জাতীয় বাজেট ও স্বাস্থ্যখাত ২০১৭

স্বাস্থ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার এবং সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত মানব উন্নয়নের সূচক। আলমা আটা ঘোষণায় ২০০০ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য এর কথা বলা হয়েছিল। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ৬৪তম বিশ্ব স্বাস্থ্য এসেম্বিলিতে ২০৩২ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এছাড়া জাতিসংঘ গৃহীত টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।টেকশইউন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৩য় লক্ষ্যে সকল বয়সের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও সবার জন্য স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হযেছে।উচ্চবিত্ত-নি¤œবিত্তসহ সকলের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি বরাদ্দের ঘাটতি, ব্যক্তি পর্যায়ে অত্যাধিক ব্যয়, সুশাসনের অভাব, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে গ্রাম-শহর, ধনী-দরিদ্র অসম সুযোগ ও বঞ্চনা সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট ও এর বিন্যাসে আঞ্চলিক বৈষম্য; রয়েছে অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, জবাবদিহিতা ও ব্যবস্থাপনার সংকট।

জাতীয় বাজেটে অবহেলিত স্বাস্থ্যখাত:
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ টাকার অঙ্কে বাড়লেও মোট বাজেট ও জিডিপি’র অনুপাতে সেই পরিমাণ নিতান্তই হতাশাব্যঞ্জক। গত কয়েকবছর ধরে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেটের তুলনায় ও জিডিপি’র শতকরা হারে কমছে বা একই রকম রয়েছে।

লেখচিত্র ১: স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় ব্যয় (মোট বাজেট ও জিডিপি’র শতকরা হার )

তথ্যসূত্র ঃ বাজেটের সংক্ষিপ্তসার (বিভিন্ন বছর), অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে ২০০৯ সালে, ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯-১০ সালে যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছিল তাতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৬.২ শতাংশ এবং জিডিপির ০.৯ শতাংশ আর সেখানে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল ৪.৭১ শতাংশ যা মোট বাজেটের ১.৪৯ শতাংশ কম। কাজেই বাজেটের আকার বাড়লেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ সে অনুপাতে বাড়েনি। আবার যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি মানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালাতে হলে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপি’র ৫ শতাংশ হওয়া উচিত সেখানে বাংলাদেশে প্রায় এক যুগ ধরে এই স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাতের তুলনায় এটা অবাস্তবায়নযোগ্য মনে হলেও বরাদ্দের স্বল্পতা একটা উদ্বেগের বিষয়।

তাছাড়া স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়নমূলক ব্যয়ের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য (লেখচিত্র ২)। বিগত অর্থবছরের তুলনায়২০১৬-১৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে ৪,১৬১ কোটি টাকা সেখানে উন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে মাত্র ৯০৩ কোটি টাকা। সর্বসাকুল্যে দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যখাতে মোট বরাদ্দ ১৭,৪৮৬ কোটি টাকা সেক্ষেত্রে মাথাপিছু বরাদ্দ পড়ে প্রায় ১০৯৩ টাকা।

লেখচিত্র ২: স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের গতিপ্রকৃতি (কোটি টাকা)


তথ্যসূত্র: বাজেটের সংক্ষিপ্তসার (বিভিন্ন বছর ), অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যয় – সর্বনি¤œ মাথাপিছু স্বাস্থ্যব্যয় এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় সর্বোচ্চ
আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বাংলাদেশে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় (সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত) সর্বনি¤œ পর্যায়ে রয়েছে, ২৭ ইউএস ডলার, যেখানে ভারতে ৬১ ইউএস ডলার এবং মালয়েশিয়ায় ৪১০ ইউএস ডলার । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য এই খাতে ব্যয় ৪০ মার্কিন ডলার হওয়া আবশ্যক। স্বাস্থ্যখাতে ন্যূনতম ব্যয়ের চেয়েও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল এ দেশগুলোর মধ্যে মোট স্বাস্থ্যব্যয়ে সরকারি ব্যয় বাংলাদেশে সবচেয়ে কম (২৩%), যেখানে ভারতে ৩৩% এবং নেপালে ৪০%। অপরদিকে স্বাস্থ্যখাতে ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ (৬৩.৩%) যেখানে ভারতে ৫৭.৩% এবং নেপালে ৪৯.২%।

লেখচিত্র ৩: মোট চিকিৎসা ব্যয়ের বিভিন্ন অংশ

তথ্যসূত্র:Î:Bangladesh National Health Accounts 1997-2012, Ministry of Health and Family Welfare, Gov. of Bangladesh

বাংলদেশে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি স্বাস্থ্য সেবায় জবাবদিহিতা ও আস্থার সংকট রয়েছে; অপরদিকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের রয়েছে অতিমুনাফা লাভের প্রবণতা। সর্বোপরি সরকারি ও বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও নজরদারির অভাব-এর ফলে স্বাস্থ্যসেবায় বিকলাঙ্গতা বিরাজ করছে। ফলে সামর্থবানেরা বিদেশে, মধ্যবিত্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং গরিবরা বাধ্য হয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছে। এ অবস্থা সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত: জনবল সংকট ও অসমতা ও দুরাবস্থা
বাংলাদেশে একদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাপকাঠি অনুযায়ী একদিকে জনসংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাব রয়েছে অপরদিকে এ জনবলের মধ্যে রয়েছে আনুপাতিকভাবে ভারসাম্যের অভাব; রয়েছে অদক্ষতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি ১০,০০০ জনে স্বাস্থ্যকর্মী থাকা প্রয়োজন কমপক্ষে ২৩ জন, বাংলাদেশে সেখানে রয়েছে মাত্র ৫.৮ জন। যেখানে চিকিৎসক নার্সের অনুপাত হবে ১:৩; বাংলাদেশে চিকিৎসক নার্সের অনুপাতিক হার ০.৬। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের ৯৪% অদক্ষ। চিকিৎসক তৈরির সব প্রতিষ্ঠান মানসম্মত নয়। সেই সাথে রয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শূন্য পদ পূরণে বিলম্ব। এখনও সারাদেশে প্রায় সাত থেকে আট হাজার শূন্য পদ রয়েছে। দেশে বর্তমানে গ্রাম পর্যায়ে ৪৫০০ ধাত্রী নিযুক্ত রয়েছে যা মাত্র ১ % মাতৃসুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এর সাথে রয়েছে বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট ও এর বিন্যাসে বৈষম্য। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহে পদশূন্য থাকার ফলে ঢাকার বাইরের জেলাসমূহে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

লেখচিত্র ৪: প্রতি ১০০০০ জনে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা

সুত্র: HRH data sheet, MoHFW, GoB, 2014

অপরদিকে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দে যেসকল জেলাসমূহে দারিদ্র্যের মাত্রা বেশি সেসব জেলা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের এখনো পিছিয়ে আছে। যেসব জেলায় ধনী মানুষের বসতি বেশি সেসব জেলায় সরকারি ব্যয়ও বেশি। মোট স্বাস্থ্য বাজেটের ৪১ শতাংশ ব্যয় হয় ঢাকা জেলায় এবং চট্টগ্রাম জেলায় ব্যয় ১৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম ব্যয় হয় সিলেট ও বরিশাল বিভাগে মাত্র ৪ ও ৫ শতাংশ যথাক্রমে । এটি একদিকে যেমন দুর্বল সরকারি ব্যবস্থাপনাকে নির্দেশ করে অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির চিত্রকেও তুলে ধরে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের দুরাবস্থা
সরকার একদিকে যেমন সরকারি হাসপাতালের দক্ষতা বাড়াতে পারছে না, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বাবদ ব্যয়। সরকারি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি অব অ্যাবডোমেন করতে খরচ পড়ে ৪৫০ টাকা আর বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়গোনস্টিক সেন্টারে নেয় ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা। রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করতে যেখানে সরকারি হাসপাতালে নেয় ৫০ টাকা সেখানে বেসরকারিতে নেয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এর পাশাপাশি ওষুধ কোম্পানির সিন্ডিকেট ভাঙ্গার অক্ষমতা ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকার নিজ মুখেই স্বীকার করেছে।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাত ও স্থায়িত্বশীর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৩য় লক্ষ্যটিতে সকল বয়সের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আর এটিকে মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেশ কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যা পূরণ হয় বাজেটের অর্থ বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে (লেখচিত্র ০৫)।

লেখচিত্র ৫- স্বাস্থ্যখাতের টেকসই পদক্ষেপ

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্বের উপর ৪৫% কর আরোপের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সরকার তামাক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পেরেছে। অন্যদিকে ৫ বছর কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার হ্রাসকরণে সরকার সাফল্য অর্জণ করলেও নবজাতকের মৃত্যুসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি, নিশ্চিত হয়নি গ্রামীণ ও কর্মজীবী নারীদের মাতৃ সুরক্ষার বিষয়টিও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন রিপোর্টিং এর আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্য বাতায়ন এর মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান কার্যক্রম শুরু হলেও চিকিৎসা সেবার গুনগত মান নিশ্চিত হয়নি, সেই সাথে রয়েছে দক্ষ চিকিৎসকের অপ্রতুলতা। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্যে রয়েছে স্বল্পপরিসরে শুধুমাত্র বিধবা ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভাতা প্রদান। এছাড়া মহামারি রোগে ও পরিবেশ দূষণজনিত কারনে মৃত্যু হার হ্রাসকরণের ব্যাপারে বাজেটে কোন সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই।

স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীভূত
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকেন্দ্রীভূত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রণীত বিধিমালা অনুসারে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও তার নিচের প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বাস্থ্য বাজেট নির্ধারিত হয়। এখানে জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোন ভূমিকা নেই। সুযোগ নেই স্থানীয় চাহিদার আলোকে নতুন কোন খাত অন্তর্ভুক্তির বা কোন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির। দেশের উপকূল, চরাঞ্চল, হাওড় ও দূর্গম পার্বত্যাঞ্চল যেখানে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নেয়ার সুযোগ সীমিত, সেখানে অঞ্চল ভিত্তিক চিকিৎসা সেবা বা উপযোগী বাহনের কোন ব্যবস্থা নেই। অপরদিকে ঐতিহ্যবাহী লোকজ জ্ঞান ও চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগানোর বিষয়ে বরাদ্দের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেট সম্পূর্ণভাবে উদাসীন।
অপরদিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি জাতীয় বাজেটে উপেক্ষিত। বাংলাদেশে ৬০ বছরের বেশি বর্তমান জনসংখ্যা ৯.৮ মিলিয়ন (৬.৫% মোট জনসংখ্যার) যা আগামী ২০২৬ সনে হবে ১৮.১ মিলিয়ন । বাজেটে প্রবীণ স্বাস্থ্য সেবা খাতে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশণা থাকা উচিত। এজন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ফিজিওথেরাপি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সুপারিশ
১. বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রণয়নে কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে হবে। জেলা পর্যায়ের সমন্বয় ও স্থানীয় চাহিদার আলোকে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে;
২. স্বাস্থ্যখাতে সকল শূন্যপদ অনতিবিলম্বে পূরণ করতে হবে। প্রত্যন্ত ও পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার দিকে সরকারের নজর দিতে হবে। চরাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রিভার এম্বুলেন্স’ প্রদান করতে হবে;
৩. স্বাস্থ্যবাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থের অসমতা দূর করতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। সারাদেশে দক্ষচিকিৎসকের সুষমবন্টন এবং অধিক সংখ্যক নার্স তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
৪. চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; এর সাথে সাথে স্বাস্থ্যখাতের সকল প্রকার অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করতে হবে। ওষুধ শিল্পের মান ও মূল্য উভয়ই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে;
৫. স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে লোকজ জ্ঞান ও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ও উৎকর্ষ সাধনে যথাযথ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে;
৬. কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সকল স্বাস্থ্য কর্মীর ফিজিওথেরাপি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে;
৭. সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে প্রতিটি হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা সচল ও নিয়মিত করতে হবে;
৮. ব্যক্তি পর্যায় ও সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয়ের অসমতা দুর করতে হবে;
৯. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে এবং সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বাস্তবসম্মত পথ নির্দেশিকা ঘোষণা করা এবং সম্ভব হলে সকলের জন্য সরকারিভাবে স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।