খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি বাজেট ২০১৯

সূচনা
আমাদের জাতীয় জীবনে কৃষিখাত শুধুমাত্র খাদ্য সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এ খাতে নিয়োজিত রয়েছে আমাদের শ্রমমক্তির সবচেয়ে বড় অংশ- ৪০.৬ শতাংশ। অপরদিকে জিডিপিতে কৃষির অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে। সর্বশেষ সরকারি হিসেবে অনুযায়ী জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৩.৩১%। বাংলাদেশের কৃষি মূলতঃ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জোত নির্ভর। অর্ধেকেরও বেশি কৃষক পরিবার ভূমিহীন। এই ভূমিহীন বর্গাচাষী, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক গত ৪৭ বছরে খাদ্যশস্য উৎপদন চারগুণ বাড়িয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলা করে নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। গ্রামীন অর্থনীতিতে বৈচিত্র এসেছে। এ পরিবর্তন কৃষিতে নতুন কিছু সংকট, সম্ভাবনা ও ঝুঁকি তৈরি করেছে। কৃষিতে সরকারি বিনিয়োগ এ সংকট সম্ভাবনাকে কিভাবে মোকাবেলা করছে এবং কৃষির প্রধান চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র- প্রান্তিক ও বর্গচাষীকে কিভাবে সহায়তা করছে সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও সমাধানের পথ খোঁজা বাংলাদেশের কষি ও কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষিখাতে বাজেট বরাদ্দের স্বল্পতা
আমাদের দেশে কৃষিখাতে রয়েছে বাজেট বরাদ্দের স্বল্পতা, বাজেট বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা, সুশাসনের অভাব, কর্পোরেট স্বার্থে প্রণীত নীতিকাঠামো ও কৃষির কাঠামোগত সংকট। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিল সর্বমোট ২৬ হাজার ২৬০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫.৭ শতাংশ। ২০১০-১১ থেকে ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত মোট বাজেট ২৫৫.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সার্বিক কৃষিখাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৯.০৩ শতাংশ। বর্তমান সরকারের চলমান দুই মেয়াদে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১০.৯ শতাংশ আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মোট বাজেটের ৫.৭ শতাংশে। এই ৫.৭ শতাংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ। শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি-মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা (৪.০১%)।

লেখচিত্র ১: জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দের শতকরা হার, ২০১১-২০১৯

সূত্র: বাজেটের সংক্ষিপ্তসার

কৃষি-ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে
কৃষি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হলেও বাজেটে কৃষি-ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। বিগত তিন বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি-ভর্তুকি ৯০০০ কোটি টাকায় আটেকে ছিল, যা সংশোধিত বাজেটে কমে গিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ভর্তুকির ক্ষেত্রে সার, বীজ, সেচ সুবিধা গেলে ক্ষুদ্র কৃষক উপকৃত হবে। কৃষকদের কৃষিযন্ত্র সংগ্রহে উৎসাহিত করতে কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ হলেও এর ব্যাপ্তি যেমন খুবই কম অন্যদিকে এই জাতীয় বড় যন্ত্র সাধারণত: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য প্রয়োজন পড়ে না। দেশে কৃষিজ উৎপাদন বাড়লেও কৃষিখাতে জনপ্রতি ব্যয় বেড়েই চলছে। আইএফপিআরআইয়ের গ্লোবাল ফুড পলিসি রিপোর্টেও তথ্যানুযায়ী, ১৯৮০ সালে কৃষিখাতে জনপ্রতি ব্যয় ছিল ৩ দশমিক ৫৬ ডলার। ২০১৪ সালে এসে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪১ ডলারে। তাই কৃষি-ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ব্যয় কমানোর বিকল্প নেই।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ সকল মানুষের জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চিত করতে হলে প্রতিবছর উৎপাদন বাড়িয়ে যেতে হবে গড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ লক্ষ্যমাত্রা নামিয়ে সর্বোচ্চ ৩.৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হলেও গত ৩ বছর ধরে এ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিখাতে মূল বরাদ্দ ও ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতেও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। ফলে আমাদের নির্ভরশীল হতে হবে কৃষিপণ্য আমদানির ওপর, যা গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ বেড়েই চলছে। এ ক্ষেত্রে আমদানি বিকল্প নীতি গ্রহণ করে কৃষির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

কৃষক কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে

ভোক্তামূল্য কম রাখতে সরকার যতটা তৎপর। কৃষকের জন্য লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করাটাও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে যাদের মুখ্য অবদান সেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিতকৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দরকারকৃষিপণ্যের মূল্য সমর্থন এবং ন্যায্য সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা।

পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে দেশে খাদ্যশস্য ধান/গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি মূল্য সহায়তায় মূলত: চালকল মালিকরাই লাভবান হন। তাছাড়া সরকারি ক্রয়মূল্য চলতি বাজার দরের চেয়ে কখনো কখনো কম থাকে এবং তা বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলার জন্য তা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে সরকারি সংগ্রহের পরিমাণ মোট উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ। এটি ন্যূনপক্ষে ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে এবং সরাসরি কৃষকের খামার থেকে ক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া পাট, ডাল ও তেলবীজসহ অন্যান্য ফসলের জন্যও সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা জরুরি। সাম্প্রতিক ‘ন্যাশনাল সার্ভে অ্যান্ড সেগমেন্টেশন অব স্মলহোল্ডার হাউজহোল্ডস ইন বাংলাদেশ’ জরিপে দেখা যায়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে তারা দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ‘ক্রেতাদের সুযোগ নেয়ার প্রবণতা, পরিবহন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে ফসলের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছেন না তারা। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্রেতাদের সুযোগ নেয়ার প্রবণতার কথা জানিয়েছেন ৪৪ শতাংশ। যোগাযোগ অবকাঠামোর অভাব ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের দিকে আঙুল তুলেছেন যথাক্রমে ১৪ ও ১১ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক।’

কৃষিঋণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল
কৃষিতে বিনিয়োগ প্রয়োজনের তুলনায় সবসময়ই অপ্রতুল। কৃষি আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যাক্তিখাত হলেও, শিল্পখাতের প্রতি যে রকম গুরুত্ব দেওয়া হয় কৃষিখাতের প্রতি রাষ্ট্র ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই মনোযোগ নেই। ইতোমধ্যে সরকার ১০ টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ন্যূনপক্ষে ২৫ শতাংশ ঋণ কৃষিখাতে প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া, মসলা ফসলের জন্য ৪ শতাংশ সুদে এবং দুগ্ধ খামার স্থাপনের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুযোগ নিতে পারে না।

সরকারি হিসেবে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়লেও সত্যিকারার্থে কতজন কৃষক কৃষিঋণ পেয়েছে তা একটি বড় প্রশ্ন। এছাড়াও, এখনো কৃষিঋণে সুদেও পরিমাণ বেশি, কৃষিঋণের সুদের হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা জরুরি । দারিদ্র্য হ্রাসকরণে কৃষিখাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি দেশে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, কৃষি উৎপাদন ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্যের হার ০.৪১ শতাংশ হ্রাস পায়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩.১ শতাংশ হারে। এ সময় দেশে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে বছরে গড়ে ১.৪ শতাংশ হারে। কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়লে খাদ্য ও পুষ্টির সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যে স্থিতিশীলতা আসার ফলে তা দ্বিগুণ হারে গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস করে। তাই দারিদ্র্য হ্রাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যও কৃষিতে বিনিয়োগ করা জরুরি।

জৈবকৃষি
২০১৬ সালে বর্তমান সরকার কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় জৈব কৃষিনীতি’ প্রণয়ন করেছে। যা টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যদিও, জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন, বর্ধিতকরণ, মাননিরূপণ ও প্রযুক্তি বিস্তারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, বিএডিসির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ সীমিত, যা বীজের ওপর কৃষকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবনে বিএডিসিকে সহায়তা করবে না।

বায়ো-ফুয়েল উৎপাদন স্থায়ীভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। চালের খুদ, ভুট্টা ও চিটা গুড়া ব্যবহার করে খাদ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং প্লান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত চুড়ান্তভাবে বাতিল করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চীনসহ অনেক দেশে খাদ্যশস্য থেকে ইথানল তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই, আমরা মনে করি সরকারকে অবশ্যই খাদ্য থেকে জ্বালানি তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে হবে।

 

সুপারিশমালা
১. জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার এবং সে অনুযায়ী কৃষিতে বাজেট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে:
২. বর্গাচাষী, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য সরকারি সুবিধা ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য সুদবিহীন বা স্বল্পসুদে মৌসুমভিত্তিক কৃষিঋণ সহজলভ্য করতে হবে;
৩. কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও সরকারি-বেসরকারি কৃষিপণ্য ক্রয়পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে ‘জাতীয় কৃষি পণ্য মূল্য কমিশন’ গঠন করতে হবে। কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে ধানের আগাম মূল্য ঘোষণা করতে হবে এবং নির্ধারিত ডিলারের কাছে কৃষকেরা যাতে সরাসরি ধান বা কৃষি সমবায়গুলো তাদের প্রক্রিয়াজাতকৃত চাল বিক্রি করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে ‘উৎপাদন ও বিপণন সমবায়’ গঠন করে সমবায়ের মাধ্যমে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও হিমাগার স্থাপন করতে হবে। ‘শস্য গুদাম ঋণ প্রকল্প’কে পুনরুজ্জীবিত করে ‘শস্য সংরক্ষণ ঋণ’ চালু করতে হবে।
৪. নারী কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ঋণসহ সকল সরকারি পরিসেবা ও প্রণোদনায় অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নারীবান্ধব কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে।
৫. কৃষি জমির অকৃষিখাতে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ‘ভূমি ব্যাংক’ ব্যবস্থা চালু করে অনুপস্থিত ভূমিমালিকদের কাছ থেকে জমি ‘ভূমি ব্যাংকে’ জমা নিয়ে তা প্রকৃত কৃষকদের চাষাবাদের জন্য সহজলভ্য করা যেতে পারে। কৃষিজমি সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে;
৬. জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলা করে জলবায়ু সহিঞ্চু স্থায়িত্বশীল কৃষিকে উৎসাহিত করতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গবেষণাখাতে বরাদ্দ রাখতে হবে;
৭. ক্ষতিকর বিদেশি বীজ আমদানি বন্ধ, বিটি বেগুন, গোল্ডেন রাইসসহ বিতর্কিত জিএমও কৃষি প্রবর্তন বন্ধ করতে হবে। ফসলভিত্তিক আঞ্চলিক বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণাগার তৈরি করতে হবে। বীজ সার্বভৌমত্ব অর্জনে বিএডিসিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।