শিক্ষা বাজেটঃ নীতি ও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ২০১৬

বাংলাদেশের মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। উন্নত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সুষ্ঠু গণতন্ত্র কায়েম করা ও সুষম সরকারি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে শিক্ষার অবদান অপরিহার্য। তাই শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সরকার গৃহীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মুল নীতি গুলো হচ্ছে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার শতভাগ নিশ্চিত করা ও ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষর মুক্ত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে শিক্ষার সাথে সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুনগত মান উন্নয়ন করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রার চতুর্থ গোলটিতেও সকলের জন্য বাস্তবধর্মী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনা

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বমোট ৩০ টি মূল পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সামাজিক অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা; জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ৬০ ভাগ মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিধি প্রবর্তনের ফলে মহিলা শিক্ষকের হার ১৯৯১ সালে ২১ শতাংশ থেকে ২০১৫ সালে ৬৪.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।[1] ১৯৯১ সালে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুপাত ছিল ৫৫:৪৫, বর্তমানে তা প্রায় ৪৯.১ : ৫০.৯ এ উন্নীত হয়েছে। যেখানে ২০০৫ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে নীট ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির হার শতকরা ৮৭.২ ছিল বর্তমানে তা বেড়ে দারিয়েছে ৯৭.৯ শতাংশে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তির হার এখনো নিশ্চিত হয়নি যা ২০১৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। আবার ভর্তি হলেও শিক্ষাকাল সমাপ্ত হবার পূর্বেই ছাত্র-ছাত্রীর একটা বড় অংশ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পরে।

সারণি ১: প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি

বছর ২০০৫ ২০০৬ ২০০৭ ২০০৮ ২০০৯ ২০১০ ২০১১ ২০১২ ২০১৩ ২০১৪ ২০১৫
নীট ভর্তির হার (%) ৮৭.২ ৯০.৯ ৯১.১ ৯০.৮ ৯৩.৯ ৯৪.৮ ৯৪.৯ ৯৬.৭ ৯৭.৩ ৯৭.৭ ৯৭.৯৪

উৎসঃ বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি, ২০১৫, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর[2]

সারণি ২: বছরওয়ারি ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়ার হার

বছর ২০০৬ ২০০৭ ২০০৮ ২০০৯ ২০১০ ২০১১ ২০১২ ২০১৩ ২০১৪ ২০১৫
মোট ঝরে পরার হার (%) ৫০.৫ ৫০.৫ ৪৯.৩ ৪৫.১ ৩৯.৮ ২৯.৭ ২৬.২ ২১.৪ ২০.৯ ২০.৪

উৎসঃ বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি, ২০১৫, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর[3]

ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে। ৯৬ টি উপজেলার ৩১ লক্ষ শিশুদের মধ্যে প্রত্যেককে স্কুল খোলার দিন দৈনিক ৭৫ গ্রাম ফারটিফাইড বিস্কুট বিতরণের কার্যক্রম চালু আছে। দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরতার আলো পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ৬৪ টি জেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প চালু আছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ এ উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৫ এর হিসাব অনুযায়ী বিগত ৪৬ বছরে সামগ্রিক শিক্ষার হার ১৬.৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬২.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও পুরুষের স্বাক্ষরতার অনুপাত ৫৯.৭ : ৬৫। আর্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক থেকে স্নাকোত্তর পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রদান, বেতন মউকুফ ও পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষার ফি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্লান প্রনয়ণের পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা আইন ২০১৩ এর খসড়া প্রনয়ণ করা হয়েছে।

জাতীয় বাজেটে অবহেলিত শিক্ষা খাত

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার গৃহীত নানাবিধ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের একটা মোটা অংকের বাজেট প্রয়োজন এবং নিঃসন্দেহে প্রতি বছর বাজেটের একটা বড় অংশ শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দও থাকে। তবে সেই খাতে একটি শুভঙ্করের ফাকিও আছে। শিক্ষা বাজেটের সাথে প্রযুক্তি, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, ধর্মসহ নানাবিধ খাতকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটে সামরিক বাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহের বরাদ্দও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বরাদ্দকৃত স্বল্প অর্থটুকু ভাগাভাগি হয়ে যায় অন্যান্য খাতের সাথে। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে বর্তমান অর্থবছর (২০১৫-১৬) পর্যন্ত শিক্ষা খাতের সাথে ধর্মসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

লেখচিত্র ১: শিক্ষাখাতে ব্যয় ( মোট বাজেট ও জিডিপি’র শতকরা হার )

তথ্যসূত্রঃ বাজেটের সংক্ষিপ্তসার ( বিভিন্ন বছর ) ও লেখকের নিজস্ব হিসাব

বিগত বছর গুলোর বাজেটের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বাজেটের আকার যত বড় হচ্ছে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ সে অনুপাতে বাড়ছে না বরং দিনদিন কমে যাচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে শিক্ষাখাতের ব্যয় বাজেটের ১৬.৩ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসে তা ৪.৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। দেশের জিডিপি থেকে শিক্ষা খাতে ব্যয় পর্যালোচনা করলেও একই চিত্র দেখা যায়। বিগত সাত বছরে শিক্ষা খাতে বাজেটের গড় বরাদ্দ ছিল ১৩.৪৩ শতাংশ এবং জিডিপির আনুমানিক ২ শতাংশ। অথচ ইউনেসকোর পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং শিক্ষাখাতে ব্যয় মোট জিডিপির নুন্যতম ৬ শতাংশ হওয়া উচিত।

লেখচিত্র ২: শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের গতিপ্রকৃতি (কোটি টাকা)

তথ্যসূত্রঃ বাজেটের সংক্ষিপ্তসার ( বিভিন্ন বছর ), অর্থ মন্ত্রণালয়[4]

শিক্ষা বাজেটের গতিপ্রকৃতি খেয়াল করলে দেখা যায় যে, প্রতি বছরই উন্নয়ন মুলক খাত থেকে অনুন্নয়ন মুলক খাতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বা তার ও বেশি। আবার উন্নয়ন মূলক খাতের ব্যয়ের মধ্যে সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[5] সেক্ষেত্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানাবিধ ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করলেও শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নের জন্য সরকারি নীতি এবং পদক্ষেপ গুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। শিক্ষা অবকাঠামো দেখভাল, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্য পুস্তক সরবরাহ, শিক্ষা – সহায়ক উপকরণ সরবরাহ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োজিত শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন অনুন্নয়ন খাতের অংশ এবং এই ক্ষেত্রগুলোতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় উন্নয়ন খাতের তুলনায় বেশি হওয়াটা অনভিপ্রেত।

উচ্চ শিক্ষা প্রসারে সরকারের অমনোযোগ

বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সমগ্র শিক্ষাব্যয়ের মাত্র ১১ শতাংশ ব্যয় হয় উচ্চ শিক্ষা খাতে, যা জিডিপি’র ০.১২ শতাংশ। তাদের হিসাব অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ জিডিপি’র ০.৩ শতাংশ হওয়া উচিত। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ খুবই স্বল্প। এমনকি জাতীয় শিক্ষা নীতিতেও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারনা পাওয়া যায়নি।

সারণি ৩: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৮,৫৩৭ ১৯,৫৫২,৯৭৯
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯,৬৮৪ ৯,১৬০,৩৬৫
উচ্চ বিদ্যালয় ৩,৯৫৮ ৩৫০৬,৩৮৩
বিশ্ববিদ্যালয় ১১২ ৮৫৩,৭১২
মাদ্রাসা ৯,৩৪১ ২,৩৬৬,৩৭২
ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ৪,০১৪ ৬৮৯,৬৬৩
মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজ ৪৭৬ ১২২,১৬৫
অন্যান্য ২১৫ ৩৪,৬৪৪
সর্বমোট ১৪৬,৩৩৭ ৮৫৩,৭১৫,৪৩২,৫৭১

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০১৪, বেনবেইস[6]

শিক্ষাখাতে সমন্বয়হীনতা ও অদূরদর্শিতা

মনিটরিং দি সিচুয়েসন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক অব বাংলাদেশ ২০১৩ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৩২.৩ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে।[7] অর্থাৎ বাংলাদেশে যুবকের সংখ্যা এখন বৃদ্ধির দিকে যা প্রতিটি জাতির জীবনে মাত্র একবারই আসে। কাজেই সরকারের উচিত অর্থনীতি সহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই যুবক জনগোষ্ঠীকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৫ অনুযায়ী,দেশে বর্তমানে ২৬ লাখ ৩১ হাজার মানুষ বেকার এবং এর মধ্যে ৭৪ শতাংশই তরুন – তরুণী। চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা থাকলেও বিবিএস এর হিসাব বলছে যে, গত দুই বছরে গড়ে মাত্র ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কর্পোরেট কর ফাকি বন্ধ ও শিক্ষাখাতে অর্থায়ন

সংসদীয় ক কা স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি এবং গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত বাজেট পূর্ববর্তী পরামর্শ সভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কর্পোরেট কর ফাকি বন্ধ করে শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বাড়ানো এবং জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ এর পরিকল্পিত বাস্তবায়নের জোড় দাবি তোলা হয়েছে। সেই সাথে দাবি উঠেছে শিক্ষাখাতের বরাদ্দের টাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দেওয়া এবং ধনী সমাজকে ব্যাতিরেকে সবার জন্য বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক কার্যক্রম চালু রাখা। সভায় শিক্ষকদের সীমাবদ্ধতার তুলনায় শিক্ষা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কথা বেশি আলোচিত হয়েছে। সভা আয়োজকদের মতে, আসছে বছরের বাজেটে ছিটমহলের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিক্ষকদের মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা প্রদান ও ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন।

সুপারিশসমূহ

১. শিক্ষায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, সময়ানুগ ব্যয় নিশ্চিত করতে বিকেন্দ্রিত বাজেট তৈরি, ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততা সহ সচ্ছ মনিটরিং ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে;

২. ধর্ম ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পৃথক করে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে শিক্ষা বাজেট প্রণয়ন করতে হবে;

৩. ভিসন ২১ অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের সাথে গবেষণা খাতেও বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং সেই সাথে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মুলক ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে হবে;

৪. বিবিধ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রান্তিক, অনগ্রসর, অতি দরিদ্র এলাকা এবং শহরের বস্তির শিশুদের ঝরে পরা রোধ করতে হবে। শিশু শ্রমে নিয়জিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী জোরদার করতে হবে;

৫. ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপি’র ৬ শতাংশ বরাদ্দ করতে হবে। প্রয়োজনে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে ও আয়ের বর্ধিত অংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে।

৬. শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা হ্রাস করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে পরিকল্পনা, শ্রম ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক জোরদার করতে হবে;

৭. শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে হবে;

৮. আগামী বছর থেকে শিক্ষা-বাজেট যেন অন্তত শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের উপযোগী হয়, সে রকম পরিকল্পনার নির্দেশনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা চাই বাজেটে;

৯. শ্রমঘন শিক্ষা খাতের জন্য যথেষ্ট শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের দক্ষতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

লেখক

জিসান আরা মিতু

[1] বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা – ২০১৫

[2] প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা – ২০১৫

[3] Annual Primary School Census 2014, Department of Primary Education

[4] Budget in Brief. Available at www.MoF.gov.bd Accessed on 16-05-16.

[5] Revised ADP allocation 2015 – 16. Available at: www.MoP.gov.bd. Accessed on 16-05-16.

[6] Bangladesh education statistics 2014, BANBEIS Publication No. 435 (chapter two) . Available at: www.banbeis.gov.bd Accessed on 18-04-16.

[7]  Available at: http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/others/2015/07/17/61378.html. Accessed on 4-5-16.