গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন

উদ্দেশ্য

  • জাতীয় বাজেটের গণতন্ত্রায়নের জন্য দেশব্যাপী নাগরিক আন্দোলন সৃষ্টি করা;
  • জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি-কাঠামো বিশ্লেষণ ও নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা;
  • সরকার, সংসদ, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে আলোচনা ও অধি-পরামর্শ করা।

গণতান্ত্রিক বাজেটের মূল কথা

  • জাতীয় বাজেট প্রণয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কৌশল হিসেবে জেলাভিত্তিক বাজেট (প্রাথমিক পর্যায়ে) এবং পর্যায়ক্রমে আইন নির্ধারিত অন্যান্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাজেট প্রণয়ন করা; সেক্টরভিত্তিক পদ্ধতি বা বাজেট বরাদ্দ পরিহার করা, জেলা বা আঞ্চলিক বাজেট কাঠামোতে সেক্টরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ রাখা; বাজেট প্রμিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য কার্যকরী ইলেক্ট্রনিক
  • সরকার ব্যবস্থা চালু করা;

  • জাতীয় বাজেট ও আঞ্চলিক বাজেটের খাত/বিভাগসমূহ আলাদা করা; আঞ্চলিক পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের জন্য সম্ভাব্য খাতসমূহ নির্দিষ্ট করা, যেমন-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী, শিশু, কৃষি স¤প্রসারণ, শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি;

  • জাতীয় বাজেট ও আঞ্চলিক বাজেটের পরিপূরক খাতগুলো চিহ্নিত করা; আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার ভিত্তিতে সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা; বাজেটে অধিকারভোগী বা উপকারভোগীর মতামতের প্রতিফলন ঘটানো;

  • আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈষম্য বিবেচনা করা; কর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ করা; সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অধিকতর দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া;

  • সংসদসদস্যদের কার্যকরী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; জাতীয় সংসদে জেলা/অঞ্চল ভিত্তিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা;

  • প্রতিবেশ-পরিবেশ বিবেচনায় বাজেটকে বিবেচনা করা ও অন্যান্য মাপকাঠি নির্দিষ্ট করা; আঞ্চলিক বাজেটের জন্য শুধু লজিস্টিকস্ নয়, সেবার মান উন্নত করার জন্য কর্মসূচি নেওয়া। ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী জনবলকে অন্যতম বিবেচনা হিসেবে নেওয়া।

গণতান্ত্রিক বাজেট কি

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ‘জাতীয় বাজেট’ একটি অত্যাবশ্যকীয় নীতি নির্ধারণী বিষয় যেখানে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনমানুষের অংশগ্রহণ অতি প্রয়োজনীয়, কেননা তারা উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রকৃত অধিকারভোগী। বলার অপেক্ষা রাখেনা বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ণ প্রক্রিয়া এখনো পর্যন্ত অতিকেন্দ্রীভূত ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ভর যেখানে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন ও প্রাধান্য সীমিত। আনুষ্ঠানিকভাবে যদিও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু চাহিদা উপস্থাপন করা যায়, কিন্তু বাজেট প্রণয়নের মূল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জাতীয় পর্যায়ের কিছু বাজেট প্রণেতার হাতে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন চাহিদা স্বতন্ত্র কেননা তারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক-সাং¯কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং তাদের উন্নয়ন চাহিদাও স্বতন্ত্র। অথচ ‘ওয়ান সাইজ ফিটস্ অল’ নীতির কারণে জাতীয় বাজেটে ভিন্ন ভিন্ন এলাকার ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রকৃত প্রয়োজন ও চাহিদা প্রতিফলিত হয় না।

গত চার দশকের গবেষণা, অধ্যয়ণ, জনমত গঠন ও নাগরিক সমাজের অন্যতম প্রধান আলোচ্যবিষয় হলো প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ। সংবিধানের ধারা ১১, ৫৯ এবং ৬০-এ এটা স্পষ্ট যে, উন্নয়ন পরিকল্পনায় ‘বিকেন্দ্রীকরণের’ কোন বিকল্প নেই যা জনঅংশগ্রহণের জন্য একটা পথ রচনা করে; কিন্তু উদ্বিগ্নের কারণ হলো ‘বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ’ বিষয়টি এখনো নীতি-আলোচনার বাইরে থেকে গেছে এবং বাজেট প্রণয়নে বিভিন্ন স্তরে সরাসরি জনঅংশগ্রহণ এখনো অদেখাই থেকে গেছে। এটা অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেমন- সংসদসদস্যরাও জাতীয় বাজেট প্রণয়ণে তাদের মতামত সরকারিভাবে দিতে পারেন না।  বাজেটে মেহনতি মানুষের জন্য বর্তমানে যে সম্পদ  ও অর্থ বরাদ্দ থাকে তা তাদের সামগ্রিক প্রয়োজন খুব কমই পূরণ করতে পারে। যতটুকু বরাদ্দ থাকে তার বাস্তবায়ন কেন্দ্রীভূত বাজেট প্রক্রিয়ার কারণে ঠিকমতো সম্ভব হয় না। এসবের সামগ্রিক ফলাফলের কারণে দেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।  সুতরাং দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা জরুরী এবং সেজন্য জাতীয় বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে জনমত গঠন করা একটি সময়ের দাবি। এ প্রসঙ্গে সরকারের রূপকল্প বা ভিশন ২০২১(ধারা-২), দিন বদলের সনদ এবং প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন বিষয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার। এ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে’।

কেন বাজেট আন্দোলন

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্র ও আমলানির্ভর জাতীয় বাজেটকে অধিকতর জনমূখী করে গড়ে তোলার জন্য সাধারণ নাগরিকের  প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা। আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ নাগরিক, করদাতা ও পেশাজীবিদের মধ্যে জাতীয় বাজেটের কাঠামো, প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক-অর্থনীতি সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা তৈরিতে সহায়তা করা। পাশাপাশি ‘বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ’ ধারণাটি নীতি-পরামর্শ, বিশ্লেষণ, প্রচার ও জনস¤পৃক্তকরণের মাধ্যমে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়  হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সর্বোপরি এ বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল, সংসদসদস্য, রাজনৈতিক  দল ও সংশ্লিষ্ট  দপ্তরের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাঠামো তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন গড়ে ওঠার ভিত্তি ও পর্যায়সমূহ

  • ২০০০-২০০২: পিআরএসপি বা দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রচারাভিযান পরিচালনা।
  • ২০০৩-২০০৫: জাতীয় বাজেটে খাতভিত্তিক বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের জন-সমাবেশীকরণ ও প্রচারাভিযান পরিচালনা।
  • ২০০৫-২০০৮: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক সাক্ষরতা ও সরকারের বাজেট দায়বদ্ধতা (এলব্যাগ ) শীর্ষক একটি নাগরিক শিক্ষা প্রক্রিয়ার উদ্যোগ ও প্রসার ।
  • ২০০৮: সমমনা নাগরিক, অর্থনীতিবিদ, পেশাজীবি, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণসংগঠনের সমন্বয়ে প্রথাগত বাজেট আন্দোলনের বিপরীতে জাতীয় বাজেট কাঠামো ও প্রণয়ন প্রক্রিয়ার পুনর্গঠন বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টির গুরুত্ব অনুধাবন ও গণতান্ত্রিক বাজেট এর  ধারণা নির্মাণ।
  • ২০০৯:  আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু, আহবায়ক কমিটি গঠন এবং ৭টি বিভাগ ও পার্বত্য অঞ্চল সহ মোট ৮টি অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সম্মিলন অনুষ্ঠান।
  • ২০১০: জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাশ, দেশব্যাপী প্রচারণা, কর্মশালা ও দ্বিতীয় জাতীয় সম্মিলন অনুষ্ঠান।
  • ২০১১: ২৭টি জেলায় কর্মসূচির প্রসার এবং ২২টি জেলাতে কমিটি তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি। ব্যাপক পরিসরে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও প্রচারণা কর্মসূচি পালন। সংসদসদস্যদের সাথে ধারণার ঐক্য নির্মাণ।
  • ২০১২: দেশব্যাপী প্রচারণা, কর্মশালা ও ২২টি জেলা কমিটির অংশগ্রহণে তৃতীয় জাতীয় সম্মিলন অনুষ্ঠান, জাতীয় পরিষদ গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন. সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন, সভাপতির মনোনয়ন, সংসদীয় ককাস গঠন প্রক্রিয়ায় কৌশলগত সহায়তা প্রদান।
  • ২০১৩: স্টিয়ারিং কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতি নির্বাচন, সাংগাঠনিক কাঠামো সুসংহতকরণ, নতুন প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ।

গণতান্ত্রিক বাজেটের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে

  • জাতীয় বাজেটে জনমতের প্রতিফলন পেতে হলে প্রথমেই দরকার একটি গণতান্ত্রিক বাজেট প্রক্রিয়া যার প্রণয়ণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন হতে হবে বিকেন্দ্রিক। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামোর কোন স্তর থেকে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও জনপর্যালোচনার দাবী রাখে। যেহেতু বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো জেলা পর্যায় থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরির জন্য রূপরেখা প্রণয়ন করা যেতে পারে। প্রসঙ্গতঃ স্বাধীনতা পরবর্তি জেলা বাজেট টাস্কফোর্স এর সুপারিশ এক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা দরকার।
  • সার্বিকভাবে গণতান্ত্রিক বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,
    • জাতীয় বাজেট প্রণয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,
    • কৌশল হিসেবে জেলা ভিত্তিক বাজেট (প্রাথমিক পর্যায়ে) এবং পর্যায়ক্রমে আইন নির্ধারিত অন্যান্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাজেট প্রণয়ন করা,
    • প্রচলিত খাতভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ পরিহার করা, বরং জেলা বা আঞ্চলিক বাজেট কাঠামোতে সেক্টরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ রাখা যার সামষ্টিক খাত ভিত্তিক চিত্র জাতীয় বাজেটে তুলে ধরা যেতে পারে,
    • জাতীয় বাজেটের আয়াত্বাধীন খাত ও আঞ্চলিক বাজেটের আয়াত্বাধীন খাতগুলো আলাদা করা, সম্পূরক খাতগুলো এক্ষেত্রে চিহ্ণিত করা।
  • স্থানীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের জন্য সম্ভাব্য খাতসমূহ তথা অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নখাত নির্দিষ্ট করা, যেমন – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি স¤প্রসারণ, শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
  • খাত নির্দিষ্ট করার পর বিকেন্দ্রিকৃত খাতে  জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ  করা (বিশেষতঃ মৌলিক সেবাখাত – স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জন খাদ্যবন্টন ব্যবস্থা, পানি ইত্যাদি)।
  • আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার ভিত্তিতে সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
  • কর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জেলা/ উপজেলা/ ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ করা।
  • সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অধিকতর দারিদ্র প্রবণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়া।
  • আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈষম্য বিবেচনা করা।
  • সংসদসদস্যদের কার্যকরী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • জাতীয় সংসদে জেলা ও অন্যান্য অঞ্চল ভিত্তিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা।
  • প্রতিবেশ পরিবেশ বিবেচনায় বাজেটকে বিবেচনা করা ও অন্যান্য  সূচক নির্দিষ্ট করা।
  • আঞ্চলিক বাজেটের জন্য শুধু লজিস্টিকস্ নয়, ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী জনবলকে অন্যতম বিবেচনা হিসেবে নেওয়া।
  • বাজেটে উপকারভোগী/ ভোক্তার মতামতের প্রতিফলন করা।
  • সেবার মান উন্নত করার জন্য কর্মসূচি নেয়া।
  • বাজেট প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য কার্যকরী ই-গভার্নেন্স চালু করা।

আমাদের কর্মসূচি

  • বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজপাঠ্য প্রকাশনা প্রকাশ, গণমাধ্যমকে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রচারণা কর্মসূচি চালানো।
  • বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে তৃণমূলের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে জনমত জরীপ এবং এ বিষয়ে জনমত সংগঠিত করতে জনসমাবেশীকরণ।
  • জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বাজেটকর্মীদের জন্য বাজেট স্বাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন।
  • গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে বাজেটে অংশগ্রহণের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে ইউনিয়ন পরিষদকে ওয়ার্ড সভা আয়োজনে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা।
  • উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ট্র্যাকিং এবং সামাজিক নিরীক্ষা করা।
  • প্রচলিত বাজেটের বিকল্প হিসেবে ছায়া বাজেট প্রণয়নে সহযোগিতা প্রদান করা।
  • জাতীয় বাজেটের গঠন ও প্রণয়ন বিষয়ে সরকার, দাতা সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সাথে বহুপাক্ষিক সংলাপ অনুষ্ঠান আয়োজন করা।

গণতান্ত্রিক বাজেট কি?
জাতীয় বাজেট বা জনবাজেট স্বাধীন বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুুষের আশা আকাংখার প্রতিচ্ছবি – এমনটা শুধু ভিশন বা স্বপ্ন নয়, এটা দেশের সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। প্রতিটি নাগরিক, জাতিগোষ্ঠি ও অঞ্চলের স্বতন্ত্র ও সম্মিলিত উন্নয়ন ছাড়া কোন ভাবেই জাতীয় উন্নয়ন তথা দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সুষম জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, যা হতে হবে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠি ও অঞ্চলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার নিরিখে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে সংবিধানের ১৯.১ (ক) অনুচ্ছেদে সুষম জাতীয় উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা স্মরণ রাখা দরকার।

বাংলাদেশে বর্তমানে একটি অত্যন্ত কেন্দ্রিভূত সরকার রয়েছে। একটি গ্রামে রাস্তা বানাতে হলে বা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গেলে রাজধানীতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রতিটি নিয়ন্ত্রণবিধি ঢাকা থেকে শুধু উদ্ভূত নয় তার কার্যকরী প্রয়োগও হয় কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারে যে ব্যবস্থা তাতে প্রতিটি বিষয় নানা আমলাতান্ত্রিক স্তরে বারবার বিবেচিত হয়ে, অন্ততপক্ষে প্রায় ডজনখানেক ঘাট পেরিয়ে তবে সিদ্ধান্ত গ্রহন সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থায় কোন জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়ে না এবং প্রতিটি স্তরে অন্যায় আদায়ের ( ঘুষের) বা হয়রানির সুযোগ পূর্ণোদমে ব্যবহৃত হয়।

সংবিধান মোতাবেক শক্তিশালী স্থানীয় সরকার এখন সময়ের দাবি। গত চার দশকে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষণা, আলোচনা ও আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণ। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি তেমনভাবে উঠে আসেনি কোন নীতি আলোচনায়। অথচ জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে এর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ প্রয়োজন। কেননা আমলানির্ভর ও অতিকেন্দ্রীভূত জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ায় সাংসদদের কার্যকরি অংশগ্রহণের সুযোগই যেখানে সীমিত সেখানে সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন নিশ্চিত করা অনেক জঠিল ও কঠিন বিষয়। বাজেট প্রক্রিয়ার ও কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ ছাড়া তাই কার্যকর জনঅংশগ্রহণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাজেটসহ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন জণগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্রিয়াকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত, যার ফলে দূর্নীতি আজ দারিদ্র দূরীকরণে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন কেন?
কিছুদিন আগেও ’জিনিসপত্রের দাম বাড়লো না কমলো’ এটাই ছিল বাজেট বিষয়ে সাধারণ মানুষের আলোচনার মূল বিষয়। একসময় বাজেট বিষয়ক জ্ঞান ও বিদ্যাচর্চা ছিল শুধু অর্থশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের সিলেবাসের বিষয়। শীর্ষ ব্যবসায়ী শ্রেণী ছাড়া বাজেট নিয়ে কাউকে হইচই করতে দেখা যেত না। সরকারি দলপন্থীদের গতানুগতিক অভিনন্দন বাণী আর বিরোধী দলের ঢালাও প্রত্যাখ্যানের মিছিল রাজপথ আর পত্রিকার পাতা অলংকৃত করতো। নব্বইয় দশক পরবর্তি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তোরণের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হওয়ায় বাজেটকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন প্রাকবাজেট আলোচনা ও বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। নারীর বাজেট, কৃষকের বাজেট, প্রতিবন্ধীর বাজেট ইত্যাদি নির্দিষ্ট খাত ভিত্তিক বাজেট প্রস্তাবনা করা হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে, মূলতঃ ক্ষেত্র ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এসব আলোচনার মূল সুর। বাজেট কেন্দ্রিক এই সকল প্রস্তাবনা ও আলোচনার সবই কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে করা হয়ে থাকে, অথচ এ সকল আলোচনা-প্রস্তাবনা সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায় কিনা তার যথাযথ সন্দেহ মনে মধ্যে রেখেই সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আর মন্ত্রী মহোদয়দের শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠি ছাড়া এতসংখ্যক শ্রেণী পেশার মানুষের দাবি শোনার অবকাশ কোথায়! সুতরাং জনআকাংখা ও দাবি সরকারের কাছে পৌঁছাতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকারিকে জনতার কাছাকাছি থাকতে হবে তথা বাজেট প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রিকরণ ও গণতান্ত্রিকরণ করতে হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক বাজেট শিরোনামে একটি নাগরিক উদ্যোগ ও তাত্ত্বিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রয়াস ।

বাজেটকে গণতান্ত্রিক করার এই আন্দোলনে স্থানীয় নাগরিক কমিটি, উন্নয়ন সংগঠন, তৃণমূল সংগঠন, সংবাদমাধ্যম/ গোষ্ঠি ও সমাজের অন্যান্য অগ্রসর চিন্তাধারার মানুষেরা দেশের সকল মানুষের ন্যায্য উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাছে ওকালতি করতে কাজ করছেন। এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

গণতান্ত্রিক বাজেটের মূল চেতনা

  • জাতীয় বাজেট প্রণয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • কৌশল হিসেবে জেলা ভিত্তিক বাজেট (প্রাথমিক পর্যায়ে) এবং পর্যায়ক্রমে আইন নির্ধারিত অন্যান্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাজেট প্রণয়ন করা।
  • সেক্টরভিত্তিক পদ্ধতি বা বাজেট বরাদ্দ পরিহার করা, বরং জেলা বা আঞ্চলিক বাজেট কাঠামোতে সেক্টরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ রাখা ।
  • জাতীয় বাজেট ও আঞ্চলিক বাজেটের খাত/বিভাগসমূহ আলাদা করা। আঞ্চলিক পর্যায়ে বিকেন্দ্রিকরণের জন্য সম্ভাব্য খাতসমূহ নির্দিষ্ট করা, যেমন – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী, শিশু, কৃষি সম্প্রসারণ, শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
  • জাতীয় বাজেট ও আঞ্চলিক বাজেটের পরিúূরক খাতগুলো এক্ষেত্রে চিহ্ণিত করা।
  • আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার ভিত্তিতে সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
  • কর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জেলা/ উপজেলা/ ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ করা।
  • সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অধিকতর দারিদ্র প্রবণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়া।
  • আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈষম্য বিবেচনা করা।
  • সাংসদদের কার্যকরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • জাতীয় সংসদে জেলা/ অঞ্চল ভিত্তিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা।
  • প্রতিবেশ পরিবেশ বিবেচনায় বাজেটকে বিবেচনা করা ও অন্যান্য ক্রাইটেরিয়া/ সূচক নির্দিষ্ট করা।
  • আঞ্চলিক বাজেটের জন্য শুধু লজিস্টিকস্ নয়, সেবার মান উন্নত করার জন্য কর্মসূচি নেয়া। ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরি জনবলকে অন্যতম বিবেচনা হিসেবে নেওয়া।
  • বাজেটে অধিকারভোগি বা উপকারভোগির মতামতের প্রতিফলন করা।
  • বাজেট প্রক্রিয়ায় জনগনকে সম্প্রক্ত করার জন্য কার্যকরি ইলেক্ট্রনিক সরকার ব্যবস্থা (ই-গভার্নেন্স) চালু করা।

জাতীয় বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ, জনঅংশগ্রহণ ও জেলা বাজেট

  • বাজেট মানে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব। বাজেট সাধারণত কোন পরিবার, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা দেশের জন্য করা হয়ে থাকে। পরিবারের আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় সাধনের জন্য পরিবারের প্রধান ব্যক্তি যেমন একটা বাজেট তৈরি করেন তেমনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের সমন্বয় সাধনের জন্য রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন করে থাকে। পার্থক্য হলো যে, পরিবারের ক্ষেত্রে আয় বুঝে খরচের একটা বাজেট করা হয় আর রাষ্ট্র ব্যয় অনুযায়ী আয়ের খাত চিহ্নিত করে।
  • বাজেটের অর্থ সংগ্রহ করা হয় ১. রাষ্ট্রের নাগরিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ করের মাধ্যমে ২. সাধারন জনগণের নামে দেশ-বিদেশ থেকে ঋণ এর মাধ্যমে। এ সবই জনগণের অর্থ। এ অর্থ ব্যয় করা হয় জনগণেরই প্রয়োজনে। অতএব কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হওয়া উচিত, তা জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা উচিত।
  • রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগণ। জনগণ যত বেশি আগ্রহ নিয়ে বাজেট বোঝার চেষ্টা করবে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করবে, বাজেটে ততই তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটার সুযোগ থাকবে। একইসাথে রাষ্ট্রীয় বাজেট জনগণের বাজেটে পরিনত হতে থাকবে। বাজেট যারা তৈরি এবং বাস্তবায়নের কাজ করেন তারা জনতার যত কাছাকাছি থাকবেন বাজেট এর সুফল তত কার্যকরীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
  • বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেট তৈরি একটি কারিগরি বিষয় এবং আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে সাধারণ শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ তো দূরে থাক, সংসদসদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কোন প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ নাই। শুধু জুন মাস আসলে সাংবিধানিক নিয়মের কারণে বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং কিছু সংখ্যক সংসদসদস্য স্থানীয় কিছু দাবিকে সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
  • গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের লক্ষ্য হলো, জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে কেন্দ্রনির্ভর আমলাতান্ত্রিক জাতীয় বাজেটের পরিবর্তে তৃণমূল মানুষের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জনমূুখী বাজেট তৈরীর জন্য সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা।
  • বাংলাদেশে বর্তমানে একটি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত সরকার রয়েছে অর্থাৎ প্রায় সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্র বা রাজধানী ঢাকা থেকে নেয়া হয়। এমনকি একটি গ্রামের কোন রাস্তা বানাতে হলে রাজধানী ঢাকা থেকে তার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ডজনখানেক ঘাট পেরিয়ে তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। উপজেলা/ থানার কর্মকর্তা জেলায় তার বড় সাহেবের কাছে প্রস্তাব রাখলে তা নানা ঘাট ঘুরে প্রস্তাব যায় ঢাকায়। সেখানেও কোন ক্ষেত্রে ৩ পর্যায়ে কখনো ৪ বা ৫ স্তরে ঘুরে সিদ্ধান্ত হয়।
  • বাংলাদেশ সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ (যেমন ৮৯ [২], ৯০ [২] ও ৭০) ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি’র একাধিক ধারার (যেমন ১১১[৩]) কারনে সংসদসদস্যগণও কার্যকরভাবে বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না কিংবা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সাধারণ নাগরিক কিংবা ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পরিষদ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণও জাতীয় বাজেট বিষয়ক কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে পারেন না। সুতরাং বাংলাদেশ সংবিধানের পরিবর্তন হওয়া দরকার।
  • বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে- স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান কর আরোপ, বাজেট প্রস্তুত, উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। একইসাথে উক্ত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে । এছাড়া সংবিধানের ১৯(১)এ পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা এবং ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।
  • এলাকার চাহিদা অনুসারে সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায় থেকে পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরীর কাজ শুরু করা দরকার। এতে করে জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
  • কৃষকদের কাছে মানসম্পন্ন বীজ ও সার সরবরাহ এবং বিষমুক্ত কৃষি শস্য উৎপাদনকে উৎসাহ প্রদান করা এবং নারী কৃষককে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য জেলা পরিষদের বলিষ্ঠ ভূমিকা দরকার।