ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত ও করের চাপ ২০১৮

তিন বছর আগের ঘটনা। আমার ছোট ছেলেটা একবার ঠান্ডায় বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ল্যাবএইড, পপুলার হাসপাতাল যাওয়ার সাধ্য আমার নেই তাই শিশু হাসপাতালই আমার ভরসা। কিন্তু কর্মচারীদেও ঘুষ দিয়েও বেড না পাওয়ায় ঠান্ডা নিয়ে মেঝেতে একরাত কাটাতে হয়। এতে বাচ্চাটি আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। অগত্যা নিরুপায় হয়ে শ্যামলী এলাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করাই। মাত্র ৪দিনে বিল গুনতে হয় ১৮হাজার টাকা।
মাননীয় আদালত,
আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমি বেসরকারি একটি কম্পানিতে চাকুরি করি। আমার একটি টিআইএন নম্বর আছে এবং আমি বছরান্তে নির্দিষ্ট পরিমানে আয়করও দেই। এছাড়াবছরে কত টাকারপরোক্ষ কর দেই তাকখনোহিসেবকরে দেখিনি। তবেএটাহলফকরেবলতেপারি যে, আয়কর অপেক্ষাভ্যাটেরপরিমানকয়েকগুন বেশি। কারণআমিআমারবাসারপাশেরএকটিসুপারশপ থেকে কেনাকাটাকরি যেখানেপ্রায়প্রতিটিপণ্যে ভ্যাটদিতে হয়। এছাড়া ওষুধ, ডায়াগোনোসিস থেকে শুরুকরে দুইঈদসহবিভিন্নউৎসব-পার্বণে অতিরিক্ত কেনাকাটায়ভ্যাট দেই। এমনকি ট্রেনে বাড়িযাওয়ার ক্ষেত্রেওসরকারকেভ্যাট দেই।
আমিএকটিভাড়াবাসায় থাকি। বাড়িমালিকফিবছরেবাড়িভাড়াবাড়ায়, বলে যেতারনাকিপ্রচুর কর দিতে হয়। তিনি এই বাড়তিটাকা কৌশলেআমাদেরকাছ থেকে তুলে নেন। আমরা ভাড়াটিয়ারা তার সাথে পারিনা, কারণভাড়াবাড়িএমনএকটিপণ্য যারচাহিদাঅনেক, জোগানেরতুলনায়। অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম প্রতিবছরবাড়ছে। পত্রিকামারফতজানতে পেরেছিশুধুমাত্র এ সরকারেরআমলেই ৮বার বিদ্যুতের দাম এবং ৭ বারগ্যাসের দাম বাড়ানোহয়েছে। এরফলেনিত্যপ্রয়োজনীয়পণ্য ও সেবারমূল্য বেড়ে গেছে।একসময় দেখতামবাজেটেরপরেচাল, ডাল, তেলের দাম দফায় দফায় বেড়ে যেত। অনুমানকরি, তেল-গ্যাসের দাম বছরে ২/৩ বারবাড়ারকারণেজিনিসপত্রের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়েযায়। তারফলেঅনিবার্যভাবে বেড়েযায়জীবনযাত্রারব্যয়। কোন কোনমাসেসঞ্চয়বলতেকিছু থাকেনা। এমনওহয়েছে কোনমাসেধার-দেনাকরতেহয়েছে। ভ্যাটবাট্যাক্স আমারজীবিকায়প্রত্যক্ষভাবেপ্রভাব ফেলেনা। কিন্তু পরোক্ষপ্রভাবটাআমারজন্য কষ্টকর।একইসাথেগ্যাসএবংবিদ্যুতে সরকারধীরেধীরেভর্তুকিতুলে নেয়ার যে নীতিগ্রহনকরেছেতারফলে এ দুটিপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।যাআমারমতোমধ্যবিত্তেরজীবনধারনকেআরোনাজুককরেতুলছেবলেআমিমনেকরছি।
গত বছর লক্ষ করেছি, বেসরকারি স্কুলের উপর আরোপিত কর তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই শিক্ষা ব্যবসায়ীরা বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে। এদের এই বেতন বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরকারের কোন পদক্ষেপ নাই।
আমার অফিস আমার বাসা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। এই সামান্য পথ যেতে আমার দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। একই অবস্থা বাসায় ফেরার সময়ও ঘটে। বিশ্বব্যাংক এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘন্টা নষ্ট হয়। এর ভেতর আমার ৪ ঘন্টাও রয়েছে। আবার একইসাথে গণ পরিবহনের ভাড়া দিন-দিন বেড়েই চলেছে।
আমরা সরকারকে নির্বাচন করি এবং কর প্রদান করি এই মর্মে যে, সরকার তার নীতি, কর্মসূচি ও নানান ধরনের পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জনগণের জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে। কিন্তু লক্ষ করছি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহ পণ্য বা সেবার মূল্য বাড়ালে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যেমন ধরা যাক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন বাড়ানোর কথা।
সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়ে সরকারের কম বরাদ্দের কারনে আমার সন্তানের হাসপাতালে জায়গা হয় না। সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের পকেটের অনেক টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হই।
এমতাবস্থায় একজন করদাতা এবং নাগরিক হিসেবে আমার প্রশ্ন ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের ভেতর দিয়ে আমার সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংস্থান কেন করা গেলনা? কেন আমার শিক্ষা স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে? যেখানে সংবিধান এটাকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বাড়ি ভাড়া প্রতি বছর কেন কোন নিয়ম-নীতিহীনভাবে বাড়ে; কর্তৃপক্ষ কেন কোন পদক্ষেপ নেয়না? সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, আমি ট্যাক্স দিব কেন?