জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিকৌশলে শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান প্রশ্ন ২০১৭-এর বাজেট-পূর্ব পরামর্শসভার ভূমিকা ২০১৭

জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিকৌশলে শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান প্রশ্ন
২০১৭-এর বাজেট-পূর্ব পরামর্শসভার ভূমিকা

সঞ্চালনায়: সেইফটি এন্ড রাইটস্, ঢাকা;
৩০ এপ্রিল ২০১৭

“রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকেÑকৃষক ও শ্রমিককেÑ এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা”, (অনুচ্ছেদ ১৪, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান)

বাংলাদেশে নতুন আরেকটি জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি আমরা। শিগগির জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ হবে। বাজেট বরাবরই আমাদের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অর্থনৈতিক ঘটনা। যদিও আমাদের সংবিধান বলেছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’Ñকিন্তু এটা বোধহয় স্বীকার করতে হবে যে, জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ঘটনা হলেও বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে আছে। কীভাবে, কাদের দ্বারা এবং কখন বাজেট প্রণীত হয়, কম মানুষই তা জানেন, বিশেষত শ্রমিকরা। এইরূপ পটভূমিতে দাঁড়িয়ে আমরা কেবল বাজেট অনুমোদন প্রক্রিয়াকালে কিছু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা ও কিছু আকাঙ্খার কথা প্রকাশ করতে পারি।

বাজেটের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
এটা সত্য, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অবস্থা কাটিয়ে বহু দূর এগিয়েছে দেশ। কিন্তু সেটা প্রধানত লড়াকু শ্রমজীবী মানুষদের কারণে। এটাও প্রায়ই উচ্চারিত হয় যে, মূলত প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক এবং দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকরাই বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি। কিন্তু বাজেটে বা অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বরাবর এই শ্রমজীবীরা অগ্রাধিকার বঞ্চিত।
গত বছরের বাজেট অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ছিল ১,১২,৫২৬ কোটি টাকা। আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ছিল মাত্র ২০৩ কোটি টাকা এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য উন্নয়ন ব্যয় রাখা হয় মাত্র ২৮৭ কোটি টাকা। বিস্ময়করভাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ব্যয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের চেয়ে কমিয়েও দেয়া হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তা ছিল ২১৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য করা গেছে, পরিবেশ ও বন, ভূমি, বস্ত্র ও পাট ইত্যাদি যেসব মন্ত্রণালয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের সবচেয়ে কম হিস্যা পায় তাদেরও অর্ধেক পাচ্ছে শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়। যেমন গত অর্থবছরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল শ্রম মন্ত্রণালয়ের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি। (সংযুক্তি : এক ও সংযুক্তি : দুই)
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বাজেট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ইত্যাদি খাত। অথচ বাজেটে অগ্রাধিকার পায় প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি ইত্যাদি। বস্তুত আমাদের বাজেটের লক্ষ্য ও দর্শনগত অবস্থান ঠিক করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ বছরের বাজেটে অর্থনৈতিকভাবে ইতোমধ্যে সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর বিবেচনাসমূহই প্রধান বিষয় হিসেবে থাকে। অথচ বাংলাদেশের বাজেটের প্রধান ফোকাস হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমজীবীদের স্বার্থের উন্নয়ন, দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন।
শ্রমিক অধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব
বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের অংশ নেয়া এবং মতামত রাখার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিই এখন সর্বোচ্চ। প্রায় সকল ব্যবসায়ে ও শিল্পখাতের মালিক প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া যাবে। কিন্তু কৃষক-শ্রমিকদের কোন প্রতিনিধি সেখানে নেই। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী-কর্মজীবী-কৃষিজীবীদের বক্তব্য শোনারও কোন কাঠামোগত প্রক্রিয়া নেই। এরকম পরিস্থিতিতে শ্রমিক অধিকার কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিজ নিজ পরিসর থেকে জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মতো কার্যক্রম চালিয়ে যেতেইহবে। সে লক্ষ্যেই আমাদের এই পরামর্শসভা। বিগত বছরগুলোতেও আমরা এরূপ পরামর্শসভার মাধ্যমে প্রণীত শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুপারিশসমূহ বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিবর্গকে দিয়েছি এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এই পরামর্শসভার সুপারিশসমূহ আমাদের বাৎসরিক কার্যক্রমেরও নির্দেশনা হয়ে থাকবে।

বাজেটে শ্রমজীবীদের স্বার্থ :বিগত বছরের পরিস্থিতি
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমজীবীদের স্বার্থের দিক থেকে বাজেটের বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এখনো আমাদের জাতীয় বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান অত্যন্ত অবহেলিত ও উপেক্ষিত খাত। জাতীয় আয়ে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বিপুল হলেও উন্নয়ন বরাদ্দে তাদের হিস্যা অপ্রতুলই থাকছে। এমনকি এমন অনেক শ্রমিক খাত রয়েছে যেখানে শ্রমিকদের উপস্থিতি বিপুল হলেও এবং জাতীয় উন্নয়ন ধারায় তারা বিপুল মূল্য সংযোজন করে গেলেও আজও বাজেট বরাদ্দের কোন খাতে তাদের লক্ষিত জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ্যযোগ্যবাবে দেখা যায় না। উদাহরণ হিসেবে আমরা নির্মাণ শ্রমিক এবং গৃহশ্রমিকদের কথা বলতে পারি। দেশে নির্মাণ শ্রমিক ও গৃহশ্রমিকদের বিপুল উপস্থিতি সত্ত্বেও বাজেট প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বা তাদের জন্য বাজেট প্রক্রিয়ার অবদান কতটুকু?
এরূপ অবস্থায় বাজেটের ফোকাস পরিবর্তন এবং তাকে কর্মসংস্থান ও শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের স্বার্থের অভিমুখে ফেরাতে আসন্ন বাজেট অধিবেশনে নি¤েœাক্ত বিষয়গুলোতে জাতীয় সংলাপ ও মতামত গঠন এবং সে আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
এক. আর্থিক অসমতা দূর করা
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যত বিকশিত হচ্ছে এবং সম্পদ যত বাড়ছে ততই দেখা যাচ্ছে, আর্থিক সুবিধা ও সম্পদ সমাজের ইতোমধ্যে সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর মাঝেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। জাতীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াও ক্রমে এই আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর হাতেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ফলে জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক অসমতার এক চরম বিভেদ রেখা তৈরি হয়েছে এবং অসমতার এই দূরত্ব ক্রমে বাড়ছে। যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অবশ্যই দূরবর্তী এক অশনি সংকেত এবং এর অবসানে জাতীয় সম্পদ সংগ্রহ ও উন্নয়ন বরাদ্দের কৌশলে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

দুই. বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি
বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যায় তরুণদের সংখ্যাই বেশি।লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১৩ অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যার প্রায় ৬৯ ভাগ হলো ১৫ বছরের অধিক বয়সী। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ৭ জন নাগরিক এখন ১৫ বছরের অধিক বয়সী। স্বভাবতই বিপুল এই কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজ দেয়া এমুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জনসংখ্যায় তরুণদের আধিক্য একই সঙ্গে একটি সম্ভবনা এবং একটি আশঙ্কা। যদি এই কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজ দেয়া না যায় তাহলে তারা দেশের জন্য বোঝায় পরিণত হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখনও আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তব প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠছে না। ফলে কোটি কোটি তরুণ বেকার কিংবা ছদ্মবেকার। দেশে বেকারদের সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও সাধারণ ছোট-খাটো চাকুরিতেও আবেদনের সংখ্যা দেখে বেকারত্বের ব্যাপকতা আঁচ করা যায়। আবার ছদ্মবেকারের (যারা মাত্র কিছু সময়ের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে পেরেছে) সংখ্যা এখানে বেকারদের চেয়ে কয়েকগুন বেশি। ছদ্ম বেকারত্ব দারিদ্র্য পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথে এক বড় বাধা।
তিন. মজুরি পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মজুরি কমিশনকে শক্তিশালীকরণ
জাতীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন। কিন্তু কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ নিরন্তর খেটেও দারিদ্র্যসীমার উপরে আসতে পারছে না। এতে পরোক্ষে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যই বিঘিœত হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও বাজেট নীতি কার্যত তার সামাজিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্যকে অধরা করে রাখছে। এর বড় এক কারণ শ্রমজীবীদের মজুরি বঞ্চনা। দেশজুড়ে প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সকল খাতে শ্রমজীবীরা মজুরি বঞ্চনার শিকার। কোন কোন খাতে মজুরি নির্ধারিত হলেও বছর বছর তা হালনাগাদ করা হয় না বলেÑ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প গার্মেন্ট খাতে ২০১৩ সালের পর বিদ্যমান মজুরি কাঠামো আর হালনাগাদ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বলা হয়েছিল ৫ শতাংশ হারে এই মজুরি বছর বছর বৃদ্ধি পাবে। বস্তুত মজুরি বঞ্চনা, যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রিতা এবং বছর শেষে তা হালনাগাদ না করার মধ্যদিয়ে শ্রমিকরা স্থায়ী এক হতাশার মধ্যে নিপতিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতির অবসানে মজুরি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মজুরি কমিশনের দক্ষতা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকৌশল হওয়া জরুরি। বিভিন্ন খাতের মজুরি পরিস্থিতিতে নজর রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় এই সংক্রান্ত অবকাঠামোর অনেক বেশি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ সালের‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’র আওতায় গৃহকর্মীরা ‘জীবন যাপনের উপযোগী’ মজুরি পাচ্ছে কি না তার জাতীয় ভিত্তিক নিয়মিত তদন্ত প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারিদের মতোই বেসরকারি খাতেও প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০-১৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির বিধান করা সঙ্গত।

চার. কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশে শিক্ষার পরিসর বাড়লেও কর্মমুখী শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণকেন্দ্র এখনও অতি কম। যে কারণে আমরা দেখি বিদেশে কাজের সন্ধানে যারা যাচ্ছেন তাদের মাঝে স্বল্পদক্ষদের সংখ্যাই সর্বাধিক। আবার দেশেও উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়লেও তাদের শিক্ষা কর্মসংস্থানে তাদের সহায়তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন তার আওতায় দেশে যুগোপযোগী কারিগরী প্রশিক্ষণকেন্দ্র বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

পাঁচ. কাজের সন্ধানে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা
প্রবাসী কর্মজীবী-শ্রমজীবীরা আমাদের অর্থনীতির প্রধান এক ভিত্তি। বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ বিদেশী মুদ্রা পাঠায় তারা। তাদের স্বার্থ দেখার জন্য দেশে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। কিন্তু এই খাতটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে এমনটি বলা মুশকিল। বিদেশে কর্মসংস্থানের পুরানো ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে আসার মুখে সরকার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়া এখনো অতি ব্যয়বহুল হয়ে আছে। উপরন্তু বিদেশে কর্মস্থলে বাংলাদেশীদের দুর্দশায় স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে এখনও প্রায় সকল প্রবাসী শ্রমিকই ক্ষুব্দ। এছাড়া দেশে আবাসন ও বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুবিধা ও অগ্রাধিকার দানের বিষয়টিও এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আকারে হাজির হয়নি।

ছয়. শ্রমজীবীদের যানবাহন সংকট ও আবাসন সংকট
বাংলাদেশে প্রধান প্রধান শহরগুলো একই সঙ্গে আবাসিক, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প শহর। শ্রমজীবীরা এরূপ নগরগুলোর প্রাণশক্তি হলেও স্বল্প আয়ের এই মানুষদের জন্য যানবাহন ও আবাসন সংকট প্রধান এক দুশ্চিন্তার বিষয়। প্রতিটি নগরে দিগন্ত পাল্টে যাচ্ছে হাউজিং সেক্টরের বিকাশে। কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষদের তাতে কোনই প্রবেশাধিকার নেই। বরং তাদের ক্রমে সরে যেতে হচ্ছে শহরতলির প্রান্তের দিকে। দূর-দূরান্তের বস্তিতুল্য আবাস থেকে শ্রমজীবী মানুষের মাইলের পরম মাইল হেঁটে কর্মস্থলে যাওয়ার দৃশ্য যদিও আমাদের কাছে সহনীয় হয়ে গেছেÑকিন্তু শিল্পের উৎপাদনশীলতার জন্য এটা ভালো বৈশিষ্ট্য নয়।
সরকার একদিকে স্বল্প আয়ের এই মানুষদের জন্য জনপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য উল্লেখযোগ্য আবাসন পরিকল্পনাও অনুপস্থিতি। ফলে শ্রমজীবীরা অসহায় বর্তমানের পাশাপাশি অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সম্প্রতি এরূপ এক পরিস্থিতি দেখা গেছে চামড়া শিল্প খাতে। ঢাকা থেকে সাভারে এই শিল্পের স্থানান্তরকালে মালিকদের অনেক ধরনের প্রণোদনা দেয়া হলেও এটা প্রায় অবহেলিত প্রসঙ্গই থেকেছে যে, এই খাতের বিপুল শ্রমিক নতুন শিল্পাঞ্চলে থাকবে কোথায়?
সাত. নিরাপদ কর্মপরিবেশ
বাংলাদেশের শিল্পায়নের এক বড় আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছে তার অনিরাপদ কর্ম পরিবেশের কারণে। মূলত শিল্প স্থাপনায় যথাযথ নজরদারির অভাব এবং এ সংক্রান্ত আইন-কানুনের বাস্তবায়নহীনতাই কলকারখানাগুলোতে দুর্ভাগ্যজনক ও বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি কায়েম করেছে। এটা যেমন বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের ইমেজ খারাপ করে রেখেছে তেমনি শ্রমিক জীবনকেও যন্ত্রণাকাতর করে রাখে। রাষ্ট্রীয় শিল্প পরিস্থিতি ও কর্ম পরিবেশ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল বৃদ্ধি এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বিশেষ মনযোগ দেয়া প্রয়োজন।সেইফটি এন্ড রাইটস-এর এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৬ এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে শুধু কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৮৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। মোট ২৬০টি কর্মক্ষেত্রে এসব শ্রমিক মারা যায়। একইরূপ দুর্ঘটনায় ২০১৫ সালে মারা যান ৩৭৩ জন শ্রমিক। ক্রমাগত এইরূপ দুর্ঘটনার ব্যাপকতা নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের জন্য রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

আট. শ্রমিকদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের রেশনিং ব্যবস্থা
বাংলাদেশে বাজার ব্যবস্থাকে প্রায় পুরোই ব্যবসায়ী সমাজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্রই সেখানে অসহায়। বাংলাদেশে এমন শ্রমিক পরিবার পাওয়া যাবে না যারা প্রতি মাসে পূর্ববর্তী মাসের ভোগ্যপন্য থেকে কিছু না কিছু কাটছাট করতে বাধ্য হন। কিন্তু শিল্প উৎপাদনের স্বার্থে হলেও শ্রমিক পরিবারগুলোর চাল-ডাল-তেলসহ জরুরি খাদ্যপণ্যসমূহের নির্দিষ্ট দামে পাওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে তাদের জন্য রেশন ব্যবস্থা এখন অপরিহার্য। সরকার এক্ষেত্রে বড় বড় খাতগুলোর মালিক সমিতির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে এরূপ রেশন ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করতে পারে। বস্তুত এরূপ রেশনিংয়ের অভাবে পরিবারের আর্থিক সংকট সামাল দিতে না পেরে শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে শিশু শ্রমিকের জন্ম হচ্ছে। যার বাস্তব প্রমাণ হিসেবে আমরা দেখছি, দেশের বিভিন্ন আইনে ১৫ বছরের (দোকান আইনে ১২ এবং সড়ক পরিবহন খাতে ১৮ বছর) কম বয়সীদের শ্রমে নিয়োজিত করা শাস্তিযোগ্য হলেও অহরহ তার ব্যতিক্রম ঘটছে।

নয়. আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে শ্রমিক হিস্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তা
বাজেটে প্রতিনিয়ত আমরা জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির গর্বিত হিসাব দেখি। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক খাতেই প্রবৃদ্ধি ঘটছে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির কোন সুবিধা পাচ্ছে না শ্রমজীবীরা। অথচ তাদের শ্রমেই এই প্রবৃদ্ধি। এক্ষেত্রে কিছু জাতীয় আইন থাকলেও তা অপ্রতুল এবং তারও কোন বাস্তবায়ন নেই। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক অসমতা কমিয়ে আনার স্বাথে প্রতিটি অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধির হিস্যায় শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার সময় হয়েছে এখন। সরকার বাজেটে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতকে যেসব প্রণোদনা দিয়ে থাকে সেটারও সুফল ঐ খাতের শ্রমিকদের মাঝে কীরূপ হিস্যায় বন্টিত হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারের বিশেষ তদারকি ও আইনগত নির্দেশনা থাকা উচিত। খাতভিত্তিক সকল রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার উপকারভোগী যাতে শ্রমিকরাও হয় সেটার তদারকি জরুরি।
এছাড়া সামাজিক নিরপত্তা খাতে বর্তমানে যে বিপুল সরকারি বরাদ্দ যাচ্ছে তাতে শ্রমিক পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকই সচরাচর পেনশন সুবিধা পায় না। সুতরাং তাদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং তা যৌক্তিক হবে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকূলীয় এলাকার মৎস শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলদস্যু কর্তৃক অপহৃত বা নিহত জেলে/ ফিশিং বোট শ্রমিকদের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা জরুরি।
দশ. ভূমি সংস্কার ও অনুপস্থিতি ভূমি মালিকানার অবসান
যদিও খাতভিত্তিক অবদান কমছেÑকিন্তু কৃষিই এখনও কর্মসংস্থানের বড় এক পরিসর। বলা যায় প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমজীবীর কাজের পরিসর কৃষি সমাজে।অন্যদিকে, কৃষিখাতের যথাযথ সংস্কার সাধিত না হওয়ায় সেখানে কর্মসংস্থান কমছে। বিশেষ করে বিপুল অনুপস্থিত ভূমি মালিকানা থাকায় এবং ব্যাপকহারে অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃজনের নামে কৃষি জমির অকৃষিজ ব্যবহারের কারণে কৃষি আর গ্রামীণ বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারছে না। বস্তুত কর্পোরেট অর্থনীতির স্বার্থে আবাদী জমির অধিগ্রহণ চললেও গ্রামীণ মজুরদের বিকল্প কর্মসংস্থানে কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। বিষয়টি সরাসরি বাজেট বরাদ্দের সংঙ্গে যুক্ত না হলেও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত নীতিগত বিষয় হিসেবে বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিসরে অকৃষি খাতের বিকাশকে প্রণোদনা দিতে বাজেটে সুনির্দষ্টি বরাদ্দ ও নির্দেশনা থাকা জরুরি। এছাড়া যেহেতু আরও দীর্ঘদিন কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গ্রামীণ মানুষদের কর্মসংস্থানের মূল আশ্রয় হিসেবে থাকছে সেকারণে কৃষিতে ভর্তুকিরূপী প্রণোদনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সম্প্রতি বৃহত্তর সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিখাতে দুর্যোগজনিত বিপর্যয়ের ফলে কৃষিশ্রমিকদের যে কর্মহীনতা ঘটছে তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঐসব অঞ্চলে বড় আকারে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ অপরিহার্য।

এগার. মাতৃত্বকালীন সুবিধার সম্প্রসারণ ও ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা
দেশের প্রায় পাঁচ কোটি শ্রমশক্তির এক চতুথাংশই নারী। যদিও শ্রম আইন (২০০৬) অনুযায়ী কোন কারখানায় একজন নারী শ্রমিকের কর্মকাল ৬ মাস হলেই প্রসূতিকালে তিনি সবেতন ১৬ সপ্তাহ ছুটি পাওয়ার অধিকারীÑকিন্তু কার্যত তার পূর্ণ প্রতিপালনে অনিয়ম ঘটছে বলে প্রায়ই তথ্য মেলে। নারী শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের স্বার্থে বেসরকারি খাতেও মাতৃত্বকালীন সুবিধার আবশ্যিক সম্প্রসারণ বর্তমানে এক বড় করণীয় হয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বেসরকারি খাতকে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা দিয়ে হলেও এই নীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য ব্যাপক হারে ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা এবং বেসরকারি খাতে এরূপ সেন্টার গড়ার জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন। এইরূপ সুবিধা বিভাগীয় শহরগুলোতেও ব্যাপকভাবে প্রয়োজন।

বার. শ্রমজীবী হাসপাতাল
দেশে শ্রমজীবীদের প্রাত্যহিক নাজুকতার এক বড় ক্ষেত্র অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা সংকট। আবাসন সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকটের মতোই অসুস্থতায় শ্রমজীবীরা বিশেষভাবে অসহায়। বেসরকারিখাত নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বল্প আয়ের দরিদ্র শ্রমজীবীরা অসুস্থতার সময় অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ে। যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে শ্রমজীবীদের অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে এবং সার্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নয়নের স্বার্থে দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে এবং বিভাগীয় শহরে একাধিক সংখ্যায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন শ্রমজীবী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্টভাবে মৎস্য শ্রমিকদের টার্গেট করে দেশের উপকূলীয় এলাকায় এরূপ কয়েকটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

তের. মৎস্য শ্রমিকদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের দক্ষতা উন্নয়ন ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন
বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির ৯ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক বলে একটি সংস্থার গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। জাতীয় আয়ে এই খাতের রয়েছে ৪-৫ শতাংশ অবদান। কিন্তু এই খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় জাতীয় উদ্যোগ-আয়োজন অপ্রতুল। বাংলাদেশের শ্রম আইনের ধারা ২ (৬১)(ফ) অনুযায়ী এটা শিল্পখাত হলেও এই খাতের মৎস্যজীবীরা রাষ্ট্রীয় কোন উন্নয়ন উদ্যোগে যেমন সম্পৃক্ত নেইÑ তেমনি বিশেষভাবে জলদস্যু ও প্রাকৃতিক দুর্যোাগ থেকে এদের রক্ষায় কোস্ট গার্ডের টহল কার্যক্রমও অপ্রতুল। যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
মৎস্য খাতের সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে দেশে বর্তমানে শতাধিক মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা রয়েছে। খুলনা অঞ্চলকেন্দ্রীক এসব কারখানার শ্রমিকরাও শ্রম অধিকার বঞ্চনার শিকার। কর্ম পরিবেশের ক্ষেত্রে এ খাত অনেক পিছিয়ে। এরূপ খাতগুলো বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বিপুল অবদান রাখলেও তাদের সুরক্ষায় ও জীবনমান উন্নয়নে কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগ এবং নি¤œ মজুরিবোর্ডকে ব্যবহার করে সরকারের অনেক কিছু করার রয়েছে।

চৌদ্দ. সিআরএস কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি জাতীয় ভিত্তিক কাঠামো সৃষ্টি প্রয়োজন
আমরা জানি, ব্যবসায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কোন দাতব্য কার্যক্রম বা দান নয়। এটা এক দায়িত্ব। ব্যবসায়ে লাভের একটা অংশ শ্রমজীবীদের কল্যাণে ব্যয় হবে এটাই সিএসআর ধারণার মূলকথা। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এইরূপ কার্যক্রমে সক্রিয় হলেও একে আরও অনেক সম্প্রসারিত করা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন এবং পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হলে এর সুবিধাভোগী হিসেবে শ্রমজীবী সমাজ আরও উপকৃত হতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের সকল সিএসআর কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মালিক প্রতিনিধি-শ্রমিক প্রতিনিধি-সরকার প্রতিনিধিসমন্বয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বা সমাজ সেবা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরেও শ্রমজীবীদের স্বার্থে আরও বিপুল করণীয় রয়েছে। আশা করা যায়, আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো সমন্বিত করতে পারবো এবং বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে তা উত্থাপন করতে সমর্থ হবো। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার জন্য আমাদের আন্দোলনে এভাবেই শ্রমিক সমাজের অংশগ্রহণও ক্রমে আরও বেগবান হবে।

সবাইকে ধন্যবাদ।
——————

সংযুক্তি : এক
জাতীয় উন্নয়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিস্যা

সংযুক্তি : দুই
জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিস্যা