতে হবে;
  • একটি স্থানীয় সরকার কমিশন তৈরি করতে হবে, যাতে স্থানীয় সরকারের জন্য বাজেট পর্যালোচনা ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সুপারিশ করতে পারে;
  • বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে;
  • জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে রাজন্ব গ্রহন ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করতে হবে;
  • ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল এক জন মানুষ ও জাতীয় পরিকল্পনার বাইরে যাবে না। সেদিক থেকে লক্ষ্য করলে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক করতে হলে দেশের সকল জনগণকে বাজেটের আওতায় আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া যে ধারা অনুসরন করে সেটি কোন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয় কারন সমগ্র বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াতে সরকারের আমলা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্যতিত আর কোন এম পি র স¤পৃক্ততা থাকে না এমনকি জনগনের ও স¤পৃক্ততা থাকে না। এটি স¤পূর্ণ ভাবে একটি কেন্দ্র নির্ভর বাজেট। গনতান্ত্রিক বাজেট করতে হলে ভৌগোলিক চাহিদার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা গুলোকেও বিবেচনায় আনতে হবে। কারন যে করের বোঝা জনগণ বহন করছে সেটা রাজস্ব বাজেটে প্রতিফলিত হলেও জনগণ এই করের বিপরীতে কোন প্রত্যক্ষ সুবিধা পায় না।

খাতভিত্তিক দাবি:

শিক্ষা:

  • জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজি-৪ বিবেচনায় একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা।
  • ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ন্যূনতম ১৮% বরাদ্দসহ ক্রমান্বয়ে ১%-২% বৃদ্ধি করে ২০%-উন্নীত করতে হবে। একই সাথে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
  • জাতীয় বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যে “শিক্ষা সেস” (ঊফঁপধঃরড়হ ঈবংং) প্রবর্তন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে “শিক্ষা তহবিল” গঠন করা যেতে পারে। এছাড়া কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করের আওতা বৃদ্ধিসহ কর-কাঠামো যথাযথভাবে সাজানো প্রযোজন।
  • ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং আয় ও সম্পদ বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বরাদ্দ দেওয়া।
  • বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত ছিটমহলে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনসহ অধিক শিক্ষার্থীর স্থানসংকুলানের জন্য বাড়তি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া।
  • শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট এবং তাদের পেশাজীবিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি, চারবছর মেয়াদী কোর্স প্রচলন, শিক্ষকদের জন্য যুগোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়োগের পূর্বে তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা।
  • আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বয়স্ক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার জন্য “শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ” (ঝবপড়হফ ঈযধহপব ঊফঁপধঃরড়হ) কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
  • উৎধভঃ ঝপযড়ড়ষ ঋববফরহম চড়ষরপু অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল বিশেষ করে চর, হাওর, চা বাগান, পার্বত্য ও আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল এবং নগরীর বস্তি এলাকার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা।
  • সকল ধরণের প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাসহ তাদের উপযোগী প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা উপকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা।
  • ২০০৪ সাল থেকে প্রবর্তিত উপবৃত্তির টাকার পরিমান মাথাপিছু ১০০ থেকে বৃদ্ধি করে কমপক্ষে ২৫০ টাকায় উন্নীত করা।
  • শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রায়ন করার লক্ষ্যে সুসমন্বয়, ক্ষমতা অর্পন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং যথাযথ পরিবীক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে গতি সঞ্চার এখন সময়ের দাবী, এজন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।
  • প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা উপকরনের মান বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে;
  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি সাধারণ স্কুলে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে;
  • পার্বত্য এলাকার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে;

স্বাস্থ্য:

  • বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রণয়নে কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে হবে। জেলা পর্যায়ের সমন্বয় ও স্থানীয় চাহিদার আলোকে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে;
  • স্বাস্থ্যখাতে সকল শূন্যপদ অনতিবিলম্বে পূরণ করতে হবে। প্রত্যন্ত ও পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার দিকে সরকারের নজর দিতে হবে। চরাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রিভার এম্বুলেন্স’ প্রদান করতে হবে;
  • স্বাস্থ্য বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থের অসমতা দূর করতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। সারাদেশে দক্ষ চিকিৎসকের সুষম বন্টন এবং অধিক সংখ্যক নার্স তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
  • চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; এর সাথে সাথে স্বাস্থ্যখাতের সকল প্রকার অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করতে হবে। ওষুধ শিল্পের মান ও মূল্য উভয়ই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে;
  • স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে লোকজ জ্ঞান ও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ও উৎকর্ষ সাধনে যথাযথ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে;
  • কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সকল স্বাস্থ্য কর্মীর ফিজিওথেরাপি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে;
  • সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে প্রতিটি হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা সচল ও নিয়মিত করতে হবে;
  • ব্যক্তি পর্যায় ও সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয়ের অসমতা দুর করতে হবে;
  • টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে এবং সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বাস্তবসম্মত পথ নির্দেশিকা ঘোষণা করা এবং সম্ভব হলে সকলের জন্য সরকারিভাবে স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

 

  • কৃষি:
  • জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে মাটির স্থায়িত্বশীল উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধিসহ জলবায়ু সহিঞ্চু স্থায়িত্বশীল কৃষি (ঈষরসধঃব জবংরষরবহঃ ঝঁংঃধরহধনষব অমৎরপঁষঃঁৎব-ঈজঝঅ) চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জলবায়ুসহিঞ্চু স্থায়িত্বশীল কৃষিচর্চার কৌশল ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাখাতে বরাদ্দ রাখতে হবে।
  • কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য চলমান উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা সম্বলিত কৃষকদের ‘উৎপাদন ও বিপণন সমবায়’ গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃত কৃষক সমবায়ের মালিকানায় এসএমই আকারে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও হিমাগার স্থাপন করতে হবে। “শস্য গুদাম ঋণ প্রকল্প”কে পুনরুজ্জীবিত করে ‘শস্য সংরক্ষণ ঋণ’ চালু করতে হবে। পাশাপাশি, কৃষিপণ্যের আগাম মূল্য নির্ধারণে সরকার-উৎপাদক-ভোক্তা সমন্বয়ে মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে।
  • ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য সুদবিহীন বা স্বল্পসুদে মৌসুমভিত্তিক কৃষিঋণ সহজলভ্য করতে হবে এবং নারী কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ঋণসহ সকল সরকারি সেবা ও প্রণোদনায় নারী কৃষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; এবং তারজন্য বাজেটে নির্দেশনা রাখতে হবে।
  • বর্গাচাষী, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য সরকারি সুবিধা ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত “লাঙ্গল যার জমি তার” নীতির ভিত্তিতে দেশের ভূমি মালিকানা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। এজন্য “ভূমি ব্যাংক” ব্যবস্থা চালু করে অনুপস্থিত ভূমিমালিকদের কাছ থেকে জমি “ভূমি ব্যাংকে” জমা নিয়ে তা প্রকৃত কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি, ভূমি জরিপ আধূনিকীকরণ ও ডিজিটাইজেশন, ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও ভূমি সংস্কারে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • দেশের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে এবং নদীর পানিভিত্তিক সেচ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। পাশাপাশি, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়সহ সকল সকল জলাশয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত “জাল যার জলা তার” নীতির আশু বাস্তবায়ন করতে হবে।
  • দেশীয় গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া এবং হাস-মুরগির বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনে সরকারি সেবা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বিদ্যমান পোল্ট্রি শিল্প ও প্রাণী সম্পদখাত উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • সার, বীজ, সেচ কাজে ভর্তুকি প্রদানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল স্থায়িত্বশীল কৃষি প্রযুক্তি তথা জৈব সার, বালাইনাশক, আইপিএম-এর মত জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিতে হবে এবং এই ভর্তুকির সুবিধা যাতে সরাসরি নারী কৃষকসহ প্রকৃত কৃষকরা পায় তার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। নারী কৃষিশ্রমিককের জন্য রাষ্ট্রীয় সেবা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৃষি নীতিমালায় নারী কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদান সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে এবং নারীবান্ধব কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে।
  • খাদ্যশস্য পুড়িয়ে বায়োফুয়েল উৎপাদনের আতœঘাতি সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
  • কৃষকদের সংগঠন তৈরির মাধ্যমে কৃষি ফসল অঞ্চলভিত্তিক বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি বাজারসমূহ কৃষকের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং কৃষক সংগঠনের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক বাজারে উচ্চমূল্যে ফসল রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে।
  • সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ডিলারের কাছে কৃষকেরা যাতে সরাসরি ধান বা কৃষি সমবায়গুলো তাদের প্রক্রিয়াজাতকৃত চাল বিক্রি করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং ধানের দাম সরাসরি কৃষকের বা কৃষক সমবায়ের ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফার করতে হবে।
  • জাটকা মাছ নিধন রোধসহ সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের দুর্যোগজনিত পুনর্বাসন কর্মসূচিতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। হাওড়-বাওড়, বিল অঞ্চলে পরিকল্পিত মৎস্য চাষে উৎসাহিত করতে মৎসজীবীদের প্রণোদনা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ইজারাকৃত মরা নদী ও বিলের পানি শুকিয়ে মাছ আহরণের ফলে ধীরে ধীরে মা মাছ ধ্বংস করে ফেলার প্রবণতা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
  • শুধু বীজ নয়, সকল প্রকার কৃষি উপকরণের বাণিজ্য একচেটিয়াভাবে মুনাফালোভী কোম্পানির হাতে ছেড়ে না দিয়ে বৃহদাংশ বিএডিসির হাতে রাখার জন্য সংস্থাটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে; এ জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান করতে হবে;
  • মেধাপাচার রোধ করে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য কৃষিগবেষণা ও কৃষিশিক্ষায় বরাদ্ধ বৃদ্ধি করতে হবে;
  • যে কোনো ধরণের দুর্যোগের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য ক্ষুদ্র কৃষকদের শস্য বীমার আওতায় আনতে হবে;
  • হাওরের দুর্গত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রষকদের কৃষি লোন মওকুফ করতে হবে;
  • মহা-হাওড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে,প্রয়োজনে জলবায়ু ফান্ড থেকে বরাদ্দ দিতে হবে,যাতে হাওড়ের নদী খনন প্রকল্প ও হাওড় রক্ষা বাঁধে বিনিয়োগ করতে হবে;

 

শ্রম:

  • জাতীয় মজুরি কমিশন/নিম্নতম মজুরী বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ ও পূনর্গঠনে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা;
  • শ্রমজীবী নারী-পুরুষের আয়-সমতা আনয়নে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ;
  • শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ইনস্টিটিউট স্থাপন যা পরবতীতে স্থায়ী রূপ দান;
  • শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ;
  • বেসরকারি খাতের শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ;
  • শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও অন্যান্য বিষয়গুলো সরাসরি বাজেটে রাখার ব্যবস্থা করা;
  • লেদার সেক্টরের জন্য একটা ন্যূনতম মজুরি আছে কিন্তুতা কার্যকরি নয়, এটি কার্যকর করা;
  • জাতীয় পেনশন স্কিম প্রণয়নের মধ্য দিয়ে সকল শ্রমিকের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করা;
  • শ্রমিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেক্টর ও কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদাণের লক্ষ্যে (ক) প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, (খ) জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ব্যয়, এবং (গ) গবেষণা কার্য পরিচালনায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ;
  • নারী কৃষি শ্রমিকের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান। মৌসুমে স্থানান্তরিত শ্রমিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে কৃষক শ্রমিকের বিধিবিধান তৈরি ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
  • পল্লী কর্মসংস্থান তহবিল (জঁৎধষ ঊসঢ়ষড়ুসবহঃ এঁধৎধহঃবব ঋঁহফ) গঠন এবং কৃষিশ্রমিকদের জন্য ‘উপজেলা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কার্যালয় স্থাপন ও কল্যাণ তহবিল (ঞযব অমৎরপঁষঃঁৎব ডড়ৎশবৎং ডবষভধৎব ঋঁহফ) সৃষ্টি ও আইন প্রণয়ন করা;
  • কৃষকশ্রমিকদের সমবায়ের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণের এবং কৃষি উপকরণ সমবায়ের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা;
  • শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণের যথাযথ নীতিমালা তৈরি এবং কার্যকর করা;
  • রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোকে আবার চালু করে সেগুলোকে আধুনিক করা;
  • দুর্যোগকালীন সময়ে বা কোন দূর্ঘটনা হলে শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ রাখা।

দলিত:

  • সরকারি সকল নীতিমালায় দলিত ও বঞ্চিত সম্প্রদায়কে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে;
  • দেশে দলিত জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য আদমশুমারীতে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে গননা করতে হবে। যাতে করে এই জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়;
  • সংখ্যানুপাতের ভিত্তিতে উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে। দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে;
  • বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম দলিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বৃদ্ধিমূলক কাজে সহায়তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে;
  • শিক্ষায় সরকারি নিয়োগে দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোটা চালু করতে হবে;
  • প্রকৃত দলিতরাই যাতে বাজেটের বরাদ্দকৃত সুবিধা পায় সে জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করা এবং একটি মনিটরিং-এর ব্যবস্থা গতে তুলতে হবে;
  • বিভিন্ন সরকারি সেবায় উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সে কমিটিতে স্থানীয় দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখতে হবে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও স¤পৃক্ত করা যেতে পারে;
  • শহরাঞ্চলে বিভিন্ন দলিত ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা দাবি করছি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে যাদের কাজ আছে, কি নাই, এটা বিবেচনায় না নিয়ে সকলকে আবাসন বরাদ্দ দিতে হবে। কারণ দলিতদের সকলের চাকুরীর নিশ্চয়তা নাই এবং অস্পৃশ্যতার কারণে কলোনীর বাইরে তাদের বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়;
  • রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে; এবং
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কলোনির সকল বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কাজের নিশ্চয়তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।

জেন্ডার:

  • সংখ্যাতাত্তিকের পাশাপাশি গুণগত বিশ্লেষণ: জাতীয় বাজেটে জেন্ডার বাজেটিং করনের জন্য যে ৩টি বিশ্লেষণ পদ্ধতি রয়েছে তার সংখ্যাতাত্তিক বিশ্লেষনের পাশাপাশি গুণগত বিশ্লেষন করার জন্য পরিমাপক নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষত জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনে, সংখ্যাতাত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বরাদ্দ দেখানোর পাশাপাশি সেই বরাদ্দকৃত বাজেট আসলে নারীর কোন স্ট্র্যাটেজিক জেন্ডার চাহিদা পূরণ করছে এবং তার অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন মেয়াদী সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য প্রদান: যেহেতু জেন্ডার বাজেটিং এর দর্শন
    নারীর ক্ষমতায়ন পূর্ণাঙ্গ রূপে নিশ্চিত করা, তাই এর জন্য প্রয়োজন সাপেক্ষে স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও তার অগ্রগতির বিষয় বাজেটে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে।
  • জেন্ডার বাজেট মনিটরিং ও অডিটিং করা: জেন্ডার বাজেটিং এ প্রতি কর্মসূচির জন্য মনিটরিং এবং বড় প্রজেক্টের জন্য অডিটিং এর ব্যবস্থা এবং তার অগ্রগতির বিষয় বাজেটিং প্রক্রিয়ায় উল্লেখ থাকতে হবে।
  • নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণে জেন্ডার বাজেটিং: নারীর পূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় সরকার পর্যায় থেকেই। জেন্ডার বাজেটিং প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ শুধু কাগজে-কলমে ও সংখ্যায় নয়, বরং সক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
    ৫. নারীর প্রতি নীতিমালার আলোকে অগ্রগতি দেখানো: জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়নে যে কয়টি নীতিমালা সরকারের কাছে আছে তার প্রতিটির সাপেক্ষে কী কী অগ্রগতি প্রতি বছর হচ্ছে তা বাজেটে দেখাতে হবে।
    এছাড়াও যে বিষয়গুলো বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে-
  • সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। যেমন বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক সংজ্ঞায়ন এবং নারীর অবস্থানভেদে যে অভিজ্ঞতা ও তাদের মূলধারায় আনতে না পারার যে ঘাটতি আছে তা বিবেচনায় আনতে হবে;
  • যৌনকর্মী, হিজড়া, রুপান্তরকামীদের মতো সমাজের অবহেলিতদের মূল ¯্রােতধারায় নিয়ে আসতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকতে হবে।
  • সরকারি পরিসংখ্যানে নারীর অমূল্যায়িত শ্রমকে অন্তর্ভুক্তি করার লক্ষ্যে বিআইডিএস, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ইত্যাদি সংগঠনে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে এবং এ জন্য বাজেটের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
    আদিবাসী:
  • পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে হবে;
  • পার্বত্য এলাকায় খাদ্য ও সুপেয় পানি সংকট নিরসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে;
  • পার্বত্য এলাকায় পানি সংকট নিরসনের জন্য বিশেষ পানি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি উন্নয়ন করতে হবে;
  • সকল মন্ত্রণালয়ের/বিভাগের বাজেটে আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে এবং বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে আদিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য খাতভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে;
  • জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য পৃথক অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করতে হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করে বাজেট বরাদ্দ সংখ্যার ভিত্তিতে বৃদ্ধি করতে হবে;
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদসমূহের বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১-এর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে;
  • বাজেট বরাদ্দ সাধারণত হয় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক। সমতলের আদিবাসীদের বিষয়টি দেখার জন্য যেহেতু কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই থোক বরাদ্দ পরিচালনার জন্য সমতলের আদিবাসীদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসীর বাস সমতলে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সঠিকভাবে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে;
  • আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমীগুলোতে আদিবাসী সংস্কৃতি উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু নাচ-গান নয়, গবেষণার দিকে মনযোগী হতে হবে এবং এ খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমীগুলোতে আদিবাসী সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে;
  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সামাজিক ক্ষমতায়নের বাজেট খাতে আদিবাসী উপকারভোগী যাতে নিশ্চিত হয়, তার জন্য এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরী শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী ও তরুণদের আত্ম-কর্ম সংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে।