জনঅংশগ্রহণমূলক ছায়া বাজেট সংসদ- ২০১৮

 

৪-৬ মে, ২০১৮ । শুক্র-রবি > সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা > ভেন্যু: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় প্রেক্ষাপট
জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯ বিভিন্ন কারণেই গুরুত্বপূর্ন। জাতীয় নির্বাচনের এই বছরে আগামী অল্প ক’দিনের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার একেবারেই দ্বার প্রান্তে বাংলাদেশ। মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত¦রান্বিত করা সরকারের জন্য অতীব চ্যালেঞ্জিং। তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং সার্বজনীন প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৌশল নির্ধারণ এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য হ্রাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় পরিসেবায় বাজেট বৃদ্ধির এজেন্ডা একটি জনপ্রিয় দাবি। উল্লেখ্য প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার আনুক্রমিক হারে বড় হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা হতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। অথচ ব্যয়ের গুণগত মান ও বাজেট যথাযথ ব্যবহারে দক্ষতার অভাব এখনো একটা বড় সমস্যা।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া নিয়ে সামনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ। আমাদের জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগ এখনও পর্যন্ত ২৮ শতাংশ। ২০২১ সালে এ হার ৩৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এ টার্গেট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশ। আর সরকারি খাতে ৬ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ ৮ শতাংশ করতে হলে চাই বাড়তি সম্পদ। এ জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বর্তমানে জিডিপির ১০.৫ থেকে ১১ শতাংশ রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। বছরে এ হার ১৪ শতাংশে নিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমিয়ে আনা। দক্ষ কর্মী সংখ্যা বাড়ানো আরেকটি শর্ত। বর্তমানে মোট শ্রমিকের মাত্র ২৫ শতাংশ দক্ষ। উন্নত ও উন্নয়নশীল যে কোনো দেশে এ হার অনেক বেশি। কিন্তু উৎপাদনশীল খাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ অর্জন করতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য পুরোপুরিভাবে দূর করতে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অনেক দেশের জন্যই কঠিন হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, আমাদের দেশে দারিদ্র্য কমছে ঠিকই, কিন্তু যে গতিতে কমছে, সেখানে এক ধরনের ধীরাবস্থা তৈরি হয়েছে। যেমন: ২০১০ সালে যেখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যা ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু দারিদ্র্য দূরীকরণের গতি মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। সেক্ষেত্রে আমরা যদি দারিদ্র্য দূরীকরণের হারের মধ্যে একটা গতিময়তা আনতে না পারি, তাহলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্পর্কিত এসডিজির সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। প্রবৃদ্ধির সংখ্যাগত দিক থেকে আমরা খুব ভালো করছি। কিন্তু প্রবৃদ্ধির যে গুণগত দিক, যেমন প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মাঝে সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা তা আরো আলোচনার দাবি রাখে। বর্তমানে উচ্চবিত্তদের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। বিবিএসের খানা জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে উপরের ৫ শতাংশ লোকের হাতে মোট দেশজ আয়ের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ রয়েছে, যা ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে নিচের ৫ শতাংশ লোকের আয় ২০১০ সালের শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ২০১৬ সালে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। আয়বৈষম্য থেকে তৈরি হয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য। আয়বৈষম্য থেকে পুরো সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়, তা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সহ মৌলিক সেবাখাতের বাজেট সংকুচিত হবে, না কি নতুন অর্থায়ন হবে সে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি করছে যা দরিদ্র মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বলাবাহুল্য রাজস্ব ঘাটতি সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি সরকারের ক্রমবর্ধমান আভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। চরম দারিদ্র হ্রাসে সরকার সফলতার দাবি করলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও টেকসই কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ও পেশায় ধাবিত করছে।

এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, নারী,দলিত, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন বাজেটসহ জাতীয় পরিকল্পনায় অংশভাগিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ কাঠামো এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়গুলি বিস্তারিত পরিসরে আলোচনায় আসা দরকার। সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি যৌথভাবে আগামী ৪-৬ মে, ২০১৮ (শুক্র-রবি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের অংশগ্রহণে ৪র্থ বারের মতো ‘জন-বাজেট সংসদ ২০১৮’ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

যেহেতু প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের আনুষ্ঠানিক মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই, তাই জন-বাজেট সংসদের মতো বিকল্প প্লাটফর্ম -এর মাধ্যমে জনগণের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়ক মতামত বাজেট বিষয়ক সংসদীয় ককাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হবে। এটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত আয়োজন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জন-বাজেট সংসদের উদ্দেশ্য
১. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, তরুণ, নারী, দলিত, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন বাজেটসহ জাতীয় পরিকল্পনায় অংশভাগিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ কাঠামো এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়গুলি বিস্তারিত পরিসরে আলোচনা করা ও নীতিনির্ধারকবৃন্দে দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রতিশ্রুতি আদায় করা।
২. প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করা এবং সরকারকে প্রভাবিত করা।

কাক্সিক্ষত ফলাফল
ঢাকা ঘোষণা ২০১৮ এর মাধ্যমে জনসাধারণের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়ক প্রস্তাবনা ও দাবিসমূহ মাননীয় সংসদসদস্যবৃন্দের কাছে তুলে দেওয়া হবে। এই দাবিনামা সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে পেশ করা হবে। ককাসের সদস্যবৃন্দ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

সংসদের অংশগ্রহণকারী
ঢাকাসহ সারাদেশের ৪০টির অধিক জেলা থেকে প্রায় ১০০০ অংশগ্রহণকারী জন-বাজেট সংসদে যোগ দেবেন। সাধারণ পেশাজীবী, শিক্ষার্থী-তরুণ, নারী, দলিত, আদিবাসী, প্রতিবন্ধীসহ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জনগোষ্ঠী, গবেষক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ট্রেড ইউনিয়নকর্মী এখানে উপস্থিত থাকবেন ও মতামত প্রদান করবেন।

ফরমেট/ সম্ভাব্য অনুষ্ঠান বিবরণী
দুইদিনব্যাপী সেক্টরভিত্তিক পরামর্শসভা ও তৃতীয় দিনে উদ্বোধনী, সমাপনীসহ ভিন্ন ভিন্ন ফরমেটের ইন্টারঅ্যাক্টিভ কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

  • সেক্টরভিত্তিক পরামর্শসভা:
    দীর্ঘদিনের দাবি আর নাগরিক সমাজের প্রত্যাশার ফলস্বরুপ বিগত কয়েক বছর ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও বিশেষ কিছু সংগঠনের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনা করে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। জন-বাজেট সংসদের আগে বিভিন্ন সেশনের আয়োজক সংগঠন সেক্টরের অংশীভাগীদের সাথে আলোচনা করে সেক্টরের বিষয়ভিত্তিক দাবিসমূহ পরামর্শসভার মাধ্যমে দাবি তুলে আনা হয়। দাবি বা সুপারিশসমূহের পরিশীলিত রুপদান এ সভাগুলোর উদ্দেশ্য। জন-বাজেট সংসদ ২০১৮-এর পূর্বের দুইদিন জন-গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যারা সেক্টরভিত্তিক কাজ করছেন সেক্টরের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত নাগরিক বা সংগঠনের সাথে আলোচনা করে দাবিসমূহ চিহ্নিতকরণ, পরিশীলন ও দাবিসমূহের প্রাধাণ্য নির্ধারণ করা হবে। মোট ১২টি বিষয় নিয়ে ১২টি পৃথক পৃথক পরামর্শষভা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হলো: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, তরুণ, নারী, দলিত, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, স্থানীয় সরকার, ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট এবং বাজেট কাঠামো ও জন-অংশগ্রহণ।
  • উদ্বোধনী ও প্রথম অধিবেশন (জাতীয় বাজেট, জনঅংশগ্রহণ ও বিকেন্দ্রীকরণ):
    জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণের কথা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন দেখা যায় না। অনুরূপভাবে জেলা বাজেট প্রবর্তণের মাধ্যমে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণের একটি পথরেখা তৈরি হলেও তা পরিণত হওয়ার আগেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। এ ফলে এক দিকে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণের ধারা ব্যাহত হয়েছে অন্যদিকে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে। সর্বোপরি বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সুশাসনের বিষয়টি আড়ালে রয়ে গেছে। এ অধিবেশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ ও বাজেট বিকেন্দ্রীকরণসহ অর্থনৈতিক সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। এ অধিবেশনের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ করে অঞ্চল ভিত্তিক চাহিদা সংগ্রহ করা হবে এবং নীতি নির্ধারক মহলকে অবহিত করা হবে।
  • সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় বাজেট (স্বাস্থ্য-শিক্ষা)
    সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক পুঁজির বিকাশ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য নি¤œ মধ্যম থেকে মধ্যম আয়ের পথ পরিক্রমায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী বিষয়। এটি অনস্বীকার্য যে শিক্ষা হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পদ সৃষ্টিকারী একটি প্রভাবক। তেমনি সকল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা একটি শক্তিশালী শ্রমশক্তি তৈরি এবং তা পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সামাজিক অবকাঠামোর আওতায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গের মতামত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি সামগ্রিক পরিস্থিতির চিত্র আলোচনা থেকে বের করে নিয়ে আসাই এ কর্ম অধিবেশনের প্রত্যাশিত ফলাফল।
  • কৃষি-শ্রম ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট (কৃষি,শ্রম ও কর্মসংস্থান)
    বাংলাদেশ এখনও কৃষিভিত্তিক দেশ এবং কৃষি ক্ষেত্রে শ্রম নিয়োজনের হার শিল্পের তুলনায় কম নয়। কৃষি-শিল্প নির্বিশেষে শ্রমিকের কর্ম পরিবেশ তথা শোভন কাজ দেশের উৎপাদনশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কর্মক্ষেত্রে শোভন কাজের বিকাশ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে। এ বিবেচনায় এ অধিবেশনটি তিনটি (কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান) বিষয়ের আলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে। কৃষি বিষয়ক আলোচনায় বাজার ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র উৎপাদকের নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য, কৃষি উপকরণ ও ভর্তুকিসহ যথাযথ প্রযুক্তির ব্যবহার- এর ওপর আলোকপাত করা হবে। এছাড়া কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি এবং ভূমির অধিকারসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে তাদের অবাদ প্রবেশাধিকার- এ বিষয়গুলো বিশেষভাবে আলোচিত হবে। অবস্থান আর্থ-সামাজিক সমস্যা, শ্রম ও কর্মসংস্থান উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রে শিল্প খাতকে কেন্দ্র করে আলোচনা বিবর্তিত হবে। এক্ষেত্রে শ্রম বিষয়ক আলোচনায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা- এ তিনটি শোভন কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর বিশেষ আলোকপাত করবে। কর্মসংস্থান বিষয়ক আলোচনায় বিশেষ জনগোষ্ঠী যেমন নারী প্রতিবন্ধী ও যুবসমাজকেই প্রাধাণ্য দেয়া হবে। তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সদ্ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট (দলিত, আদিবাসী, জেন্ডার, প্রতিবন্ধীতা)
    যদিও বাজেটে নারীর অন্তর্ভুক্তি রয়েছে এবং জেন্ডার বাজেটের ধারা চলমান, তথাপি নারীর কৌশলগত চাহিদার বিষয়টি এখনও সুস্পষ্টভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। কেননা নারী উন্নয়ন নীতির আলোকে বাজেট প্রণয়ন করা হয়না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে দলিত আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ কম-বেশি থাকলেও বরাদ্দের পরিমাণ আনুপাতিক হারে অপ্রতুল। এদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে হলে বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে তাদের চাহিদার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোর পুঙ্খানুুপুঙ্খ আলোচনার মাধ্যমে নারী আদিবাসী দলিত ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর বিশেষ ও কৌশলগত চাহিদাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং এ বিষয়ে একটি ঐকমত্যে আসা এ অধিবেশনের প্রত্যাশা।
  • সমাপনী অধিবেশন
    জন-বাজেট সংসদ মূলত: আঞ্চলিক বাজেট শুনানী এবং গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন জেলা কমিটির বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের একটি সম্মিলিত চূড়ান্ত রুপ। দিনব্যাপী ছায়া-বাজেট সংসদের বিভিন্ন অধিবেশনের মধ্যদিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিভিন্ন পেশা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের আলোচনাক্রমে যেসকল সুপারিশ ও দাবি উঠে আসবে তা চূড়ান্তভাবে এই অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে। যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঢাকা ঘোষণা’ নামে জড়িত সকল পক্ষের জন্য প্রকাশ করা হবে।

ভেন্যূঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/ জাতীয় প্রেস ক্লাব
সিনেট হল, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন
স্পেশাল সম্মেলন কক্ষ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন
মিটিং রুম, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন

আয়োজক
জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস
সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন

সহ-আয়োজক
অ্যাকসেস্ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্), গণসাক্ষরতা অভিযান, ফর দ্যা উইম্যান বাই দ্যা উইম্যান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি), জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট, কাপেং ফাউন্ডেশন, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), কর্মজীবী নারী, লোকাল ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (এলআইএফডি), মহিলা পরিষদ, নাগরিক উদ্যোগ, পিপলস্ হেলথ মুভমেন্ট (পিএইচএম), এসপিইডি, সেইফটি এন্ড রাইটস্ সোসাইটি, ইউনিস্যাব, তারুণ্যের বাজেট আন্দোলন

স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার/ সহযোগী
সমমনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংস্থাসমূহ: একশনএইড বাংলাদেশ।