শ্রমিকের উন্নয়নে দাবীসমূহ ২০১৯

মজুরি ও কর্মসংস্থান

  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার উপযোগী দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা। প্রযুক্তির পাশাপাশি শ্রম-নির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
  • শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেক্টর ও কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে (ক) প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, (খ) জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং (গ) গবেষণা কার্য পরিচালনায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
  • জাতীয় মজুরি কমিশন/নিম্নতম মজুরী বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ ও পূনর্গঠনে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা দরকার।
  • সকল শ্রমিকের নি¤œতম মজুরীর নির্ধারণ করা দরকার। পে-স্কেল, জিডিপি, মাথাপিঁছু আয় সুবিবেচনা নিয়ে নি¤œতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
  • অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি। প্রচুর নারী শ্রমিক গণপরিবহনে প্রতিদিন যাতায়াত করে। নারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। ট্যানারি সেক্টরের জন্য একটা নি¤œতম মজুরি নির্ধারিত আছে কিন্তু তা কার্যকর নয়, এটি কার্যকর দরকার।
  • নারী কৃষকের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। মৌসুমী শ্রমিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে বিধিবিধান প্রণয়ন ও তাদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকদেরকে বীজ উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণ এবং কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা।
  • সকল শিল্প কারখানাকে যুগউপযোগী করা, রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোকে চালু করা এবং সেগুলোর আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
  • শ্রম অধিকার সম্পর্কিত এসডিজি’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে শ্রমজীবীদের সম্পৃক্ত করা।

বীমা ও পেনশন

  • কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, পূনর্বাসন ও সামগ্রিক সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য একটি ‘কেন্দ্রীয় এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কীম’ চালু করা দরকার।
  • ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান মালিকের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান সহজসাধ্য করার উদ্দেশ্যে স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য ‘সামাজিক বীমা স্কিম’ চালু ও বাজেটে তার জন্য বরাদ্দ রাখা।
  • তরুণ যুব ও যুবাদের কর্মসংস্থান নিশ্চতকরণে ‘ইন্স্যুরেন্স সেবা ও সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা মধ্য দিয়ে সকল এনজিও ও ব্যক্তি মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীর জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন

ক্ষতিপূরণ

  • শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য স্থায়ী মানদন্ড তৈরি এবং তা কার্যকর করা। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে (লস অব ইয়ার আরনিং) মৃত্যুর সময় থেকে চাকরির মেয়াদকাল পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট, মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা দরকার। শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা আশু প্রয়োজন।
  • ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ এবং তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা দরকার

রেশনিং

  • শ্রমিকদের জন্য রেশনিং/ন্যায্য মূল্যে দ্রব্যাদি ক্রয়ের সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেট সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

  • শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। মালিক কর্তৃক শ্রমিকের স্বাস্থ্য-বীমা চালু করা প্রয়োজন।
  • শ্রমবিষয়ক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট স্থাপন করত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ ও তা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা।
  • শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা।
  • শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রসমূহকে কার্যকর করা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।