ঢাকা ঘোষণা জন-বাজেট সংসদ ২০১৬

২১ মে, ২০১৬। সিনেট ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ বিভিন্ন কারণেই চ্যালেঞ্জিং। ইতিমধ্যে আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপে প্রবেশ করেছি। মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত¦রান্বিত করা সরকারের জন্য অতীব চ্যালেঞ্জিং। তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং সার্বজনীন প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৌশল নির্ধারণ এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য হ্রাসে যথাযথ রাষ্ট্রিয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা । প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অন্যান্য রাষ্ট্রিয় পরিষেবায় বাজেট বৃদ্ধির এজেন্ডা একটি জনপ্রিয় দাবি। উল্লেখ্য প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার আনুক্রমিক হারে বড় হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর প্রাথমিক আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৮৬,০০০ কোটি টাকা। অথচ ব্যয়ের গুণগত মান ও বাজেট যথাযথ ব্যবহারে দক্ষতার অভাব এখনো একটা বড় সমস্যা।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বাজেট ঘাটতি, সম্ভাব্য মূদ্রাস্ফীতি রোধে মূদ্রানীতির প্রয়োগ, জ্বালানী তেলের মূল্য সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সহ মৌলিক সেবাখাতের বাজেট সংকুচিত হবে, না কি নতুন অর্থায়ন হবে সে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি করছে যা দরিদ্র মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বলাবাহুল্য রাজস্ব ঘাটতি সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি সরকারের ক্রমবর্ধমান আভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণে প্রবণতা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। চরম দারিদ্র হ্রাসে সরকার সফলতার দাবি করলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও টেকসই কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ও পেশায় ধাবিত করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০১৬ নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক মাইলফলক। কিন্তু প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে একইসাথে জেলা পরিষদকেও শক্তিশালী করতে হবে এবং এই স্তরে অবিলম্বে নির্বাচনের দেওয়া বাঞ্চনীয় হয়ে পড়েছে।

সার্বিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন বাজেটসহ জাতীয় পরিকল্পনায় অংশভাগিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ কাঠামো এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়গুলি বিস্তারিত পরিসরে আলোচনায় আনার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি যৌথভাবে আজ ২১ মে, ২০১৬ (শনিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জন-বাজেট সংসদ ২০১৬ আয়োজন করেছে। দেশের ৪৫ টিরও অধিক জেলা থেকে আগত বিভিন্ন পেশা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের অংশগ্রহণে জন-বাজেট সংসদ ২০১৬ থেকে সরকারের কাছে অগ্রাধিকারভিত্তিক নি¤œবর্ণিত দাবি পেশ করা হলো।

কাঠামোগত সংস্কারের দাবি:

  • সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭টি জেলায় জেলা-ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের চিত্র প্রকাশ করেছেন। এটা বাজেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার মাপকাঠিতে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এখানে জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় এবং কর-কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় প্রকৃত জেলা বাজেটের সুফল মানুষ পাচ্ছে । জেলা বাজেট প্রণয়ন জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়া হওয়া সত্ত্বেও ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে এটি আর প্রণয়ন করা হচ্ছেনা। এই জেলা বাজেট আবার প্রকাশ করা হোক।
  • ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল এক জন মানুষ ও জাতীয় পরিকল্পনার বাইরে যাবে না। সেদিক থেকে লক্ষ্য করলে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক করতে হলে দেশের সকল জনগণকে বাজেটের আওতায় আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া যে ধারা অনুসরন করে সেটি কোন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয় কারন সমগ্র বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াতে সরকারের আমলা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্যতিত আর কোন এম পি র স¤পৃক্ততা থাকে না এমনকি জনগনের ও স¤পৃক্ততা থাকে না। এটি স¤পূর্ণ ভাবে একটি কেন্দ্র নির্ভর বাজেট। গনতান্ত্রিক বাজেট করতে হলে ভৌগলিক চাহিদার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা গুলোকেও বিবেচনায় আনতে হবে। কারন যে করের বোঝা জনগণ বহন করছে সেটা রাজস্ব বাজেটে প্রতিফলিত হলেও জনগণ এই করের বিপরীতে কোন প্রত্যক্ষ সুবিধা পায় না।