৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চায় বাংলাদেশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরও ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চায় বাংলাদেশ। আগামী অর্থবছরের বাজেট লক্ষ্য করে এ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এডিবির ঢাকা অফিসের সঙ্গে। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট শিজিন চ্যানের ঢাকা সফরে বাজেট সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পাঁচ দিনের সফরে আগামী ৯ মে ঢাকায় আসছেন এডিবির এই দ্বিতীয় প্রধান নীতিনির্ধারক।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এডিবি উইং সূত্রে জানা গেছে, বাজেট সহায়তার বিষয়ে এরই মধ্যে এডিবির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সংস্থার ঢাকা অফিসের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এখন শুধু এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সফরের অপেক্ষায় আছেন তারা।

সফরের দ্বিতীয় দিন ৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন শিজিন চ্যান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গেও একই দিনে বৈঠক করবেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে অর্থমন্ত্রী মানবপুঁজি উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ঋণ সহায়তার পদ্ধতি আরও সহজ করার অনুরোধ জানাবেন। অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা চাইবেন তিনি। এ ছাড়া কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা বিশেষ করে জলবায়ুসহিষ্ণু ফসল উন্নয়ন, কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সহযোগিতা চাইবেন মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রগতি তুলে ধরবেন।

জিডিপি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধির তথ্যও তুলে ধরবেন তিনি। করোনার মধ্যে সারাবিশ্ব যেখানে নাকাল, সেখানে বাংলাদেশ কীভাবে সংকট মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দ্রুত ফিরেছে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী ৯ মে সন্ধ্যায় ঢাকায় উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরদিন কক্সবাজারে এডিবির অর্থায়নে সাসেক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন শিজিন চ্যান। ১২ মে ব্যবসায়ী নেতাদের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। ১৩ মে পুরান ঢাকা পরিদর্শন করবেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ওই দিনই কার্যস্থল ম্যানিলার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

করোনার প্রকোপ শুরুর পর এ পর্যন্ত এডিবির কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়া গেছে। চলতি অর্থবছরেও এ বাবদ ৫০ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। ২৫ কোটি ডলার করে দুই দফায় এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম কিস্তি ছাড় করা হয়েছে আগেই। জুনের আগেই শেষ কিস্তি ছাড় করার কথা রয়েছে।

এডিবির কান্ট্রি প্রোগ্রাম স্ট্র্যাটেজির (সিপিএস ২০২১-২০২৫) অধীনে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ ১২ বিলিয়ন ডলারের অর্থসহায়তা পেতে পারে। এ অর্থপ্রাপ্তির বিষয়ে আশাবাদ থেকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগীদের মধ্যে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী এডিবির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এডিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এডিবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ সহায়তা পায় বাংলাদেশ। এ অঞ্চলের মধ্যে ভারত এডিবির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ পেয়ে থাকে। বাজেট সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে এডিবি। চলতি অর্থবছর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এক হাজার ৭৭ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এডিবির প্রতিশ্রুতিই প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ২৪৬ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অর্থ ছাড়েও এডিবি শীর্ষে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ১৯১ কোটি ডলার অর্থ ছাড় করেছে এডিবি। এ সময় পর্যন্ত মোট অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৬৭০ কোটি ডলারের। বর্তমানে ৫৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবির ঋণ সহায়তা রয়েছে। পোর্টফোলিও দাঁড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।