অংশগ্রহণমূলক বাজেটের জন্য একটি দিক নির্দেশনা ২০১৫

 

BRIAN WAMPLER

অংশগ্রহণমূলক বাজেট হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে নাগরিক দেশের সরকারি স¤পদ বন্টনের উপর আলোচনা করে। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রামসমূহ সরকার, নাগরিক, এনজিও এবং সিভিল সমাজের আদেশে বাস্তবায়িত হয়। এর উদ্দ্যেশ্য হল কিভাবে এবং কোথায় স¤পদের ব্যয় হওয়া উচিত সেই বিষয়ে নাগরিক দের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই প্রোগ্রামগুলো নাগরিকদের সংযুক্ত, শিক্ষা প্রদান এবং ক্ষমতায়িত করার সুযোগ তৈরি করে। যেটা আরও বেশি প্রতিনিধিত্বশীল সিভিল সমাজকে উৎসাহিত করে। এছাড়াও অংশগ্রহণমূলক বাজেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যার মাধ্যমে সরকারের অকার্যকারিতা এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়। বেশিরভাগ নাগরিক যারা অংশগ্রহণ করে তাদের আয় এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিুমানের। সহজভাবে বলতে গেলে, অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রামসমূহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দরিদ্র ও যুগ যুগ ধরে ঐতিহাসিকভাবে বঞ্ছিত নাগরিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।
অংশগ্রহণমূলক বাজেট হল উল্লেখযোগ্য কারণ এটা দুটো পৃথক কিন্তু আন্তঃস¤পর্কীয় চাহিদাকে নির্দেশ করে; রাষ্ট্রের কর্মস¤পাদন উন্নত করে এবং গনতন্ত্রের মান বৃদ্ধি করে। এটা কতকগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের মধ্য দিয়ে স্টেট পারফরমেন্স উন্নত করতে সাহায্য করে যেটা বর্ধিত সুযোগ সুবিধা তৈরির সময় মিউনিসিপ্যাল সরকারের বিশেষ অধিকারসমূহ দমন এবং পরীক্ষা করে যেন নাগরিক সরকারি নীতি বিতর্কে নিয়োজিত হতে পারে। এটা উন্মুক্ত এবং সরকারি বিতর্কে নাগরিকের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যেটা তাদের সরকারি বিষয়াবলীর জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
স্টেট পারফরমেন্স উন্নত করা এবং গণতন্ত্রের মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে কাংখিত লক্ষ্য, কিন্তু তারা আবশ্যিকভাবে অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামসমূহের দ্বারা উৎপাদিত না। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রামসমূহ ফলাফল উৎপাদন করা শুরু করেছে যেটা
সবকিছু চালায় উচ্চ মানের সফল থেকে শুরু করে অতি দুর্বল পর্যন্ত।
অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রাথমিকভাবে ১৯৯০ সালে বাস্তবায়িত করা হয়েছিল, ব্রাজিলের ১২ টি শহরে। ২০০৫ সালের মধ্যে এটি বিশ্বব্যাপী ৩০০ টির বেশি মিউনিসিপ্যাল ছড়িয়ে পড়েছিল। (Cabannes n.d.; Wampler 2004a; Wampler and Avritzer 2005).
অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামসমূহ কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বড় ধরণের বৈচিত্র আছে, যার অর্থ হল জবাবদিহিতা, সিদ্ধান্ত-গ্রহণ কর্তৃপক্ষের বিকেন্দিকরণ এবং স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের উপর অংশগ্রহণমূলক
বাজেটের প্রভাব। অংশগ্রহণমূলক বাজেট সাধারণ নাগরিকের কাছে অ¯পষ্ট বাজেটীয় পদ্ধতি ¯পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং একটি তুলনামূলক বৃহৎ পাবলিক ফোরাম তৈরিতে সাহায্য করে যেখানে জনগণ এবং সরকার ব্যয়, কর ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করে। এটি একটি চলমান নীতি প্রক্রিয়া যেটা স¤পদের বণ্টন এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর ফোকাস করে যেটা জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে, সিদ্ধান্ত-গ্রহণ কতৃত্ব স্থানান্তর এবং জনগণকে ক্ষমতায়িত করে।
অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামসমূহ বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গণমুখী করার মাধ্যমে সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্লায়েন্ট প্রথা, সামাজিক বর্জন এবং দুর্নীতিকে সবার সামনে তুলে ধরে। সামাজিক এবং রাজনৈতিক বর্জনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, যেহেতু নিু আয় এবং ঐতিহ্যগত ভাবে বর্জিত রাজনৈতিক অ্যাকটর গুলোকে নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ প্রদান করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাজনিতিবিদদের প্রাইভেট অফিস থেকে পাবলিক ফোরামের কাছে স্থানান্তর করতে হবে। পাবলিক মিটিং স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামসমূহ “সিটিজেনশীপ স্কুল” হিসেবেও কাজ করে যহেতু নিয়োজন জনগণকে ক্ষমতায়িত করে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব স¤পর্কে বুঝতে। জনগন তাদের মধ্যে এবং সরকারের সাথে স্বল্প স¤পদের বণ্টন এবং সরকারি নীতি অগ্রাধিকারসমূহ আলোচনা করা শিখে।
যখন অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামসমূহ পলিসি আউটপুটের দিক থেকে খারাপভাবে কাজ করে। এখানে অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্ব এবং নাগরিক অধিকারের জ্ঞান বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে যেটা তাদের আলোচনা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আবার, যখন অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামগুলো ঠিকভাবে কাজ না করলে গণতন্ত্র, বিকেন্দ্রীকরণ এবং অংশগ্রহণের উপর জনগণের বিরুপ মনভাব সৃষ্টি হয়। এভাবে অংশগ্রহণকারীরা খারাপ পারফর্ম করা প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামের জন্য কোন যথাযথ মডেল নাই। যখন এখানে কিছু সম মতবাদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল আছে। অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রামগুলো প্রত্যেক শহর বা দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রেক্ষিতে গঠন করা হয়ে থাকে। যখন পার্থক্যগুলোকে পরক্ষভাবে কথা বলা হয়, তখন এই অধ্যায় অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল কেসের সমন্বয় তুলে ধরে।
এই অধ্যায়ের অনুমান হচ্ছে যে যুগোপযোগী করে কৌশল এবং প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমকে উন্নয়ন করা হয়েছে, যেটা ছোট বা বড় অংশে অন্য জায়গায় স্থানান্তর যোগ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের শহরের, মিউনিসিপ্যালের, দেশের এবং আঞ্চলিক সরকারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে যা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এটা বাজেট প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং জনগণের অংশগ্রহণকে সমন্বিত করে। এনজিও এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট এই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগাতে পারে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণমূলক বাজেটীয় প্রোগ্রাম অথবা অনানুষ্ঠানিক মনিটরিং প্রোগ্রাম যা অংশগ্রহণমূলক বাজেট উদাহরণকে উন্নত করে।

অংশগ্রহণমূলক বাজেটের ইতিহাসঃ
অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম ব্রাজিলের একটি অধিকতর বৃহৎ চেষ্টার অংশ প্রকৃত, বর্তমান গণতন্ত্রকে বৃহৎ এবং গভীর করার জন্য। (Abers 2000; Avritzer 2002; Baiocchi 2001) যখন ১৯৮৫ সালে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়, ব্রাজিলের রাজনীতি দীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহ্যগত পৃষ্ঠপোষকতা প্রথা, সামাজিক বর্জন এবং দুর্নীতি দ্বারা চালিত হয়েছে। বহুসংখ্যক সরকার, এনজিও, সামাজিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণমূলক বাজেটের সাথে জড়িত ধারণা, মূল্যবোধ এবং নিয়মকানুনকে প্রচেষ্টায় পরিণত করে পলিসি আউটকামের উন্নয়ন এবং ব্রাজিলের তরুন গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে। অংশগ্রহণমূলক বাজেট ব্রাজিলের সর্ব দক্ষিণের স্টেট, রিও র্গ্যান্ডে দো সুল, এর রাজধানী পোর্টো আলিগ্রির মিউনিসিপালিটি তে ১৯৮৯ সালে শুরু হয়। পোর্টো আলিগ্রির অধিবাসী প্রায় ১ মিলিয়ন এবং ব্রাজিলীয় মাপকাঠিতে তাদের ধনী বলা হয়। ১৯৬৬-৮৫ সালে মিলিটারি একনায়কতন্ত্রের পতনের দিকের বছরগুলোতে প্রগতিশীল ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ১৯৮৮ সালে মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করে। এর ক্যা¤েপইন ভিত্তি ছিল গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকারের বৈপরিত্ব আনা অর্থাৎ দশকব্যপী চলে আসা ধারার বৈপরিত্ব যেখানে সরকারি স¤পদ মধ্য এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত দের জন্য খরচ করা হত। তুলনামূলক দরিদ্র জনগণ যেন সরকারি ব্যয়ের বৃহৎ অংশ পায় সে বিষয়ে সাহায্য করাই ছিল অংশগ্রহণমূলক বাজেটের উদ্দেশ্য।
যখন ওয়ার্কার্স পার্টি পোর্টো আলিগ্রিতে মেয়রের অফিসে জয়লাভ করে, এটা একটি দেউলিয়া এবং একটি অসংগঠিত আমলাতন্ত্রের অধিকারী হয়। ক্ষমতার প্রফ থম ২ বছরে নতুন প্রশাসনে বিভিন্ন কলা-কৌশল ব্যবহার করা হয় অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাকে মোকাবিলা করার জন্য, জনগনদের সরকারের সরসসরি কারযক্রম স¤পর্কে অবগত করে এবং সামাজিক ব্যয়ের অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনে। অংশগ্রহণমূলক বাজেট নিরীক্ষামূলক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে। ১৯৮৯ এবং ১৯৯০ এ, অংশগ্রহণমূলক বাজেটের প্রথম দুই বছরে, ১০০০ এর কম নাগরিক অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ১৯৯২ সালের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮০০০ হয়। পরে ১৯৯২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি পুনঃনির্বাচিত হয়, প্রোগ্রামটি জীবন্ত হয়ে উঠে, প্রতি বছর ২০,০০০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে। অংশগ্রহন নাগরিকদের উপলব্ধি হিসেবে বারতে থাকে, কারণ তারা বুঝতে পারে অংশগ্রহণমূলক বাজেট হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু।

যে শর্তসমূহ অংশগ্রহণমূলক বাজেটকে সঞ্চালিত করে
চারটি ফ্যাক্টরের সমন্বয় এ বিষয়টিকে আরও সহজ করে যে অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম গ্রহণ হবেই; শক্তিশালী মেয়রের সমর্থন, একটি সিভিল সমাজ যার চলমান পলিসি নীতি বিতর্ককে সমর্থন করার ইচ্ছা ও সামর্থ আছে, একটি সাধারণ সমর্থনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ যেটা অংশগ্রহণমূলক বাজেটকে আইন প্রণেতাদের আক্রমন থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রজেক্ট গুলোকে ফান্ড প্রদানের জন্য আর্থিক স¤পদ।
এটা সাধারনত মিউনিসিপ্যাল- লেভেল সরকার যেটা অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে, যদিও এখানে রাষ্ট্র এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে কিছু অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম আছে।
সরকার যারা অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে সাধারনত তাদের একটি সংশোধনীমূলক আমেজ আছে-
সরকার হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারি অফিসিয়ালদের অবশ্যই কতৃত্ব প্রতিনিধিত্বের হবে। তারা যখন এটা করবে, তাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় লজিস্টিক্যাল, তথ্যগত এবং আর্থিক সমর্থন তৈরি করতে হবে অংশগ্রহণমূলক বাজেটের কাজ করার জন্য যা প্রয়োজন।
যে সরকার গুলো সামাজিক আন্দোলন, ইউনিয়ন এবং এনজিও দের কাছ থেকে শক্তিশালী ভিত্তির সমর্থন লাভ করে তারাই মূলত অংশগ্রহণমূলক বাজেট চালু করে, কারণ এটা করার মাধ্যমে তারা সেই প্রয়োজনীয়তার কাছে চলে যায় যা তারা ইতোমধ্যেই জানে। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম মিউনিসিপ্যাল গুলতে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে গভীর সিভিল সমাজ শিকড়ের মাধ্যমে। সামাজিক আন্দোলনের পূর্ব বিরাজমান নেটওয়ার্ক, কমিউনিটি সংগঠন এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সহায়তা নিরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন প্রদান করে। যে প্রোগ্রামগুলো জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর নির্ভর করে শুধুমাত্র পলিসি নির্বাচনের জন্যই কাজ করেনা সরকারের সংশোধন প্রচেষ্টাকেও বৈধতা প্রদান করে। উচ্চ হারে অংশগ্রহণ সরকারের পলিসিকে বৈধ করনে সাহায্য করবে।
যদিও অংশগ্রহণমূলক বাজেট মেয়রের আদেশে বাস্তবায়িত হয়, তবুও মিউনিসিপ্যাল আইনসভা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকতে পারে। কারণ অংশগ্রহণমূলক বাজেট ঐতিহ্যগত পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ককের কমে যাবার সম্ভাবনা হ্রাস করে, অনেক আইন প্রনেতাই এর স¤পূর্ণ বাস্তবায়নে বাঁধার সৃষ্টি করবে। যদি আইনসভা মেয়রের প্রশাসন, আইনসভা হয়ত ধংসকারী হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি তারা মনে করে এতা তাদের জন্য হুমকি হতে পারে। যদি মেয়র এবং আইন বিভাগের বৈষম্য থাকে, এটা সম্ভব যে অংশগ্রহণমূলক বাজেট মেয়র প্রতিনিধিত্বশীল কতৃত্ব করতে অসামর্থ্য। কারণ আইন প্রণেতাদের সাথে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক এনার্জির বিস্তার করতে হবে।
যখন অনেক অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্যকে নিয়ে কাজ করে, তখনও মূল ফোকাস থাকে স্বেচ্ছায় ব্যয় করা। স্বেচ্ছাধীন ফান্ড সহজলভ্য হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা পছন্দ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যেমন, জনগন সরাসরি পলিসি আউটকাম নির্বাচন করতে পারে। একটি সরকার যত বেশি আর্থিক নমনীয়তা উপভোগ করে, নাগরিকেরা তত বেশি প্রভাব খাটাতে পারে নতুন সরকারি কাজ নির্বাচনে। জনগণ যে প্রজেক্টগুলো নির্বাচন করে সরকারের অবশ্যই স¤পদ থাকতে হবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য।
যদি একটি আর্থিকভাবে দুর্বল মিউনিসিপ্যালিটি একটি অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে মূল ফোকাসটি পরিবর্তিত হয়। এটি নির্দিষ্ট সরকারি কাজের প্রজেক্ট থেকে ঋণ, কর এবং সীমিত স¤পদের কার্যকরী ব্যবহারের একটি অধিক সাধারণ আলোচনার দিকে ফোকাস হয়। মিউনিসিপ্যাল সরকারের অবশ্যই প্রথমে বিবেচনাযোগ্য সময় এবং শক্তি ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের কাছে মিউনিসিপ্যাল সরকারের আর্থিক অবস্থা ব্যাখ্যা করা। অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই সরকারের সাধারণ পলিসি অগ্রাধিকারসমূহের উপর ভোট প্রদান করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট পাবলিক কাজকে নির্বাচন করবেনা কিন্তু কিভাবে সরকারের পর্যাপ্ত স¤পদ ব্যয় করা উচিত তা একটি বৃহৎ আঙ্গিকে নির্দেশ করবে।