বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জাতীয় বাজেট ২০২০-২১: শ্রমজীবীদের অবস্থান ২০২০

১১ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার, ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। ঘোষিত বাজেটে শ্রমজীবী-পেশাজীবীর স্বার্থরক্ষায় বরাদ্দসহ কৌশলগত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করার প্রয়াস এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে প্রায় ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ লোক অর্থনৈতিক কর্ম-কান্ডের সাথে জড়িত। এই সুবিশাল জনগোষ্ঠিই দেশকে সচল রাখার মূল শক্তি। সুতরাং অর্থনীতিসহ দেশের যেকোন উন্নয়নে এদের অংশগ্রহণ না থাকলে তাকে উন্নয়ন বলা সঠিক হবে কি না এমন প্রশ্ন করা যেতেই পারে। পিছনের অনেকগুলো বছর থেকে এসব শ্রমজীবী-পেশাজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া মিছিল-মিটিং, সভা-সেমিনারে উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিগত সময় থেকে এ বছরের বাজেটেও তার প্রতিফলন তেমন একটা দৃশ্যমান নয়। বিশ্বব্যাপি কোভিড পরিস্থিতির কারণে স্বাধীনতার পরবর্তী যেকোন বাজেটের তুলনায় এবছরের বাজেটে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। যার প্রমাণ বাজেট বক্তিৃতায়ও পাওয়া যায়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে কোভিডের কারণে প্রায় ১৪ লক্ষ শ্রমিক কর্ম হারাবে।

 

সুতরাং, এসব শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবী ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোন বরাদ্দ বা কৌশল গ্রহণ করা হয়নি।

 

স্বাস্থ্য খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কিন্তু এসব থোক বরাদ্দ থেকে শ্রমজীবী আসলেই কিছু পাবে কি না তা সন্দেহ রয়েছে।

 

কর্মসংস্থান সৃষ্টির অংশ হিসেবে শিল্প ও সেবা খাতের মালিকদের ৩০ হাজার এবং কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মালিকদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। কিন্তু এমনটি কখনও দেখা যায়নি যে এসব ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মজুরির বিষয় শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়েছে।

 

এবারের বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা ঋণ হিসেবে দেয়া হবে ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য। বাস্তবতা হচ্ছে- কর্মহীন, বেকার বা শ্রমজীবীর পক্ষে এ ঋণ যেমনি সহজলভ্য নয় তেমনি এর প্রয়োগ করে আত্ম-পরিবর্তন আনায়নে সক্ষমতার প্রমাণও তেমন নেই।

 

১৫ লক্ষ লোকের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের বিষয়ে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ লক্ষ ২৮ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বাকিদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কিন্তু প্রকৃতঅর্থে এ প্রশিক্ষণ শ্রমজীবী-পেশাজীবীর কাছে পৌছায় কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে- তবে এ প্রশিক্ষণ কতটা যুগোপযোগি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ অবশ্যই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে হবে।

 

সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, বিধবাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে শ্রমজীবীর জন্য কোন বরাদ্দ নেই।

শ্রমজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবী জাতীয় পেনসন স্কিম, সামাজিক সুরক্ষা বীমা, আর্মি রেটে রেশন ও আবাসন সুবিধার বিষয়সমূহ পুরাপুরি অবহেলা করা হয়েছে এবারের বাজেটেও।

 

চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সরকারী কর্মচারীদের পরিবারের জন্য ৩২২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বেসরকারি খাতের শমিক-কর্মচারীরা করোনায় আক্রান্ত বা অন্য কোন কারণে চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাদের পরিবারের জন্য কোন কিছু রাখা হয়নি। বিষয়টি এমন যে- বেসরকারী খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের উন্নয়নে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনরকম কোন ভূমিকা পালন করে না।