জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ে সাধারণ নাগরিকবৃন্দের ভাবনা জাতীয় বাজেটের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত? ২০১৩

 

জনমত জরীপের প্রতিবেদন সংক্ষেপ

ভূমিকা : পটভূমি, উদ্দেশ্য, সময়কাল, জরীপ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সংক্ষেপ
বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে দারিদ্র হ্রাস ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তথা জাতীয় বাজেটের মতো বার্ষিক কর্মসূচির কোন বিকল্প নেই। শুধু সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্তিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম প্রভাবক জাতীয় বাজেট। ‘নব্বইয় দশক পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তোরণের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হওয়ায় বাজেটকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে’। এর ধারাবাহিকতায় এখন প্রাকবাজেট আলোচনা ও বাজেট উত্তর প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাজেট বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনাগুলোকে সন্নিবেশিত করার অভিপ্রায় থেকে এই জনমত জরীপিিট দেশের ২৩ জেলার সদর ও ইউনিয়নসমূহে ২০১২ সালের শেষদিকে শুরু করে ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্ত্রিকে পরিচালিত হয়। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, বরিশাল, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, বান্দারবান। জরীপটি ৯৫% কনফিডেন্স লেভেলে ৪% ত্র“টি বিবেচনায় বহুস্তর দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক শ্রেণী-পেশা-প্রান্তিকতা-লিংগ-বয়সসীমার নমুনা দলের মধ্য থেকে ১১৫১ মানুষের মধ্যে পরিচালিত হয়। মূলত ৩টি উদ্দেশ্যকে মাথায় নিয়ে জরীপটি করা হয় – ক) বর্তমান বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের ভাবনা অনুধাবন করা, খ) কেন্দ্রীভূত বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফলাফল চিহ্নিত করা, গ) জনমূখী বাজেট তৈরিতে নাগরিক প্রস্তাব সন্নিবেশিত করা।

বাজেট প্রক্রিয়া কতটা জনমুখী?
‘সারা বিশ্ব জুড়ে জাতীয় বাজেটগুলোর বড়সড় দুটো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, তাদের গণতান্ত্রিক চেহারা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটগুলো আসলে গুটিকয়েক লোকেরই কাজ। আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য এবং একটি কঠোর সময়সূচির মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা বিপুলসংখ্যক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলকে বাজেট প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলে অংশগ্রহণ থেকে সরিয়ে রাখে। যেখানে জনগণ একটি মুখোমুখি সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেখানে একটি জাতীয় বাজেট হচ্ছে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত’ । জরীপের মতামত বিশ্লেষণ করলে বাজেট প্রণয়নের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার উপরে সাধারণ মানুষের আস্থাহীণতার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতি চার জনের প্রায় তিন জনই মনে করেন, বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের এবং দরিদ্র মানুষের পক্ষে কাজ করে না যা কোনভাবেই একটি উন্নয়নমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বাস্তব চিত্র হিসেবে আকাঙ্খিত নয়। ৪৮% মানুষ মনে করেন বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয় না । ৪৩% মনে করেন কিছু ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন কিছুটা হয় বটে। এক্ষেত্রে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ (৫১%) বাজেট সম্পর্কে তথ্য সুলভ না হওয়া, অজ্ঞানতা ও অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। বাজেট বক্তৃতা শুনেছেন বা এ সম্পর্কে ভালমতো জানেন মাত্র ৮% মানুষ। উল্লেখ্য রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি, বেসরকারি টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র, বেতার, ইন্টারনেট এক্ষেত্রে তথ্যের মূল উৎস। তবে ৩৮% উত্তরদাতাই বলেছেন বাজেট তথ্য উপাত্ত যথেষ্ট কঠিন, তারা এর অধিকাংশ শব্দ ও পরিভাষা বুঝতে অক্ষম।

জনগণ মনে করে বাজেট জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব না হওয়ার কারণ হলো ব্যাপক দূর্নীতি, সরকারের দায়বদ্ধহীণতা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার সংস্কৃতির অভাব ও জনগণের প্রতি অবহেলা, স্থানীয় সরকারের অক্ষমতা, বাজেটে জনপ্রতিনিধিদের কোন ভূমিকা না থাকা, জনগণের সচেতনতার অভাব এবং আইনী বাধা। জনগণের কাছে জাতীয় বাজেটের প্রতিক্রিয়া হলো জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়া (৭৪%) এবং অত্যাবশ্যকীয় ও বিশেষ কিছু পণ্যের মজুদদারী বৃদ্ধি পাওয়া (১৪%)।

সারণী ১: বাজেট কতটুকু জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব?

বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ
জরিপের ফলাফল নির্দেশ করছে যে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসংশ্লিষ্টতা হতাশাজনক; ৭৯% নাগরিক যেখানে বাজেট তৈরীর পদ্ধতি সম্পর্কে জানেনই না সেখানে বাজেটে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো প্রায় অসম্ভব। জরীপ মতে ২৬% মানুষ মনে করেন বাজেট তৈরীতে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই, অন্যদিকে ২৭% মনে করেন যেটুকু সুযোগ আছে তা যথেষ্ট নয়। তৃণমূল পর্যায় থেকে বাজেট তৈরি হলে মানুষের এই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতো যা সমস্যা সমাধানে নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বাস্তবতা তৈরী করতে পারে।

বলাবাহুল্য, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর অধিকাংশ মানুষই কোন দ্বিমত পোষণ করেননি। দুই-তৃতীয়াংশের বেশী উত্তরদাতাই বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত প্রদানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। উত্তরদাতাদের প্রতি দশজনের মধ্যে নয় জনই বর্তমান প্রক্রিয়ায় তৈরী হওয়া বাজেটকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করেন। তারা মনে করেন জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে, সংসদের সংসদসদস্যদের কার্যকরী অংশগ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে বাজেট তৈরিতে জনগণের বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাজেট ও জাতীয় সংসদদের ভূমিকা
একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থল হিসেবে জাতীয় সংসদকেই ধরে নেয়া হয়। আমাদের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত মিলিয়ে সকল সংসদসদস্যবৃন্দ গড়ে মাত্র ২২ দিন প্রতি বছর বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও কার্যপ্রণালীবিধির কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কার্যকর অংশগ্রহল অনেকটাই সীমিত। ৪৩% উত্তরদাতা মনে করেন জাতীয় সংসদে ‘সাধারণ মানুষের বাজেট’ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই এবং ৫৮% নাগরিকের মতে বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়ায় দেশের স্থানীয় সমস্যা ও দারিদ্র মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

বর্তমান বাস্তবতা ও স্থানীয় সরকার প্রণীত বাজেট
বাজেটের সিদ্ধান্তসমূহ স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রে উঠে না এসে কেন্দ্রে গৃহীত হয়ে স্থানীয় পর্যায়কে প্রভাবিত করে। এই অতি কেন্দ্রীভূত বাজেট প্রক্রিয়ায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এবং স্থানীয়ভাবে বিশেষ সমস্যা সমাধান করা যে সম্ভব নয় সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ সম্যক অবগত – এই জনমত বিশ্লেষণে তা সুস্পষ্ট উঠে এসেছে। প্রতি দশ জনের প্রায় ছয় জনই বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই মত পোষণ করেন। যে প্রক্রিয়ায় বাজেট পেশ করা হয় তাতে বিশেষ বিশেষ স্থানীয় সমস্যা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশেষ প্রয়োজনের প্রতি যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেয়া হয় না – এমনটাই তারা বলছেন। আর স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে তৈরী বাজেট এসকল স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম বলে মনে করেন ৭৪% নাগরিক।

বাজেটের সুফল ও জনগণের অগ্রাধিকার খাত
জনমত এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে এনেছে যে জনগণ শুধুমাত্র বাজেট তৈরীর বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়েই অসন্তষ্ট নন তারা বাজেটভুক্ত কর্মসূচির ফলাফলকেও তাদের আকাঙ্খার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঠিক বলে মনে করেন না। জনগণের আরো নিবিঢ় অংশগ্রহণ ব্যতীত বাজেটের মতো একটি অত্যন্ত জনগুরুত্ব¡পূর্ণ বিষয়ে মানুষের এই আস্থাহীণতা দূর করা সম্ভব নয়। ৭৬% উত্তরদাতা বিদ্যমান বাজেট প্রক্রিয়ার কোন সামগ্রিক বা সমন্বিত সুফল ভোগ করেন না বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। বাকি ২৪% উত্তরদাতাদের সবাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সরকারি বাজেটের অন্যতম সুফল বলে মন্তব্য করেছেন। এই ৩৭২ সুফলভোগী উত্তরদাতার মধ্যে ২৪% উত্তরদাতা নাগরিক সুবিধাবৃদ্ধি, ১৭% উত্তরদাতা স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাজার, মার্কেট ইত্যাদির উন্নয়ন, ১৬% উত্তরদাতা নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ১১% উত্তরদাতা কৃষিভর্তুকি, ১০% উত্তরদাতা স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, ৬% উত্তরদাতা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। মজার তথ্য হলো খুব অল্প সংখ্যক হলেও ৫৪ জন উত্তরদাতা দ্রব্যমূল্যের দাম হ্রাসকে বাজেটের সুফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সারণী ২: বাজেটের সুফলে চিত্র

* প্রতি উত্তরদাতার বিপরীতে একাধিক উত্তর। মোট হ্যাঁ উত্তরদাতা ৩৭২

বাজেটের অগ্রাধিকার হিসেবে অসংখ্য বিষয়কে সাধারণ করদাতারা চিহ্নিত করেছেন। জরীেেপ দেখা গেছে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর পর পরই আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃংখলা, কৃষি, বিদ্যূৎ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, বিশুদ্ধ পানি, পরিবহন,, নারীর সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা, পরিবেশ, দূর্নীতি, পয়: নিষ্কাষন,

সারনী ৩: জন অগ্রাধিকারসমূহ

* প্রতি উত্তরদাতার বিপরীতে একাধিক উত্তর। মোট উত্তরদাতা ১১৫১

জরীপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা
ক্স বাজেটের কাঠামোর পরিবর্তন করে, ভাষা/পরিভাষা সহজ করে, সহজ ভাবে উপস্থাপন করা।
ক্স জন অগ্রাধিকারসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটানো।
ক্স বাজেটে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
ক্স বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দের সাথে আলোচনা করা। সংসদসদস্যদের বাজেট বিষয়ে অধিকতর ভূমিকা রাখা।

শেষ কথা
গত চার দশকে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষণা, আলোচনা ও আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণ। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি তেমনভাবে উঠে আসেনি কোন নীতি আলোচনায়। অথচ জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে এর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ প্রয়োজন। কেননা আমলানির্ভর ও অতিকেন্দ্রীভূত জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ায় সাংসদদের কার্যকরি অংশগ্রহণের সুযোগই যেখানে সীমিত সেখানে সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন নিশ্চিত করা অনেক জঠিল ও কঠিন বিষয়। বাজেট প্রক্রিয়ার ও কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ ছাড়া তাই কার্যকর জনঅংশগ্রহণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাজেটসহ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন জণগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্রিয়াকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত, যার ফলে দূর্নীতি আজ দারিদ্র দূরীকরণে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে বাজেটকে গণতান্ত্রিক করার আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে যেখানে স্থানীয় নাগরিক কমিটি, উন্নয়ন সংগঠন, তৃণমূল সংগঠন, সংবাদমাধ্যম/ গোষ্ঠী ও সমাজের অন্যান্য অগ্রসর চিন্তাধারার মানুষেরা দেশের সকল মানুষের ন্যায্য উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাছে ওকালতি করতে কাজ করবেন। এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

জরীপ পরিচালনা করেছেন ও প্রতিবেদন লিখেছেন: এ. আর. আমান, সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন
নি:স্বত্ত: গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, ২০১৩