প্রাক বাজেট মত বিনিময় সভা, রাজশাহী ২০১৯

তারিখ: ২৭/০৪/২০১৯

আয়োজনে: পরির্বতন রাজশাহী

আঞ্চলিক বরাদ্দ বৈষম্য কমাতে চাই জন অংশ্রগ্রহনমূলক বাজেট প্রনয়ণ প্রক্রিয়া। জন অংশ্রগ্রহনমূলক প্রক্রিয়াতে বাজেট প্রনীত না হওয়ায় অনেক সময় উন্নয়ন কার্যক্রম জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। বাজেট প্রনয়নে জনগণের অংশগ্রহন থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন রাজশাহী জেলা কমিটির আয়োজনে প্রাক বাজেট মতবিনিময় সভা ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় এস.কে.ফুড ওয়াল্ডে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন কমিটি রাজশাহীর সদস্য সচিব জনাব ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা পরিষদ জেলা সভাপতি কল্পনা রায়, জেলা পরিষদ সদস্য জয়জয়ন্তি সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন জেলা কমিটির সদস্য ও পরির্বতনে সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রিপন।

ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী মতবিনিময় সভায় বলেন, বাজেট প্রনয়নে জনগণের অংশগ্রহন অত্যন্ত প্রয়োজন। জনসাধারনের ভ্যাটের টাকায় দেশ চলে, চলে সরকার। সেই জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে বাজেট করতে হবে। রাজশাহী লোকাল উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে বাজেট করতে হবে। ধনীদের সুযোগ সুবিধার জন্য বাজেট হওয়া যাবে না।আমাদের দেশের বাজেট হয় উল্টা নিয়মে ধনীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। এই অনিয়ম পরির্বতন করার জন্য গনতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর জন্য বাজেট প্রনয়ণ প্রয়োজন। আমলা নির্ভর বাজেটে কখনই সাধারন জনগনের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। আমলা নির্ভর বাজেটে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যের পরির্বতন হয় না। বেশীর ভাগ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য মানুষের অংশ্রগ্রহনের মাধ্যমে বাজেট প্রনয়ণ প্রয়োজন। চাহিদার নিমিত্তে বাজেট প্রনয়ণ হলে সাধারন জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব। আতি মাত্রায় চরম বৈষম্য কাটিয়ে উঠার সময় এসেছে।
কলাম লেখক জিয়াউদ্দিন রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন কমিটির সাথে বর্তমানে ৪০টি জেলা সম্পৃক্ত বাজেট প্রক্রিয়ার সাথে গণমানুষের অংশগ্রহন জরুরী। ইউনিয়ন, পৌরসভা, জেলা পরিষদে বাজেট করতে সকল প্রশাসনকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে।সকল প্রসাসনিক লেয়ার একসাথে কাজ করলে প্রতিফল পাওয়া যাবে। সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক কর্মী মিনহাজ উদ্দিন বলেন,নতুন বাজেট হওয়া উচিত সকল নির্যাতন প্রতিরোধ বাজেট। রাজনীতি কালচার বদলানো দরকার। সমাজের পরির্বতন প্রয়োজন। তোষামোদি আমাদের রাজনীতিবিদরা পছন্দ করেন। তোষামোদির জন্য আসল কথাই মন থেকে হারায় ফেলে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। কথায় বেশী নয় কাজ করে দেখাতে হবে। রাজনীতিবিদদের সচেতন হতে হবে।

সাংবাদিক শামসুন্নাহার মিনা বলেন, শিল্প কারখানা স্থাপন প্রয়োজন। আগামীর বাজেটে নারী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের চাহিদা সংসদে তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষনের জন্য বাজেটে ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেমন: রাজশাহীর টমেটো, পান, আম ও রেশম বাঁচাতে হবে। এই বাজেট তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

উন্নয়ন কর্মী ফাতেমা সরকার বলেন, জনবান্ধব বাজেট করতে হলে জনগণকে সাথে নিয়ে করতে হবে। স্বজন প্রীতি রোধ করতে পারলে কিছু কাজ হবে। কৃষি ভূর্তুকি বাড়াতে হবে। কৃষি পণ্যের বিমা চালূ করতে হবে। নাহলে কৃষক মারা যাবে।
জেলা পরিষদ সদস্য জয়জয়ন্তি সরকার বলেন,ক্ষমতার উৎস জনগন। বাজেট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আমলাতান্ত্রিক। আমরা জনপ্রতিনিধি কিন্তু জনগণের জন্য কিছু করতে পারছি না। চেয়ারম্যান সচিব ঠিক থাকলে সব বরাদ্দ আছে উপর থেকে চাহিদার ধার ধারে না। যে নামে বরাদ্দ আছে তার কোনো চাহিদায় নাই কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ আসেনা। আমলারা যা পাঠাচ্ছে তাই হচ্ছে কিন্তু জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে না।স্বজন প্রীতি রোধ করতে না পারলে স্বচ্ছ বাজেট প্রনয়ণ, বন্টন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হবে।

এহিলা পরিষদ সভাপতি কল্পনা রায় বলেন, নারী বান্ধব বাজেট করতে হবে। নারীর কর্মসংস্থান করতে হবে। আদিবাসী, প্রতিবন্ধি নারীদের আলাদা করে কর্ম পরিকল্পনার বাজেটে রাখতে হবে। কৃষকদের জন্য পৃথক বাজেট রাখতে হবে।

সুপারিশ মালা:

  • নারী উদ্যোক্তাদের রাজস্ব বাজেটে বিশেষ ছাড় দিতে হবে।
  • দারিদ্র বান্ধব কর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে।
  • দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
  • কৃষি খাতে ভূর্তুকি দিতে হবে।
  • আঞ্চলিক বরাদ্দ বৈষম্য দূর করতে হবে।
  • ধনীদের সম্পদের ওপর সঠিক কর আদায় করতে হবে।

হাসিবুল হাসান
সমন্বয়কারি
পরিবর্তন