জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা শ্রম ও র্কমসংস্থান খাত ২০২০

 

১. শ্রম ও কর্মসংস্থান চিত্র
সর্বশেষ প্রকাশিত ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্দ্ধে মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০ কোটি ৯০ লক্ষ। মোট ‘শ্রমশক্তি’ ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ। শ্রমশক্তির অন্তর্ভূক্ত নয় (শিক্ষার্থী, অমূল্যায়িত গৃহস্থলী কাজে নিয়োজিত ইত্যাদি)- ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ। মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬ শতাংশ কৃষিতে, ২০.৪ শতাংশ শিল্পে এবং ৩৯.০ শতাংশ সেবা খাতে নিয়েজিত আছে। দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ২৬ লক্ষ ৭৭ হাজার অর্থাৎ ৪.২ শতাংশ। দেশে যুব শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি যা মোট শ্রমশক্তির ৩১.৬ শতাংশ। যুব শ্রমশক্তির মধ্যে বেকারত্বের হার ১০.৬ শতাংশ।বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ থেকে এটা দেখা যায় যে, দেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। কারো কারো মতে এটা ১৪-১৬ শতাংশ। অন্য অনেকের হিসাব মতে, দেশে আসলে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যে পদ্ধতিতে বেকারত্ব পরিমাপ করা হয়, সেখানে ‘পদ্ধতিগত’ কিছু ত্রুটি থাকায় জরিপে বেকারত্বের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না।

সরকারি হিসাব মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। দেশীয় বাজারে ১০-১১ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে এবং ৪ লক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ পাচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের এই কথ্য-উপাত্ত কতোটা নির্ভরযোগ্য- তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
আমাদের অর্থনীতি ব্যক্তিখাত নির্ভর। আমাদের মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ৩.৮ শতাংশ সরকারি খাতের। বাকি ৯৬.২ শতাংশই কোন না কোনভাবে ব্যক্তিখাতের। ফলে ব্যক্তি খাত বা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগই কর্মসংস্থান সৃষ্টির একমাত্র পথ। সরকারি বিনিয়োগ সব সময়ই ‘কৌশলগত’। এটা সরাসরি কর্মসংস্থানে তেমন একটা ভূমিকা না রাখলেও বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহ যোগায়। অথচ বিগত ৫ বছর ধরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ জিডিপি’র ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। ফলে কর্মসংস্থানের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া যে ধরণের কর্মসংস্থান ঘটছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশের ৮৫.১ শতাংশ কর্মসংস্থান ঘটছে অনানুষ্ঠানিক খাতে যেখানে বেতন-ভাতা, কর্মঘন্টা, কাজের নিশ্চয়তা, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি প্রশ্ন সাপেক্ষ।

২. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমজীবী মানুষ

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ও অগ্রসরমান। জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যান্য সূচকগুলি যতেষ্ঠ আশাব্যাঞ্জক। বিগত ৫ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। সরকারি তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে এটা ৮ শতাংশ অতিক্রম করবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। এই অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যমহারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, আয় বণ্টনে অসমতা, শ্রমশক্তির উল্যেখযোগ্য অংশের বেকারত্ব, জ্বালানী, খাদ্যশস্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানী নির্ভরতা, জাতীয় সঞ্চয়ের নিম্নহার, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর ক্রমহ্রাসমান নির্ভরতা এবং কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে এটা প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে এদেশের কৃষক, পোষাক ও প্রবাসী শ্রমিক।

সারণি:১ জিডিপি’তে খাতভিত্তিক অবদান ও শ্রম নিয়োজন

সূত্র: বিবিএস (২০১৯) এবং শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬-১৭)

সারণি- ১ থেকে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ কৃষিতে (৪০.৬%) নিয়োজিত আছে। এর পরেই আছে সেবাখাত (৩৯.০%)। তবে এই উপাত্ত থেকে বাংলাদেশে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে তেমন কিছু ধারণা করা যায় না। তবে মনে রাখা দরকার, কৃষি ও শিল্প আনুপাতিকভাবে অনেক বেশি শ্রমঘন। কিন্তু যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮৫.১ শতাংশই ‘অনানুষ্ঠানিক’ খাতের, মাত্র ১৪.৯ শতাংশ ‘আনুষ্ঠানিক’ খাতের(চিত্র: ১)।

অনুষ্ঠানিক খাতে কাজের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, মজুরি, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি খুবই নি¤œ। প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক মূলতঃ সরকারি বেসরকারি খাতে বিভিন্ন সংস্থায় নিয়মিত শ্রম দিচ্ছেন যার মধ্যে রয়েছে পাট, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, চিনি, কাগজ, ট্যানারি, পরিবহণ ও চা। অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা মূলতঃ গৃহকর্ম, নির্মান, কৃষি, হকার প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত। এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিদ্যমান শ্রম আইনের প্রয়োগ কঠিন।

চিত্র ১: আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাত

সূত্র: শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬-১৭)

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব খাতের অবদান উল্যেখযোগ্য। খাতওয়ারি জিডিপি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান সর্বাধিক ৩১.৩১ শতাংশ, কৃষিখাতের অবদান ১৩.৩১ শতাংশ, পরিবহন খাতের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ, এবং নির্মান খাতের অবদান ৭ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় গার্মেন্টস সেক্টর থেকে এবং প্রবাসিদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। অথচপ্রবাসি শ্রমিকসহ বিভিন্নখাতে নিয়োজিত এ বিশাল শ্রম শক্তির নেই কোন স্বীকৃতি, নেই কোন মর্যাদা। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। এমনকি নূন্যতম জীবনধারণের উপযোগী মজুরিও এরা পায়না। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ, ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্মঘন্টা অনুসরণের সুযোগ নেই। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে নেয়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও বরাদ্দ অর্থ খুবই অপর্যাপ্ত।
গড় মজুরিতেও এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তির তথ্য ২০১৫ অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে লিখিত ও মৌখিক চুক্তি এবং অন্যান্যভাবে কর্মরত ২ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শ্রমিক। এর মধ্যে ১ কোটি ৪১ লাখ মৌখিক সম্মতিতে কাজ করছেন। মৌখিক সম্মতিতে কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে আবার ১ কোটি ১০ লাখের বেশি পুরুষ। এছাড়া ৩১ লাখ নারী শ্রমিকও লিখিত চুক্তি ছাড়াই মৌখিক সম্মতিতে কাজ করছেন যা মোট নারী শ্রমিকের ১৬.৪৫%।এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক খানে কর্মরত শ্রমিকেরা খুবই সীমিত আইনের সুবিধা পাচ্ছে কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা তা একেবারেই পাচ্ছে না।

৩. কর্মসংস্থান: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ সরকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন, উৎপাদনশীল ও ‘শোভন কর্মসুযোগ’ সৃষ্টি, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষাসহ নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ।বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ) ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার করা হয়েছে [বক্স-১]। অন্যদিকে চলমান ৭ম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০), জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে তুলনামূল পরিসংখ্যান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেখানে দেখা যায়, ২০২০ সাল নাগাদ মোট ১ কোটি ২৯ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিদ্যমান শ্রমশক্তির তুলনায় বাড়তি ৭ লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, ফলে শ্রমশক্তির তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়ে যাবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি নতুন এজেন্ডা। টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ভিত্তি বছর ২০১৬। শ্রমিকদের অনেক দিনের দাবী ‘শোভন কাজ’ টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮ নং লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এখানে ‘সকলের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং শোভন কর্মসুযোগ সৃষ্টি এবং স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন’র বিষয়টি গুরুত্ব সহকাওে হাজির করা হয়েছে।

বিভিন্ন খাতে শোভন কাজের এ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রচূর বিনিয়োগ প্রয়োজন। উন্নয়নশীল দেশসমূহসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিমাণ বেকার যুবকদের কর্মহীনতা টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট তত্ত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশে কর্মক্ষম বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও দিক নির্দেশনার প্রয়োজন। এসব বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে শ্রম বান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাষ্ট্রীয় খ্যাতি অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বাজেট বরাদ্দের ধারা: শ্রম ও কর্মসংস্থান খাত

সামগ্রিকভাবে জাতীয় বাজেটের নিরিখে বিবেচনা করলে, ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান খাত’ শিরোনামে নামে কোন বিশেষ খাত নেই যেখানে শ্রম, শ্রমিক ( সেবা, শিল্প, কৃষিসহ সকল খাতের), কর্মসংস্থান, শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা ও বাজেট বরাদ্দ করা হয়।তবে‘শ্রম ও কর্মসংস্থান’ খাত নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’তে (এডিপি) একটি বিশেষ খাত রয়েছে যেখানে মূলত: শিল্প এবং বিশেষভাবে নগরকেন্দ্রীক নানা ধরণের পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরণের ‘প্রকল্প’ হাতে নেয়া হয়। এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই দু’টি বিশেষ মন্ত্রণালয়- ১. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ২. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’র অধীন।এসব বিবেচনায় শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও নীতি নির্ধারকরা সাধারণত: এ দু’টি মন্ত্রণালয়কেই শ্রম, শ্রমিক ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মূল মন্ত্রণালয় হিসেবে গণ্য করে থাকেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার যে, শিল্প এবং নির্মাণখাতের বাইরে বিদ্যমান বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা পূরণ কিংবা সুযোগ-সুবিধার বৃদ্ধির সাথে এ দু’মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। তবে এ পরিসরে আলোচনার সুবিধাথের্- এ দু’টি মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই আমাদের আলোচনাকে সীমাবদ্ধ রাখবো।


শ্রমজীবীদের স্বার্থের দিক থেকে বাজেটের বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।জাতীয় বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান অত্যন্ত অবহেলিত ও উপেক্ষিত। সামগ্রিকভাবে জাতীয় বাজেটের আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছরই এ দু’ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়লেও উন্নয়ন বরাদ্দের দিক দিয়ে তা শ্রমজীবী মানুষের চাহিদার তুলনায় অপ্রত’লই থাকছে। বিশেষ করে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের দিকে দৃষ্টি দিলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আলোচ্য দু’টি মন্ত্রণালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট বরাদ্দ ৮২২ কোটি টাকা- শ্রম ও কর্মসংস্থান ২২৭ কোটি এবং প্রবাসী কল্যান ৫৯৫ কোটি টাকা। বিগত ৫ বছরে বাজেটের আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ দু মন্ত্রণালয়ের বাজেটও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে(চিত্র ২ ও ৩)।

চিত্র- ২ বাজেট (২০১৫-১৯):শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

চিত্র- ৩ বাজেট (২০১৫-১৯): প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে যার মধ্যে ৫টি প্রকল্পই কোন না কোনভাবে বিভিন্ন ধরণের কারিগরী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের সাথে সম্পর্কিত। তবে এটা লক্ষণীয় যে, বিদেশে চাকরিতে আগ্রহীদের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক ও প্রকল্পের ধরণের দিক দিয়ে এর বেশিরভাগই শিক্ষামন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন সম্পর্কিত বলে ধারণা করা যেতে পারে। ফলে এসব প্রকল্প কেন এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া হচ্ছে সে প্রশ্ন তোলাই যায়। দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও যুব উন্নয়নের বিভিন্ন কোর্স/ট্রেড গুলির সাথে এর সামঞ্জস্য বিধান করলে হয়তো আলাদা ভাবে এগুলির জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন হতো না। হয়তো অর্থের সাশ্রয় হতো।

অন্য দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১১ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে যার অধিকাংশই অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কিত, ৩টি প্রকল্পসচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত এএকং একটি প্রকল্পের অধীনে শ্রমিকদের জন্য কিছুটা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সাথে সম্পর্কিত।

বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত। অন্যদিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ প্রকল্প পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে। ফলশ্রুতিতে অন্যান্য ৪১টি আনুষ্ঠানিক খাত সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। যেহেতু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধা জনগণ তথা শ্রমিকগোষ্ঠি সরাসরি পান তাই এখানে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক এডিপি বিশ্লেষন জরুরি।

কিন্তু লক্ষ্যণীয় যে, শহরাঞ্চলের শিল্প বা নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা যেমন স্বাস্থ্য, কম খরচে আবাসিক সুবিধা, শিল্প এলাকায় শিশু যতœকেন্দ্র স্থাপন, রেশন সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলির সাথে এসব বড় বড় প্রকল্পের কোন সম্পর্ক নেই। অথচ বিগত কয়েক বছর ধরে শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিক আন্দোলনগুলির সামনে মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলিই ছিল মূল দাবি। বাজটে এসব দাবি কার্যত: উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জাতীয় আয়ে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বিপুল হলেও উন্নয়ন বরাদ্দে তাদের হিস্যা অপ্রতুলই থাকছে। এমনকি এমন অনেক শ্রমিক খাত রয়েছে যেখানে শ্রমিকদের উপস্থিতি বিপুল হলেও এবং জাতীয় উন্নয়ন ধারায় তারা বিপুল মূল্য সংযোজন করে গেলেও আজও বাজেট বরাদ্দের কোন খাতে তাদের লক্ষিত জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্যেখযোগ্যভাবে দেখা যায় না।

চিত্র ৪ বাজেট (২০১৫-১৯): শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (কোটি টাকা)

ত্র: ৫ উন্নয়ন বরাদ্দ: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (কোটি টাকা)

বিগত কয়েক বছরে পোশাক শিল্পের বেশ কিছু ঘটনা ও তৎসংক্রান্ত বেশ উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প শুধু সরকারী অর্থায়ণে নয় বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জনবল বৃদ্ধি ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

একথা সত্য যে, বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম জনশক্তি রপ্তানীকারক দেশ। দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব নিরসনে বৈদেশিক কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সরকারি তথ্য-উপাত্ত (২০১৭) থেকে দেখা যায়, কর্মে নিয়োজিত প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ‘আধা-দক্ষ’ ও ‘স্বল্প দক্ষ’ শ্রমিকের অংশ সর্বাধিক- ৫৫.২৬ শতাংশ। অন্যদিকে পেশাজবীদের অংশ মাত্র ০.৪৫ শতাংশ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮)। একদিকে বিদেশে গমোনেচ্ছুদের দক্ষতা বৃদ্ধি অন্যদিকে বিদেশে তাদের অধিকার সংরক্ষণ- মূলত: এ দু’টি বিষয়ই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা বলা হলেও জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাত খুবই অবহেলিত। বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ বছরের পর বছর বাড়লেও আমাদের জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাতে বরাদ্দ বাড়েনি। বাড়েনি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে বাজেট বরাদ্দ খুবই কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভিবাসন খাতের (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) জন্য এই বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ০.১২ শতাংশ।তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সালে বিজিএমইএ-এর তথ্যানুযায়ী রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে তুলা, সুতা, কাঁচামাল ইত্যাদির খরচ বাদ দিলে নিট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন। অন্যদিকে একই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়নেরও বেশি। সেই বিবেচনায় সব দিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান খাত।

যদিও এ দু’টি মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে তথাপি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে শিল্প মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে যা শ্রম ইস্যুর সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্কিত। তবে এসকল প্রকল্পের বেশিরভাগেরই উদ্দেশ্য কর্মসৃজন বা দক্ষতা উন্নয়ন করা।
এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় কমপক্ষে ১৫টি প্রকল্প রয়েছে যা শ্রম ইস্যু বা শ্রমিক সংক্রান্ত। দু-একটি প্রকল্প যেমন- চা শ্রমিক জীবনমান উন্নয়ন, ইম্প্রুভিং ওয়ার্কি কন্ডিশন ইন রেডিমেট গার্মেন্টস, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা প্রকল্প ছাড়া বাকী সব প্রকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত।

৫. উপসংহার
সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) কর্মসংস্থান বিষয়ে বলা হয়েছিল যে, দেশে প্রতিবছর গড়ে ২০ লক্ষ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। আশা করা যায় যে, এদের মধ্যে ১৬ লক্ষ মানুষের কাজের সুযোগ দেশেই হওয়া সম্ভব এবং বাকি ৪ লক্ষ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বাস্তবে এই প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়েছে, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ থেকে এটা দেখা যায় যে, দেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যাসরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। কারো কারো মতে এটা ১৪-১৬ শতাংশ। অন্য অনেকের হিসাব মতে, দেশে আসলে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি।
জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যমত সূচক হলো- কর্মসংস্থান। ‘শোভন কাজ’ বা উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিরও অংশ।বাংলাদেশের সামনে এটাই এখন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ। বিগত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে কর্মসংস্থান নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যনভিত্তিক তথ্যই শুধু নয় বরং এর গুনগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের দু’টি মন্ত্রণালয় শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে কাজ করে।পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ইত্যাদির সাথেও শ্রমিক স্বার্থ জড়িত। সুতরাং শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের নিরিখে জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ করতে গেলে কেবল সুনির্দিষ্ট দু’টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না, অন্য মন্ত্রণালয় বিশেষ করে ‘জনসেবা’ প্রদানের সাথে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়গুলির বাজেটও বিশ্লেষণ জরুরি।

এই বিবেচনাকে সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার নিরিখে নি¤œলিখিত দাবি উত্থাপন করা যেতে পারে:

মজুরি ও কর্মসংস্থান

  •  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার উপযোগী দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা। প্রযুক্তির পাশাপাশি শ্রম-নির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
  • শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেক্টর ও কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে (ক) প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, (খ) জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং (গ) গবেষণা কার্য পরিচালনায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
  • জাতীয় মজুরি কমিশন/নিম্নতম মজুরী বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ ও পূনর্গঠনে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা দরকার।
  • সকল শ্রমিকের নি¤œতম মজুরীর নির্ধারণ করা দরকার। পে-স্কেল, জিডিপি, মাথাপিঁছু আয় সুবিবেচনা নিয়ে নি¤œতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
  • অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি। প্রচুর নারী শ্রমিক গণপরিবহনে প্রতিদিন যাতায়াত করে। নারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। ট্যানারি সেক্টরের জন্য একটা নি¤œতম মজুরি নির্ধারিত আছে কিন্তু তা কার্যকর নয়, এটি কার্যকর দরকার।
  • নারী কৃষকের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। মৌসুমী শ্রমিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে বিধিবিধান প্রণয়ন ও তাদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকদেরকে বীজ উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণ এবং কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা।
  • সকল শিল্প কারখানাকে যুগউপযোগী করা, রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোকে চালু করা এবং সেগুলোর আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
  • শ্রম অধিকার সম্পর্কিত এসডিজি’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে শ্রমজীবীদের সম্পৃক্ত করা।

বীমা ও পেনশন

  • কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, পূনর্বাসন ও সামগ্রিক সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য একটি ‘কেন্দ্রীয় এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কীম’ চালু করা দরকার।
  • ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান মালিকের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান সহজসাধ্য করার উদ্দেশ্যে স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য ‘সামাজিক বীমা স্কিম’ চালু ও বাজেটে তার জন্য বরাদ্দ রাখা।
  • তরুণ যুব ও যুবাদের কর্মসংস্থান নিশ্চতকরণে ‘ইন্স্যুরেন্স সেবা ও সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা মধ্য দিয়ে সকল এনজিও ও ব্যক্তি মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীর জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

ক্ষতিপূরণ

  • শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য স্থায়ী মানদন্ড তৈরি এবং তা কার্যকর করা। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে (লস অব ইয়ার আরনিং) মৃত্যুর সময় থেকে চাকরির মেয়াদকাল পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট, মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা দরকার। শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা আশু প্রয়োজন।
  • ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ এবং তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা দরকার।

রেশনিং

  • শ্রমিকদের জন্য রেশনিং/ন্যায্য মূল্যে দ্রব্যাদি ক্রয়ের সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেট সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

  • শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। মালিক কর্তৃক শ্রমিকের স্বাস্থ্য-বীমা চালু করা প্রয়োজন।
  • শ্রমবিষয়ক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট স্থাপন করত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ ও তা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা।
  • শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা।
  • শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রসমূহকে কার্যকর করা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা

  • প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের সকল ধরণের ‘অধিকার’ নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো বেশি তৎপর হতে হবে।
  • নারী শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসে বিশেষ মনিটিরিং সেল গঠন করা যেতে পারে।
  • বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে।