জাতীয় বাজেট অধিকতর গণমূখী ও দরিদ্রবান্ধব করতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বরাবর গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের প্রস্তাবনা ২০১২

প্রক্রিয়াগত সংষ্কার প্রস্তাবনা
১. জাতীয় বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ করে জেলা পর্যায়ে বাজেট তৈরির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে ২০১১-১২ বাজেটে জেলাভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের জন্য রূপরেখা ঘোষণা করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন জেলা পরিষদকে আরো শক্তিশালী করা এবং এই স্তরে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ।
২. উন্নয়ন অগ্রাধিকার চিহ্নিত করার জন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরীর কাজ শুরু করা দরকার। বিশেষতঃ অনুন্নত অঞ্চলের প্রতি বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য দুর করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। সেইসাথে বাজেট ডকুমেন্টকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করা দরকার।
৩. জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময়সীমা আরো বাড়ানো উচিত। সংসদ সদস্যগণ যাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে পক্ষে কিংবা বিপক্ষে মতামত দিতে পারেন সেজন্য ‘কার্যপ্রণালী বিধি’তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
৪. বাজেটে জনমতামতের কার্যকরী প্রতিফলন ঘটাতে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
৫. পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় প্রকল্প প্রণয়নের পূর্বে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও রেগুলেটরী ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

খাতভিত্তিক প্রস্তাবনা
৬. দারিদ্র বিমোচনে ও দরিদ্র মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে খাদ্য নিরাপত্তা আইন ও কর্মসংস্থান আইন করা প্রয়োজন। এজন্য বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ থাকা দরকার। নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, উপকূল-চর-হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ কর্মসূচী থাকা দরকার।
৭. কৃষিভর্তুকি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। কৃষকদের কাছে মানসম্পন্ন বীজ ও সার সরবরাহ এবং বিষমুক্ত কৃষি শস্য উৎপাদনকে উৎসাহ প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। নারী কৃষককে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করে নারীকৃষককে সমান অধিকার দেয়া প্রয়োজন।
৮. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ এর আলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি জেন্ডার বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের মূল্যায়ন হওয়া জরুরী।
৯. অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান উন্নতির জন্য কর্মকৌশল অত্যন্ত জরুরী এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসেবা প্রদান করতে উৎসাহিত করার জন্য সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।
১০. শ্রমিক সমাজের দারিদ্র বিমোচন করতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরীর জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকা দরকার। নারী পুরুষের মজুরী বৈষম্য নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সেইসাথে শিল্পশ্রমিক (বিশেষত গার্মেন্টস শ্রমিক)-দের জন্য পরিবহন ও আবাসন সুবিধা তৈরি করতে তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
১১. জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য শ্রমঘন শিল্পে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা দরকার। বন্ধকৃত সকল রাষ্ট্রীয় কলকারখানা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় অবিলম্বে চালু করা উচিত।