জাতীয় বাজেট হোক দলিতবান্ধব ২০১৯

শবনম ফেরদৌসী
এবিএম আনিসুজ্জামান

ভূমিকা
আভিধানিকভাবে দলিত বলতে বুঝায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে যারা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অনগ্রসর এবং সমাজের কাছেও প্রতিনিয়ত অবহেলিত ও অ¯পৃশ্য হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা কত এ ব্যাপারে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই; দেশে প্রায় ৬৫ লক্ষ দলিত জনগোষ্ঠীর বসবাস। এদের প্রায় অধিকাংশই ভূমিহীন। অনেক জায়গায় স্থানীয় সেলুন, চায়ের দোকান, রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করতে পারে না; এমনকি মন্দির, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক আচারঅনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নেই তাদের। দলিত পরিচয়ে শিশুরা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে থাকে বৈষম্যের শিকার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করার ফলে প্রায়ই বিভিন্ন রোগব্যাধিতে ভুগে বহু মানুষ। আবার সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি ক্লিনিকেও তাদের অ¯পৃশ্যতার শিকার হতে হয়। উপরন্তু চরম দরিদ্রতার কারণে চিকিৎসা নিতে পারে না অনেকেই। এদেশের সংবিধানে যেখানে সকল নাগরিককে সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রদানের কথা বলা হয়েছে,সেখানে প্রতিনিয়ত সেই অধিকার ও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এদেশেরইএকটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী।
অনগ্রসর এই দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাই প্রয়োজন যথোপযুক্ত বাজেট বরাদ্দ। যদিও প্রতি বছর আমাদের জাতীয় বাজেটে দলিত ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু সেই বাজেট প্রণয়নে দলিত জনগোষ্ঠীর কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। তাছাড়াবাজেট বরাদ্দের সময় এই জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেমন, বেদে ও হিজরা জনগোষ্ঠীর সাথে একত্রিত করে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়। ফলে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকৃত বরাদ্দ নিরুপন করা যায় না।

তবে সরকারী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারে দলিত সম্প্রদায়ের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভূক্তকরা হয়েছে। কিন্তু বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে এ অন্তভর্ূিক্তর বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি ।

সপ্তমপঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও দলিত জনগোষ্ঠী
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে, “ধোপা, মুচি, নাপিত ও অনুরূপ অন্যান্য সনাতনী নি¤œবর্ণের মানুষজনের মতো সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে ষষ্ঠ পরিকল্পনায় এই সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ধারার সাথে যুক্ত করার বিভিন্ন কৌশল অনুসরণের মাধ্যমে তাদের অধিকার সুরক্ষার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও সেই সাথে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সামাজিক বৈষম্য থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে আইনগত বিধান তৈরি করা হয়। তবে জনপ্রশাসনের সামর্থে ঘাটতি ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অনুপস্থিতি সরকারি নীতির সঠিক বাস্তবায়নকে নানাভাবে বিঘিœত করে। তাই সপ্তম পরিকল্পনায় জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।”(সূত্র: ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ২০১৫/১৬-২০১৯/২০, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল ও দলিত জনগোষ্ঠী
বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৫ তে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৫ এর ২.৮ অনুচ্ছেদ (অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা) এর ২.৮.২ ধারায় উল্লেখ আছে, “অন্যান্যদের ন্যায় দলিত পরিবারগুলোরও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে উপকার লাভের সমান সুযোগ রয়েছে। অধিকন্তু, দলিতদের জন্য জেলা শহরে সুইপার কলোনী নির্মাণ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতে ১০০ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।” (সূত্র: জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল: বাংলাদেশ- জুলাই, ২০১৫, পরিকল্পনা কমিশন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)

এসডিজির আলোকে দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নীতিমালা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)- এর মূলমন্ত্র হচ্ছে কাউকে পিছনে রাখা যাবে না। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বাংলাদেশে যেখানে বিস্তৃত পরিসরে কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেখানে দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী তথা দলিত জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা তথা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কখনোই সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এসডিজি’র বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য। শুধু তাই নয়, সরকার দেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) এসডিজি’র কতিপয় লক্ষ্যকে সংযুক্ত করেছে। এসডিজি’র আলোকে দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশমালা তুলে ধরা হলো:

অভীষ্ট সুপারিশ

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং দলিত সম্প্রদায়
সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দলিত শব্দটি ব্যবহার করে। সেখানে দলিত উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এই সম্প্রদায়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে দলিত হিসেবে বহু আগে থেকেই স্বীকৃত হলেও আমাদের দেশে ২০০৮ সাল থেকেই মূলত দলিত শব্দটি পরিচিতি লাভ করে। তখন থেকেই দলিত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
‘…..সংখ্যালঘু, আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠী এবং দলিতদের প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থার অবসান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের জন্য চাকুরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’ -নির্বাচনী ইশতেহার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০০৮ (অনুচ্ছেদ ১৮.১)

বিভিন্ন সরকারি নীতিমালাসমূহে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারের উল্লেখ থাকায় আমরা সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । আমাদের প্রত্যাশা থাকবে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর সঠিক প্রতিফলিত থাকবে।

জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত বরাদ্দ
জাতীয় বাজেটে সমাজসেবা অধিদপ্তর-এর আওতায়‘বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির’ বরাদ্দবিবরণ নিম্নরূপ

:

*তথ্যসুত্র: সমাজসেবা অধিদপ্তর-এর ওয়েবসাইট

বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব কর্মসূচী ভিত্তিক বাজেট
সরকার কর্তৃক দলিত উন্নয়নে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জাতীয় বাজেটে নিরাপত্তা খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রদান অন্যতম প্রধান। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক দলিত, হরিজন, বেদে উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত প্রকল্প প্রায় ৪১ টি জেলায় শিক্ষাবৃত্তি, যুব প্রশিক্ষণ ও বয়স্কভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২৯ মে, ২০১২ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে একটি নির্দেশনা প্রদান করেন। দলিত শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ ভর্তি কোটা এবং হরিজনদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরিতে ৮০% কোটা বরাদ্দ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ¯েপশাল এরিয়া ফর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাশাপাশি দলিতদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে নিজস্ব কর্মসূচিভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ হয়েছে। যেমন, শহরাঞ্চলের দলিত জনগোষ্ঠীর আবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীন ধলপুর, সূত্রাপুর এবং দয়াগঞ্জে সুইপার কলোণী নির্মাণের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ২০ কোটি ৯৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। দলিত আবাসনের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কয়েকজন দুর্নীতির ফলে ঐ আবাসন প্রকল্পটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। (সূত্র: দৈনিক সমকাল, ১২ এপ্রিল, ২০১২)।
পরবর্তীতে জাতীয় বাজেটের আবাসন খাতে দলিত, বেদে ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১১-১২ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উল্লেখিত জনগোষ্ঠীর আবাসন খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়। সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন কলোনিতে কিছু বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং কিছু ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও গত ১ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সরকার কনস্ট্রাকশন অব কিøনার কলোনি অব ঢাকা সিটি করপোরেশন এর প্রকল্পের আওতায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ১ হাজার ১৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী ঢাকা শহরের কলোনিগুলোতে বসবাসরত দলিত জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্য সমাধানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভবন নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২ অক্টোবর ২০১৩ (একনেক-এর সিদ্ধান্ত)।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১,৭৭৩,০০০,০০০ (একশত সাতাত্তর কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা) আবাসন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২২,০০০,০০০ (বাইশ কোটি টাকা ৬ তলা বিশিষ্ট ৩টি আবাসন ভবন নির্মানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রতিটি ভবনে ৪৮টি ফ্লাট আছে। বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী ঢাকা শহরের কলোনিগুলোতে বসবাসরত দলিত জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্য সমাধানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভবন নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ২৩১ কোটি ৪২ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪ তলা বিশিষ্ট ৭টি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। (সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৫ এপ্রিল ২০১৯)

দলিত জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি প্রদান করে বাজেট বরাদ্দ আবশ্যক
কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে দলিত শব্দটি উল্লেখ না করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়, যা দলিত-হরিজন-বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।অর্থাৎ সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় বরাদ্দকৃত বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নামে যে বাজেট বরাদ্দ আছে, তা বন্টন করা হচ্ছে সমাজের সকল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে। কেননা, অনগ্রসর শব্দটি বলতে দলিত ছাড়াও মূলধারার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকেও বুঝায়। অর্থাৎ মূলধারার দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এই খাত থেকেই বন্টন করা হবে।একই সাথে দলিতদের যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই, অর্থাৎ তারা তালিকাভুক্তনয়, কাজেই মূলধারার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেই দলিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসব বিশেষ সুবিধা ভোগ করার চেষ্টা চালানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, দলিতরা বর্তমান বাজেটে পূর্বের তুলনায় অধিক বরাদ্দ পেলেও প্রকৃতপক্ষেই কতখানি সুবিধা ভোগ করতে পারবে সে বিষয়ে যথেষ্ট আশঙ্কার রয়েছে।কাজেই অতিসত্বর সরকারি নীতিমালা এবং বাজেটে ‘দলিত’ শব্দটি বহাল রেখে দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখার জন্য সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সুপারিশ ও করণীয়:

  • সংবিধান অনুযায়ী সকল মানুষকে সমান মর্যাদা প্রদান এবং সরকারি সকল নীতিমালায় দলিত ও বঞ্চিত সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। বাজেট প্রনয়ণ প্রক্রিয়ায় দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
  • দলিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।
  • বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য আদমশুমারীতে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে গননা করতে হবে। যাতে করে এই জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। সংখ্যানুপাতের ভিত্তিতে উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে।
  •  বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম দলিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বৃদ্ধিমূলক কাজে সহায়তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।
  • প্রকৃত দলিতরাই যাতে বাজেটের বরাদ্দকৃত সুবিধা পায় সে জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করা এবং একটি মনিটরিং-এর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন সরকারি সেবায় উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখতে হবে।
  • পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে যাদের চাকুরী আছে বা নাই, এটা বিবেচনায় না নিয়ে সকলকে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ দলিতদের সবার চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং অস্পৃশ্যতাও নি¤œআয়েরকারণে কলোনীর বাইরে তাদের বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।
  • রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও বেতন-
    ভাতা বৃদ্ধির জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।