জাতীয় বাজেটের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত?

জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ে সাধারণ নাগরিকবৃন্দের ভাবনা
জাতীয় বাজেটের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত?
জনমত জরিপের প্রতিবেদন সংক্ষেপ

ভূমিকা: পটভূমি, উদ্দেশ্য, সময়কাল, জরিপ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সংক্ষেপ

বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে দারিদ্র হ্রাস ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তথা জাতীয় বাজেটের মতো বার্ষিক কর্মসূচির কোন বিকল্প নেই। শুধু সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্তিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম প্রভাবক জাতীয় বাজেট। ‘নব্বইয়ের দশক পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তোরণের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হওয়ায় বাজেটকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে’। [১] এর ধারাবাহিকতায় এখন প্রাকবাজেট আলোচনা ও বাজেট উত্তর প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাজেট বিষয়ে সাধারণ মানুে ষ র ভ াবনাগুে ল াকে সন্নিবেশিত করার অভিপ্রায় থেকে এই জনমত জরীপিিট দেশের ২৩
জেল ার সদ র ও ইউনিয়নসমূহে ২০১২ সাে ল র শেষদিকে শু রু করে ২০১৩ সাে ল র প্রথম প্রান্ত্রিকে পরিচাি ল ত হয়। জেল াগুে ল া হে লা ঢাকা, গাজীপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বগু ড়া, সিে ল ট, সুনামগঞ্জ, খু ল না, বাগেরহাট, যশোর, নড়াই ল , কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, বরিশা ল , পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখা ল ী, কুমি ল −া, ক ক্স বাজার, বান্দারবান। জরীপটি ৯৫% কনফিডেন্স
ে ল ে ভ ে ল ৪% ত্র “টি বিবেচনায় বহুস্তর দৈবচয়নের ি ভত্তিতে বিি ভ ন্ন অর্থনৈতিক শ্রেণী-পেশা-পান্তিকতা-ি ল ংগ-বয়সসীমার নমুনা দে ল র মধ্য থেকে ১১৫১ মানুে ষর মধ্যে পরিচাি ল ত হয়। মূ ল ত ৩টি উে দ্দ শ্যকে মাথায় নিয়ে জরীপটি করা হয় – ক) বর্তমান বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক স¤ র্কে সাধারণ নাগরিকদের ভাবনা অনুধাবন করা, খ) কেন্দ্রী ভ ূত বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফলাফল চিহ্নিত করা, গ) জনমূখী বাজেট তৈরিতে নাগরিক প্রস্তাব সন্নিবেশিত করা।

বাজেট প্রক্রিয়া কতটা জনমুখী?

‘সারা বিশ্ব জুড়ে জাতীয় বাজেটগুে ল ার বড়সড় দুটো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, তাদের

গণতান্ত্রিক চেহারা থাকা সত্ত্বে ও

জাতীয়

বাজেটগুে ল া

আসে ল গু টিকয়েক ে ল াকেরই

কাজ। আয় ও

ব্যয়ের ভ ারসাম্য এবং একটি

কঠোর সময়সূচির মধ্যে অনুমোদনের

বাধ্যবাধকতা বিপু লসংখ্যক স্বার্থসংশি−ষ্ট মহ ল কে বাজেট প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফে ল অংশগ্রহ ণ থেকে সরিয়ে রাখে। যেখানে জনগণ
একটি মুখোমুখি সিদ্ধান্তগহ্র ণ প্রক্রিয়ায় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেখানে একটি জাতীয় বাজেট হচ্ছে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ
বিপরীত’২ । জরীপের মতামত বিশে−ষ ণ করে ল বাজেট পণ্র য়নের সামগ্রিক ্রক্রিয়ার উপরে সাধারণ মানুষে র আস্থাহীণতার বিষয়টি
উঠে আসে। প্রতি চার জনের প্রায় তিন জনই মনে করেন, বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়া সাধারণ মানুে ষর এবং দ রি দ্র মানুে ষর পক্ষে কাজ করে না যা কোনভাবেই একটি উন্নয়নমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বাস্তব চি ত্র হিসেবে আকাঙ্খিত নয়। ৪৮% মানুষ মনে করেন বাজেটে

জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফ ল ন হয় না ।

৪৩% মনে করেন কিছু ক্ষেে ত্র জনপ্রত্যাশার

প্রতিফ ল ন কিছুটা হয় বটে।

এক্ষেে ত্র

অর্ধেকের ও বেশি মানুষ (৫১%) বাজেট সম্পর্কে তথ্য সু ল ভ না হ ও য়া, অজ্ঞানতা ও অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। বাজেট ব ক্ত তাৃ
শুনেছেন বা এ সম্পর্কে ভ া ল মতো জানেন মা ত্র ৮% মানুষ । উে ল −খ্য রাষ্ট্রায়ত্ত টিি ভ , বেসরকারি টিি ভ চ্যানে ল , সংবাদপ ত্র , বেতার, ইন্টারনেট এক্ষেে ত্র তথ্যের মূ ল উৎস। তবে ৩৮% উত্তরদাতাই বে ল ছেন বাজেট তথ্য উপাত্ত যথেষ্ট কঠিন, তারা এর অধিকাংশ শব্দ ও পরি ভ াষা বুঝতে অক্ষম।
জনগণ মনে করে বাজেট জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব না হ ও য়ার ারণ হে ল া ব্যাপক দূর্নীতি, সরকারের দায়বদ্ধহীণতা, জনপ্রতিনিধিদের

জবাবদিহিতার সংস্কৃি তর অভাব ও জনগণের

প্রতি অবহেল া, স্থানীয় সরকারে র অক্ষমতা, বাজেটে জনপ্রতিনিধিদের কোন ভ ূমি

া না

থাকা, জনগণের সচেতনতার অভাব এবং আইনী বাধা। জনগণের কাছে জা ীয় বাজেটের প্রতিক্রিয়া হে ল া জিনিস পে ত্র র দাম বৃি দ্ধ
পা ও য়া (৭৪%) এবং অত্যাবশ্যকীয় ও বিশে ষ কিছু পণ্যের মজুদদারী বৃদ্ধি পা ও য়া (১৪%)।

১ এ. আর. আমান, জাতীয় বাজেটের গণতন্ত্রায়ন: আঞ্চি ল ক বৈষম্য এবং দারিদ্র হ্রাসে বাজে
ঢাকা, ২০১০ ।

বিকেন্দ্রীকরণ ও কিছু প¯্র

—াবনা, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দো ল ন,

২ আকবর আি ল খান, বাং ল াদেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় গণমানুষের অংশিদারীত্ব: কতিপয় নীতিমা ল া সংস্কারের অ ন্বেষা, সমুন্নয়, ঢাকা, ২০০৮ ।

সারণী ১: বাজেট কতটুকু জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব?
উত্তর উত্তরদাতা শতকরা
০) মন্তব্য নেই ৪৪ ৪%
১) জানি না ৫৭ ৫%
২) জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব নয় ৮৫৫ ৭৪%
৩) জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব ১৪৩ ১২%
৪) যথেষ্ট জনমুখী ও দরিদ্রবান্ধব ৪৫ ৪%
৫) অন্যান্য ৭ ১%
মোট ১১৫১ ১০০%

বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ
জরিপের ফল াফ ল নির্দেশ করছে যে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসংশি−ষ্টতা হতাশাজনক; ৭৯% নাগরিক যেখানে বাজেট তৈরীর পদ্ধতি সম্পর্কে জানেনই না সেখানে বাজেটে তাদের মতামতের প্রতিফ ল ন ঘটানো প্রায় অসম্ভব । জরীপ মতে ২৬% মানুষ মনে করেন বাজেট তৈরীতে তাদের মতামত দে ও য়ার সুযোগ নেই, অন্যি দকে ২৭% মনে করেন যেটুকু সুযোগ আছে তা যথেষ্ট নয় । তৃণমূ ল পর্যায় থেকে বাজেট তৈরি হে ল মানুে ষর এই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতো যা সমস্যা সমাধানে নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বাস্তবতা তৈরী করতে পারে ।
ব ল াবাহু ল ্য, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর অধিকাংশ মানুষ ই কোন দ্বিমত পোষণ করেননি । দুই- তৃতীয়াংশের বেশী উত্তরদাতাই বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত প্রদানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। উত্তরদাতাদের প্রতি দশজনের মধ্যে নয় জনই বর্তমান প্রক্রিয়ায় তৈরী হ ও য়া বাজেটকে অগণতান্ত্রিক বে ল মনে করেন। তারা মনে করেন জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে, সংসদের সংসদসদস্যদের কার্যকরী অংশগ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে বাজেট তৈরিতে জনগণের বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে ।

বাজেট ও জাতীয় সংসদদের ভ ূমিকা
একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থ ল হিসেবে জাতীয় সংসদকেই ধরে নেয়া হয় । আমাদের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত মিি ল য়ে সকল সংসদসদস্যবৃন্দ গড়ে মা ত্র ২২ দিন প্রতি বছর বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে আে ল াচনা করতে পারেন । সেক্ষেে ত্র ও কার্যপ্রণা ল ীবিধির কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কার্যকর অংশগ্রহ ল অনেকটাই সীমিত । ৪৩% উত্তরদাতা মনে করেন জাতীয় সংসদে ‘সাধারণ মানুে ষর বাজেট’ বিষয়ে আে ল াচনার সুযোগ নেই এবং ৫৮% নাগরিকের মতে বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়ায় দেশের স্থানীয় সমস্যা ও দারিদ্র মোকাবি লা করা সম্ভব নয় ।

বর্তমান বাস্তবতা ও স্থানীয় সরকার প্রণীত বাজেট
বাজেটের সিদ্ধান্তসমূহ স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রে উঠে না এসে কেন্দ্রে গৃহীত হয়ে স্থানীয় পর্যায়কে প্র ভাবিত করে । এই অতি
কেন্দ্রী ভ ূত বাজেট প্রক্রিয়ায় জে ল া-উপজে ল া পর্যায়ে এবং স্থানীয় ভ াবে বিশেষ সমস্যা সমাধান করা যে সম্ভব নয় সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ সম্যক অবগত – এই জনমত বিশে−ষণে তা সুস্পষ্ট উঠে এসেছে। প্রতি দশ জনের প্রায় ছয় জনই বর্তমান বাজেট প্রক্রিয়ায়
স্থানীয় ও আঞ্চি ল ক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বে ল ই মত পোষণ করেন । যে প্রক্রিয়ায় বাজেট পেশ করা হয় তাতে বিশেষ বিশেষ স্থানীয় সমস্যা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশে ষ প্রয়োজনের প্রতি যথেষ্ঠ গু রুত্ব দেয়া হয় না – এমনটাই তারা ব ল ছেন। আর
স্বা ভ াবিক ভ াবেই স্থানীয় পর্যায়ে তৈরী বাজেট এসক ল স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম বে ল মনে করেন ৭৪% নাগরিক।

বাজেটের সুফ ল ও জনগণের অগ্রাধিকার খাত
জনমত এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুে ল এনেছে যে জনগণ শু ধুমা ত্র বাজেট তৈরীর বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়েই অসন্তষ্ট নন তারা বাজেট ভ ু ক্ত কর্মসূচির ফল াফ ল কে ও তাদের আকাঙ্খার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঠিক বে ল মনে করেন না। জনগণের আরো নিবিঢ় অংশগ্রহণ ব্যতীত বাজেটের মতো একটি অত্যন্ত জন গু রুত্ব¡পূর্ণ বিষয়ে মানুে ষর এই আস্থাহীণতা দূর করা সম্ভব নয় । ৭৬% উত্তরদাতা বিদ্যমান বাজেট প্রক্রিয়ার কোন সামগ্রিক বা সমন্বিত সুফ ল ে ভ াগ করেন না বে ল মতামত ব্য ক্ত করেছেন। বাকি ২৪% উত্তরদাতাদের সবাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সরকারি বাজে টের অন্যতম সুফ ল বে ল মন্তব্য করেছেন । এই ৩৭২ সুফ ল ে ভ াগী উত্তরদাতার মধ্যে ২৪% উত্তরদাতা নাগরিক সুবিধাবৃদ্ধি, ১৭% উত্তরদাতা স্কু ল , কে ল জ, হাসপাতা ল , বাজার, মার্কেট ইত্যাদির উন্নয়ন, ১৬% উত্তরদাতা নতুন শি ল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ১১% উত্তরদ াতা কৃষি ভ র্তুকি, ১০% উত্তরদাতা স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, ৬%

উত্তরদাতা বেতন- ভ াতা বৃদ্ধির কথা উে ল −খ করেছেন । মজার তথ্য হে ল া খুব অল্প সংখ্যক হে ল ও ৫৪ জন উত্তরদাতা দ্রব্যমূে ল ্যর দাম হ্রাসকে বাজেটের সুফ ল হিসেবে উে ল −খ করেছেন ।
সারণী ২: বাজেটের সুফে ল চি ত্র
উত্তর কোড উত্তরদাতা শতকরা
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয় (রাস্তা, ব্রীজ, কা ল ভর্ াট ইত্যাদি) ৬ ৩৭২ ১০০%
নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়/জীবনযা ত্র ার মান বৃদ্ধি পায় ৮ ৮৮ ২৪%
এল াকার অবকাঠামো উন্নয়ন হয় (স্কু ল , কে ল জ, হাসপাতা ল ,
বাজার, মার্কেট ইত্যাদি) ১ ৬২ ১৭%
নতুন শি ল্প -কারখানা স্থাপিত হয়/ কর্মসংস্থান বাড়ে ১০ ৬০ ১৬%
কৃষিক্ষেে ত্র ভ র্তুকি পাই/ কৃি ষ উপকরণ ন্যায্য মূে ল ্য পাই ৭ ৪২ ১১%
স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ে ৯ ৩৬ ১০%
বেতন, ভাতা পাই/বৃদ্ধি পায় ৩ ২৪ ৬%
নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়, আইন-শৃঙ্খ ল ার উন্নতি হয় ৪ ১২ ৩%
পল −ী উন্নয়ন বৃদ্ধি পায় ১১ ১১ ৩%
সরাসরি কোন সুফ ল পাই না, পরোক্ষ ভ াবে পাই ৫ ৫০ ১৩%
দ্রব্যমূে ল ্যর দাম কমে ২ ৫৪ ১৫%
অন্যান্য ২০ ২৪০ ৬৫%
* প্রতি উত্তরদাতার বিপরীতে একাধিক উত্তর । মোট হ্যাঁ উত্তরদাতা ৩৭২

বাজেটের অগ্রাধিকার হিসেবে অসংখ্য বিষয়কে সাধারণ করদাতারা চিহ্নিত করেছেন । জরীেেপ দেখা গেছে এল াকার উন্নয়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর পর পরই আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃংখ ল া, কৃষি, বিদ্যূৎ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূে ল ্যর স্থিতিশী ল তা, কর্মসংস্থান, বি শুদ্ধ পানি, পরিবহন,, নারীর সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা, পরিবেশ, দূর্নীতি, পয়: নিষ্কাষন,

সারনী ৩: জন অগ্রাধিকারসমূহ
জন অগ্রাধিকারসমূহ কোড উত্তরদাতা শতকরা
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন (রাস্তা, ব্রীজ, কা ল ভর্ াট ইত্যাদি) ৮ ৭০৭ ১০০%
শিক্ষার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ (স্কু ল , কে ল জ, বিশ্ববিদ্যা ল য়) ৩ ৫৯১ ৮৩.৬%
স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন (পর্যাপ্ত ডা ক্ত ার, সরঞ্জাম) ১৬ ৪৭১ ৬৬.৬%
আইন শৃঙ্খ ল ার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ১১ ৪৪৫ ৬২.৯%
কৃষি উপকরণে ভ র্তুকি ও কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূে ল ্য ৭ ৩৪৪ ৪৮.৭%
নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ ও দাম কমানো ৪ ৩১৫ ৪৪.৬%
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা করা ৫ ২৭৮ ৩৯.৩%
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপে ত্র র দাম কমানো ও বাজার নিয়ন্ত্রন ১৮ ২৪৪ ৩৪.৫%
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃি ষ্ট ১৫ ২০৫ ২৯%
বি শুদ্ধ পানি সরবারহ ৬ ১৭১ ২৪.২%
নারীর সামাজিক মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা, নারী শিক্ষা ৪২ ১৪৫ ২০.৫%
যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা (পর্যাপ্ত বাস, ট্রেন, ল ঞ্চ ইত্যাদি) ২৫ ১৩৩ ১৮.৮%
জ্বা ল ানি তে ল ও গ্যাসের দাম কমানো, সরবারহসহ নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি ১৪ ১০৩ ১৪.৬%
পরিবেশ র ক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা, দুষ ণ রোধ ও পরিকি ল্প ত নগরী ৯ ৭৮ ১১%
দনূ ীর্তি রোধ ২১ ৭৬ ১০.৭%
পয়ঃনিষ্কাশন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা দুরীকরণ ২৮ ৭৩ ১০.৩%
স্যানিটেশন ৩০ ৫৫ ৭.৮%
নতুন শি ল্প কারখানা স্থাপন ও বন্ধ কারখানা চা ল ু ১০ ৫৯ ৮.৩%

খাদ্য নিরাপত্তা ২৯ ৫৫ ৭.৮%
চাকুরী সরকারিকরন, বেতন- ভ াতা বৃি দ্ধ ১৭ ৪৮ ৬.৮%
দারিদ্র হ্রাস ১২ ৪৬ ৬.৫%
পল −ী ও সামাজিক উন্নয়ন ২৬ ৪১ ৫.৮%
কুটির,ক্ষুদ্র্র ও মাঝারি শিে ল্প র জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ১ ৩৫ ৫%
যানযট নিরসন ২৭ ৩২ ৪.৫%
দরিদ্র, নারী ও বয়স্ক ভ াতা বৃি দ্ধসহ অন্যান্য সুবিধা ২৪ ২৮ ৪%
তথ্য ও প্রযুি ক্ত গত উন্নয়ন ৩২ ২৫ ৩.৫%
হাসপাতা ল স্থাপন ২০ ২৪ ৩.৪%
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ২২ ২১ ৩%
ক্রীড়া ও সাংস্কৃি তক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা বৃি দ্ধ ১৩ ১৭ ২.৪%
কারিগরী শিক্ষার মান উন্নতকরণ ও পর্যা প্ত অবকাঠামো এবং সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি ৩৩ ১৭ ২.৪%
স্থানীয় সরকার শি ক্ত শা লীকরন ও মান উন্নয়ন ৩৪ ১১ ১.৬%
সহজ শর্তে ও সুদ মু ক্ত ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা চা ল ু করা ২ ৪ ০.৬%
বা ল ্য বিবাহ বন্ধ, শি শু দের শি ক্ষ া ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ৩১ ৩ ০.৪%
* প্রতি উত্তরদাতার বিপরীতে একাধিক উত্তর । মোট উত্তরদাতা ১১৫১

জরীপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমা ল া
ক্স বাজেটের কাঠামোর পরিবর্তন করে, ভ াষা/পরি ভ াষা সহজ করে, সহজ ভ াবে উপস্থাপন করা।
ক্স জন অগ্রাধিকারসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। বাজেটে সাধারণ মানুে ষর প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রতিফ ল ন ঘটানো।
ক্স বাজেটে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
ক্স বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দের সাথে আে ল াচনা করা। সংসদসদস্যদের বাজেট বিষয়ে অধিকতর ভ ূমিকা রাখা ।

শেষ কথা
গত চার দশকে শি ক্ত শা ল ী স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষ ণা, আে ল াচনা ও আন্দো ল নের মূ ল প্রতিপাদ্য ছি ল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণ । এক্ষেে ত্র প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিক ল্প নার বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি তেমন ভ াবে উঠে আসেনি কোন নীতি আে ল াচনায়। অথচ জাতীয় পরিকল্প না ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গু রুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের ি ভ ত্তিতে এর জন্য উন্নয়ন পরিক ল্প না ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ প্রয়োজন । কেননা আম ল ানি ভর্ র ও অতিকেন্দ্রী ভ ূত জাতীয় পরিক ল্প না ও বাজেট প্রক্রিয়ায় সাংসদদের কার্যকরি অংশগ্রহণের সুযোগই যেখানে সীমিত সেখানে সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন নিশ্চিত করা অনেক জঠি ল ও কঠিন বিষয়। বাজেট প্রক্রিয়ার ও কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ ছাড়া তাই কার্যকর জনঅংশগ্রহণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাজেটসহ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন জণগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্রিয়াকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত, যার ফে ল দূর্নীতি আজ দারিদ্র দূরীকরণে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । এ অবস্থা থেকে মুি ক্ত পেতে হে ল বাজেটকে গণতান্ত্রিক করার আন্দো ল ন সৃষ্টি করতে হবে যেখানে স্থানীয় নাগরিক কমিটি, উন্নয়ন সংগঠন, তৃণমূ ল সংগঠন, সংবাদমাধ্যম/ গোষ্ঠী ও সমাজের অন্যান্য অগ্রসর চিন্তাধারার মানুষেরা দেশের সক ল মান ুে ষর ন্যায্য উন্নয়ন পরিক ল্প নার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাছে ও কা ল তি করতে কাজ করবেন । এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং সে ল ক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ল ড়াই চাি ল য়ে যেতে হবে।

জরীপ পরিচা ল না করেছেন ও প্রতিবেদন ি ল খেছেন: এ. আর. আমান, সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দো ল ন নি:স্বত্ত: গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দো ল ন, ২০১৩

Opinion Poll Brief-May 30„